ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
“আজতেকা থেকে কক্সবাজার: ফুটবলের উদ্বোধনী বাঁশি যেন সমুদ্রের ঢেউয়েও” ৫ মাস পর মুক্তি! ৪টি ট্রলারসহ ৯১ বাংলাদেশি কুতুবদিয়ার জেলেকে ফেরত দিলো ভারত নাফ নদীতে আরাকান আর্মির গুলি, সাঁতরে বাংলাদেশে এলেন আহত রোহিঙ্গা যুবক মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে গাজী সালাহউদ্দিন মানিককে চায় তৃণমূল শিল্পী ইফতিকে নিয়ে মানহানিকর ভূয়া সংবাদ : কমবার নিন্দা ও আইনের আওতায় আনার দাবী টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৫০ ভুক্তভোগী উদ্ধার, আটক ৯ পাচারকারী ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই সচেতন হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে ভোর রাতে সাংবাদিকের বাড়িতে ডাকাতি, বৃদ্ধ দম্পতিকে জিম্মি করে টাকা-স্বর্ণালংকার লুট রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা কারাগার তৈরীর প্রস্তাব। কক্সবাজারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি নাইক্ষ্যংছড়িতে বৃদ্ধার বোরকার ভিতরে মিলল ২০ হাজার ইয়াবা ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮ দলের স্কোয়াড দেখে নিন এক নজরে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে ৬৫ ভাগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মুক্ত রাখা হয়েছে : তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজার উপকূলে এগোচ্ছে মৌসুমীবায়ু, দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির আভাস ফুটবল রোমাঞ্চে ভরা রাত- মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও পর্তুগাল

প্রথম চালানে ভারতে গেল সাড়ে ৩৭ টন ইলিশ

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রথম চালানে ৩৭ দশমিক ৪৬ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১টার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আটটি ট্রাকে করে এসব ইলিশ পাঠানো হয়েছে বলে বেনাপোল বন্দর মৎস্য কোয়ারেন্টিন কর্মকর্তা সজীব সাহা জানান।

এসব ইলিশ ভারতে রপ্তানি করেছে সততা ফিশ, স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজ, তানিশা এন্টারপ্রাইজ, বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ ও লাকী ট্রেডিং। আর আমদানিকারক হচ্ছে ভারতের ন্যাশনাল ট্রেডিং, এফএনএস ফিশ, জয় শান্তসী, মা ইন্টারন্যাশনাল ও আরজে ইন্টারন্যাশনাল।

এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ২০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এজন্য ন্যূনতম দর প্রতি কেজি সাড়ে ১২ ডলার নির্ধারণ করে দিলেও সর্বোচ্চ সীমা ঠিক করেনি সরকার।

মোট ৩৭টি প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ টন, ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ টন করে, ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ টন করে এবং দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ টন করে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে ইলিশ রপ্তানি শেষ করতে হবে। অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি রপ্তানি করা যাবে না এবং এ অনুমতি কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়। অর্থাৎ অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিকেই রপ্তানি করতে হবে। কোনোভাবেই অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া যাবে না।

রপ্তানির অনুমোদনের চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকার মৎস্য আহরণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো রকম বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানির এ অনুমতির মেয়াদ শেষ হবে।

আবার সরকার প্রয়োজন মনে করলে রপ্তানির এ আদেশ যেকোনো সময় বন্ধও করতে পারবে বলে অনুমোদনের শর্তে বলা হয়েছে।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা যায়, পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে প্রিয় হলেও ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০১২ সালের পর রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সরকার।

তবে দুর্গোৎসবে ভারতের বাঙালিদের এই মাছের স্বাদ দিতে বিশেষ বিবেচনায় রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। যার বেশির ভাগই বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে ভারতে যায়।

এর মধ্যে গতবছর ইলিশ রপ্তানির অনুমতি ছিল ২ হাজার ৪২০ টন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৫৩২ মেট্রিক টন।

২০২৩ সালে ৭৯ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদনের অনুকূলে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৬৩১ দশমিক ২৪ টন।

২০২২ সালে ৫৯ প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিলেও রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৩০০ টন।

২০২১ সালে ১১৫ প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দেয় সরকার। তবে রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৬৯৯ টন।

করোনা মহামারীর মধ্যে ২০২০ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক হাজার ৪৫০ টন রপ্তানির অনুমতি দিলেও তার সব পাঠাতে পারেনি ব্যবসায়ীরা।

২০১৯ সালে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার।ওই বছর রপ্তানি হয়েছিল ৪৭৬ টন ইলিশ।

ইলিশ রপ্তানিকারক ও স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজের সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার পাঠানো ইলিশগুলোর ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির মধ্যে। সরকারের নির্ধারিত দামেই সেগুলো পাঠানো হয়েছে।

ইলিশ রপ্তানি সামনের দিনে দুই দেশের বাণিজ্য ও সৌহার্দ্য সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে আশা করেন এ রপ্তানিকারক।

সূত্র: বিডিনিউজ

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

“আজতেকা থেকে কক্সবাজার: ফুটবলের উদ্বোধনী বাঁশি যেন সমুদ্রের ঢেউয়েও”

প্রথম চালানে ভারতে গেল সাড়ে ৩৭ টন ইলিশ

আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রথম চালানে ৩৭ দশমিক ৪৬ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১টার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আটটি ট্রাকে করে এসব ইলিশ পাঠানো হয়েছে বলে বেনাপোল বন্দর মৎস্য কোয়ারেন্টিন কর্মকর্তা সজীব সাহা জানান।

এসব ইলিশ ভারতে রপ্তানি করেছে সততা ফিশ, স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজ, তানিশা এন্টারপ্রাইজ, বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ ও লাকী ট্রেডিং। আর আমদানিকারক হচ্ছে ভারতের ন্যাশনাল ট্রেডিং, এফএনএস ফিশ, জয় শান্তসী, মা ইন্টারন্যাশনাল ও আরজে ইন্টারন্যাশনাল।

এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ২০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এজন্য ন্যূনতম দর প্রতি কেজি সাড়ে ১২ ডলার নির্ধারণ করে দিলেও সর্বোচ্চ সীমা ঠিক করেনি সরকার।

মোট ৩৭টি প্রতিষ্ঠান এসব ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ টন, ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ টন করে, ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ টন করে এবং দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ টন করে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে ইলিশ রপ্তানি শেষ করতে হবে। অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি রপ্তানি করা যাবে না এবং এ অনুমতি কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়। অর্থাৎ অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিকেই রপ্তানি করতে হবে। কোনোভাবেই অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া যাবে না।

রপ্তানির অনুমোদনের চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকার মৎস্য আহরণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো রকম বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানির এ অনুমতির মেয়াদ শেষ হবে।

আবার সরকার প্রয়োজন মনে করলে রপ্তানির এ আদেশ যেকোনো সময় বন্ধও করতে পারবে বলে অনুমোদনের শর্তে বলা হয়েছে।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা যায়, পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে প্রিয় হলেও ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০১২ সালের পর রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সরকার।

তবে দুর্গোৎসবে ভারতের বাঙালিদের এই মাছের স্বাদ দিতে বিশেষ বিবেচনায় রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। যার বেশির ভাগই বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে ভারতে যায়।

এর মধ্যে গতবছর ইলিশ রপ্তানির অনুমতি ছিল ২ হাজার ৪২০ টন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৫৩২ মেট্রিক টন।

২০২৩ সালে ৭৯ প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদনের অনুকূলে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৬৩১ দশমিক ২৪ টন।

২০২২ সালে ৫৯ প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিলেও রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৩০০ টন।

২০২১ সালে ১১৫ প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দেয় সরকার। তবে রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৬৯৯ টন।

করোনা মহামারীর মধ্যে ২০২০ সালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক হাজার ৪৫০ টন রপ্তানির অনুমতি দিলেও তার সব পাঠাতে পারেনি ব্যবসায়ীরা।

২০১৯ সালে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার।ওই বছর রপ্তানি হয়েছিল ৪৭৬ টন ইলিশ।

ইলিশ রপ্তানিকারক ও স্বর্ণালি এন্টারপ্রাইজের সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার পাঠানো ইলিশগুলোর ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির মধ্যে। সরকারের নির্ধারিত দামেই সেগুলো পাঠানো হয়েছে।

ইলিশ রপ্তানি সামনের দিনে দুই দেশের বাণিজ্য ও সৌহার্দ্য সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে আশা করেন এ রপ্তানিকারক।

সূত্র: বিডিনিউজ