ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈন্যদের স্মৃতির খোঁজে কক্সবাজারে জাপানি প্রতিনিধি দল কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আইভী কক্সবাজার রেল স্টেশনের নিরাপত্তা কর্মীরাই বিক্রি করছেন টিকেট পালংখালী সীমান্তে আরএসওর গুলি, ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার ভাবীর ঘাড়ে দা’র কোপ, দেবর ও শাশুড়ি আটক মাঝরাতে গুলির শব্দে কেঁপে উঠল হোয়াইক্যং, আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটালেন বাসিন্দারা টেকনাফে শ্রমিক দল সভাপতির ওপর হামলা পুত্রবধূকে জিম্মি করে আইনজীবী সমিতির সভাপতির বাড়িতে ডাকাতি তরুণদের নেতৃত্ব ও মানবিকতা গঠনে পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপের বার্ষিক ক্যাম্প টেকনাফে ৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক উদ্ধার, অপহরণকারী চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার মধ্যরাতের ছুরিকাঘাতে আহত আসিফের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু, নিহত বেড়ে ২ ভিকটিমের পরিচয় ফাঁসের অভিযোগে চকরিয়া থানার ওসিকে আইনি নোটিশ শহরের শীর্ষ ছিনতাইকারী জিয়া গ্রেফতার দীর্ঘ বিরতির পর চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে কক্সবাজারে ফিরছে সিনেমা, ৫-৬ জুন প্রদর্শিত হবে ৬ টি সিনেমা স্বামীর মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে সড়কে ঝরলো স্ত্রীসহ দু’জনের প্রাণ

সিলেট টাইটান্স: পেসে শাসন, বাকিতে গড়পড়তা—শিরোপা লড়াই কতটা বাস্তবসম্মত?

সিলেটকে বলা হয় বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের আঁতুড়ঘর। দেশের বর্তমান প্রজন্মের প্রায় সব বড় পেসারেরই জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই অঞ্চলে। এবারের বিপিএলেও পেসারদের জন্য পরিবেশ আরও সুবিধাজনক—কড়া শীত, তিন ভেন্যুতেই ৫-৭ মিলিমিটার ঘাস, আর শুরু থেকেই ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশন। এই বাস্তবতা নতুন দল সিলেট টাইটান্স খুব ভালোভাবে বুঝেছে। দল গঠনের সময় তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে পেস বোলিং শক্তিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এই এক জায়গায় মনোযোগ দিতে গিয়ে কি ব্যাটিং ও স্পিন বিভাগে ঘাটতি তৈরি হয়ে গেল?

পেস ডিপার্টমেন্টে সিলেট টাইটান্স নিঃসন্দেহে বিপিএলের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদের মতো জাতীয় দলের স্পিডস্টারদের সঙ্গে যোগ হয়েছে পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির এবং আফগান অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাই। লোকাল হিসেবে রয়েছে রুয়েল মিয়া ও শহীদুল ইসলাম। পেস বোলিংয়ের প্রয়োজনীয় সব বৈশিষ্ট্যই তাদের স্কোয়াডে আছে—র’ পেস, বাউন্স, সুইং-সীম, কাটার, নতুন বলের আগ্রাসন, ডেথে বিকল্প—সব কিছু। তার ওপর ইবাদত-খালেদ-রুয়েল—তিনজনই সিলেটের লোকাল, তাই তাদের মধ্যে বন্ডিংও আলাদা। প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালী হোক, এই পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়ানো সহজ হবে না।

কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। ব্যাটিং বিভাগে সিলেট টাইটান্স বেশ গড়পড়তা। দেশি ব্যাটারদের মধ্যে পারভেজ ইমন ছাড়া মডার্ন টি২০ ব্যাটিং বোঝেন ও মাঠে প্রয়োগ করতে পারেন—এমন কারও নাম জোরালোভাবে উঠে আসে না। আফিফ, মিরাজ, জাকির, মমিনুল, রনি তালুকদার বা তৌফিক খান—অভিজ্ঞতা আছে বটে, কিন্তু টি২০ স্পেশালিস্ট বা এক্স-ফ্যাক্টর কেউই নন। তরুণ আরিফুল ইসলাম প্রতিভাবান হলেও এখনো শিখন পর্যায়ে। বিদেশীদের মধ্যে সাইম আইয়ুব মাঝে মাঝে ম্যাচ জেতাতে পারে, আবার টানা ব্যর্থও হতে পারে। এরন জোন্স ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস—দুজনই মিডিওকার টি২০ ব্যাটার। ফলে পারভেজ-সাইম ওপেনিং জুটি দ্রুত ভেঙে গেলে সিলেটের ব্যাটিং লাইনআপ প্রায়ই এক্সপোজড হয়ে পড়তে পারে।

স্পিন বিভাগও সাদামাটা। নাসুম ও মিরাজ—এই দুজনের উপর নির্ভর করতে হবে পুরো টুর্নামেন্টে। দলে নেই কোনও লেগস্পিনার, নেই মিস্ট্রি স্পিনার, নেই রিস্ট স্পিনের ভ্যারিয়েশন। টি২০ ক্রিকেটে যেখানে বৈচিত্র্য সবচেয়ে বড় সম্পদ, সেখানে সিলেটের স্পিন আক্রমণ একেবারে ওয়ান-ডাইমেনশনাল।

কোচিং স্টাফে সোহেল ইসলাম, এনামুল হক জুনিয়র ও সৈয়দ রাসেলের মতো নাম থাকলেও সীমিত রিসোর্স দিয়ে তাদের কাজ কঠিন হয়ে যাবে। শুধু শক্তিশালী পেস আক্রমণ দিয়ে পুরো টুর্নামেন্ট জেতা সম্ভব নয়। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা, স্পিনে বৈচিত্র্য এবং কিছু মারকাটারি বিদেশি ব্যাটার—এসবই খুব প্রয়োজন।

সিলেট টাইটান্সের এখনই কিছু দেশি ও বিদেশি সাইনিংয়ের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা উচিত। নইলে পেস বোলারদের ওপর ভর করে শিরোপার স্বপ্ন দেখা টাইটানিকের মতোই—আঘাত লাগলেই ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈন্যদের স্মৃতির খোঁজে কক্সবাজারে জাপানি প্রতিনিধি দল

সিলেট টাইটান্স: পেসে শাসন, বাকিতে গড়পড়তা—শিরোপা লড়াই কতটা বাস্তবসম্মত?

আপডেট সময় : ০৭:৩৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

সিলেটকে বলা হয় বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের আঁতুড়ঘর। দেশের বর্তমান প্রজন্মের প্রায় সব বড় পেসারেরই জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই অঞ্চলে। এবারের বিপিএলেও পেসারদের জন্য পরিবেশ আরও সুবিধাজনক—কড়া শীত, তিন ভেন্যুতেই ৫-৭ মিলিমিটার ঘাস, আর শুরু থেকেই ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশন। এই বাস্তবতা নতুন দল সিলেট টাইটান্স খুব ভালোভাবে বুঝেছে। দল গঠনের সময় তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে পেস বোলিং শক্তিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এই এক জায়গায় মনোযোগ দিতে গিয়ে কি ব্যাটিং ও স্পিন বিভাগে ঘাটতি তৈরি হয়ে গেল?

পেস ডিপার্টমেন্টে সিলেট টাইটান্স নিঃসন্দেহে বিপিএলের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদের মতো জাতীয় দলের স্পিডস্টারদের সঙ্গে যোগ হয়েছে পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির এবং আফগান অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাই। লোকাল হিসেবে রয়েছে রুয়েল মিয়া ও শহীদুল ইসলাম। পেস বোলিংয়ের প্রয়োজনীয় সব বৈশিষ্ট্যই তাদের স্কোয়াডে আছে—র’ পেস, বাউন্স, সুইং-সীম, কাটার, নতুন বলের আগ্রাসন, ডেথে বিকল্প—সব কিছু। তার ওপর ইবাদত-খালেদ-রুয়েল—তিনজনই সিলেটের লোকাল, তাই তাদের মধ্যে বন্ডিংও আলাদা। প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালী হোক, এই পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়ানো সহজ হবে না।

কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। ব্যাটিং বিভাগে সিলেট টাইটান্স বেশ গড়পড়তা। দেশি ব্যাটারদের মধ্যে পারভেজ ইমন ছাড়া মডার্ন টি২০ ব্যাটিং বোঝেন ও মাঠে প্রয়োগ করতে পারেন—এমন কারও নাম জোরালোভাবে উঠে আসে না। আফিফ, মিরাজ, জাকির, মমিনুল, রনি তালুকদার বা তৌফিক খান—অভিজ্ঞতা আছে বটে, কিন্তু টি২০ স্পেশালিস্ট বা এক্স-ফ্যাক্টর কেউই নন। তরুণ আরিফুল ইসলাম প্রতিভাবান হলেও এখনো শিখন পর্যায়ে। বিদেশীদের মধ্যে সাইম আইয়ুব মাঝে মাঝে ম্যাচ জেতাতে পারে, আবার টানা ব্যর্থও হতে পারে। এরন জোন্স ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস—দুজনই মিডিওকার টি২০ ব্যাটার। ফলে পারভেজ-সাইম ওপেনিং জুটি দ্রুত ভেঙে গেলে সিলেটের ব্যাটিং লাইনআপ প্রায়ই এক্সপোজড হয়ে পড়তে পারে।

স্পিন বিভাগও সাদামাটা। নাসুম ও মিরাজ—এই দুজনের উপর নির্ভর করতে হবে পুরো টুর্নামেন্টে। দলে নেই কোনও লেগস্পিনার, নেই মিস্ট্রি স্পিনার, নেই রিস্ট স্পিনের ভ্যারিয়েশন। টি২০ ক্রিকেটে যেখানে বৈচিত্র্য সবচেয়ে বড় সম্পদ, সেখানে সিলেটের স্পিন আক্রমণ একেবারে ওয়ান-ডাইমেনশনাল।

কোচিং স্টাফে সোহেল ইসলাম, এনামুল হক জুনিয়র ও সৈয়দ রাসেলের মতো নাম থাকলেও সীমিত রিসোর্স দিয়ে তাদের কাজ কঠিন হয়ে যাবে। শুধু শক্তিশালী পেস আক্রমণ দিয়ে পুরো টুর্নামেন্ট জেতা সম্ভব নয়। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা, স্পিনে বৈচিত্র্য এবং কিছু মারকাটারি বিদেশি ব্যাটার—এসবই খুব প্রয়োজন।

সিলেট টাইটান্সের এখনই কিছু দেশি ও বিদেশি সাইনিংয়ের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা উচিত। নইলে পেস বোলারদের ওপর ভর করে শিরোপার স্বপ্ন দেখা টাইটানিকের মতোই—আঘাত লাগলেই ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।