ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঘুষ হিসেবে জমি নিয়ে ফাঁসলেন উপ-সচিবসহ ৫ জন সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করল বিএফআইইউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ববাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ছাড়াল ১০৩ ডলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যেকোন অভিযানের জন্য প্রস্তুত পুলিশ উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, দুই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত উখিয়ার পালংখালী থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার উখিয়ায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযান: ৫ প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমনে বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে! কলাতলীতে বাতিল প্লটে মার্কেট নির্মাণ, কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য কুতুবদিয়ায় বজ্রপাতে বৃদ্ধের মৃত্যু রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ টেকনাফে বজ্রপাতে কৃষক আহত সদর থানার অভিযান অব্যাহত: ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ১৫ ফিশিং বোটের ইঞ্জিন বিকল, ভাসমান ১৩ জেলে উদ্ধার

রোহিঙ্গা কার্যক্রমে স্থানীয়দের ৬০ শতাংশ নিয়োগের দাবি এমপি কাজলের

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোতে হোস্ট কমিউনিটির স্থানীয় জনগণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।

এ দাবিতে তিনি গত ৮ জুলাই এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালকের কাছে একটি লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদনে কক্সবাজারে দীর্ঘদিন ধরে ব্র্যাক, কারিতাস বাংলাদেশ, কেয়ার বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন, ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিল (ডিআরসি), নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি), ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি), অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার (এসিএফ), ইসলামিক রিলিফ, কোস্ট ফাউন্ডেশন, ফ্রেন্ডশিপ, মুসলিম এইড বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত নানা চাপের মুখে রয়েছে। অথচ এসব কার্যক্রম পরিচালনাকারী অনেক সংস্থায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। তাই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে হোস্ট কমিউনিটির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

এ প্রেক্ষাপটে কক্সবাজার জেলার যোগ্য, দক্ষ ও শিক্ষিত স্থানীয় জনগণকে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে অগ্রাধিকার দিয়ে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ পদে হোস্ট কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত নির্দেশনা জারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

চিঠিতে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, হোস্ট কমিউনিটির ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও টেকসই হবে।

এদিকে, সংসদ সদস্যের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে বেশি চাপ বহন করছে কক্সবাজারের হোস্ট কমিউনিটি। কিন্তু কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরেই বঞ্চিত হয়ে আসছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “এটি আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। রোহিঙ্গাদের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজারের মানুষ। তাই স্থানীয়দের চাকরিতে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ায় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলকে ধন্যবাদ জানাই।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ফেইসবুকে লিখেন, “যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থানীয়দের জন্য অন্তত ৬০ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা হলে হাজারো শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমরা আশা করি সরকার ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কক্সবাজারের হোস্ট কমিউনিটির স্বার্থ বিবেচনায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরো দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, যাতে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটে এবং স্থানীয় জনগণ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ন্যায্য অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে পারে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুষ হিসেবে জমি নিয়ে ফাঁসলেন উপ-সচিবসহ ৫ জন

রোহিঙ্গা কার্যক্রমে স্থানীয়দের ৬০ শতাংশ নিয়োগের দাবি এমপি কাজলের

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোতে হোস্ট কমিউনিটির স্থানীয় জনগণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।

এ দাবিতে তিনি গত ৮ জুলাই এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালকের কাছে একটি লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদনে কক্সবাজারে দীর্ঘদিন ধরে ব্র্যাক, কারিতাস বাংলাদেশ, কেয়ার বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন, ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিল (ডিআরসি), নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি), ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি), অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার (এসিএফ), ইসলামিক রিলিফ, কোস্ট ফাউন্ডেশন, ফ্রেন্ডশিপ, মুসলিম এইড বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত নানা চাপের মুখে রয়েছে। অথচ এসব কার্যক্রম পরিচালনাকারী অনেক সংস্থায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। তাই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে হোস্ট কমিউনিটির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

এ প্রেক্ষাপটে কক্সবাজার জেলার যোগ্য, দক্ষ ও শিক্ষিত স্থানীয় জনগণকে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে অগ্রাধিকার দিয়ে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ পদে হোস্ট কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত নির্দেশনা জারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

চিঠিতে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, হোস্ট কমিউনিটির ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও টেকসই হবে।

এদিকে, সংসদ সদস্যের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে বেশি চাপ বহন করছে কক্সবাজারের হোস্ট কমিউনিটি। কিন্তু কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরেই বঞ্চিত হয়ে আসছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “এটি আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। রোহিঙ্গাদের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজারের মানুষ। তাই স্থানীয়দের চাকরিতে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ায় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলকে ধন্যবাদ জানাই।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ফেইসবুকে লিখেন, “যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থানীয়দের জন্য অন্তত ৬০ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা হলে হাজারো শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমরা আশা করি সরকার ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কক্সবাজারের হোস্ট কমিউনিটির স্বার্থ বিবেচনায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরো দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, যাতে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটে এবং স্থানীয় জনগণ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ন্যায্য অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে পারে।