ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিরাপদে কক্সবাজার ছাড়লেন ওজিল-এরদোয়ান পুত্র , আছেন সুস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে মেসুত ওজিল ও নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান গাড়ি বহরে অটোরিকশা ধাক্কা রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও সহায়তায় এগিয়ে আসতে বিশ্ববাসীকে মেসুত ওজিল ও বিলাল এরদোয়ানের আহবান মালিক-শ্রমিক সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা টাকাকে চাঁদা হিসেবে দেখছি না সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া চাঁদা নয়, বাধ্য করা হলে চাঁদা: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারে আইনের শাসন ফিরবে: জামায়াত আমির ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হিরো আলম দুই মাস কারাগারে আনিস আলমগীর, জামিনের আশায় পরিবার ‘রোজায় ১০ লাখ পরিবারকে কম দামে দুধ-ডিম-মাংস দেবে সরকার’ ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু: তথ্যমন্ত্রী পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীকে জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমজান ঢুকতেই পুদিনার সেঞ্চুরি- শসা-লেবুর দামও চড়া! প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তিন বাহিনী প্রধানদের সাক্ষাৎ পেকুয়ায় বাস–সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু নিহত, আহত ৫ মেসুত ওজিল ও বিলাল এরদোয়ান কক্সবাজারে : রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও সহায়তায় বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ

রেঙ্গুন থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প: আবছার ও থাইংখালীর ওসমানের ইয়াবা নেটওয়ার্ক

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের পুরাতন রাজধানী রেঙ্গুনে (বর্তমানে ইয়াঙ্গুন নামে পরিচিত) বাস করেন রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ আবছার।

সেই রেঙ্গুন থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পর্যন্ত প্রযুক্তির সহায়তায় অবৈধ মাদক ইয়াবার রমরমা বাণিজ্যের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার তথ্য মিলেছে এই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে।

ওপার থেকে সক্রিয় নেটওয়ার্কটির এপার নিয়ন্ত্রণ করেন আবছারের আপন বোন জামাই মোহাম্মদ ওসমান, যার অধীনে রয়েছে ২০ থেকে ২৫ জন মাদক কারবারিদের একটি চক্র।

ওসমান পালংখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ধামনখালী এলাকার মৃত অলি আহমেদের পুত্র।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ওসমান মাদক প্রতিরোধ আইনে দায়েরকৃত একাধিক মামলা’র আসামী।

২০২১ সালে থাইংখালী’র ফুটবল মাঠ এলাকা থেকে দশ হাজার ইয়াবা সহ ওসমান’কে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এছাড়াও ২০২৩ সালে বালুখালী এলাকায় ৫০ হাজার ইয়াবা সহ দুই নারী’কে বিজিবি গ্রেফতার করলে সে ঘটনাতেও ওসমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে।

সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচারের রুট হিসেবে কুখ্যাতি পাওয়া সীমান্তবর্তী গ্রাম ধামনখালীতে ইয়াবা লেনদেনের সংবাদ প্রচার পায় গণমাধ্যমে, এরপরই প্রকাশ্যে আসে শালা-দুলাভাইয়ের কু-কীর্তি।

প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত একটি ভিডিওর তথ্য বলছে, আবছারের সাথে নিয়মিতই ইয়াবা লেনদেন করে থাকেন ওসমান।
ওসমানের মধ্যস্থতায় তার অধীনস্থ মাদকবহনকারীরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবা মজুদের পর ছড়িয়ে দেয় দেশের অন্যান্য স্থানে।

আশ্রয় শিবিরের  কুতুপালং ১নং ক্যাম্পে বাস করেন আবছারের পিতা ফজল আহমেদ সহ তার পরিবার৷ ঐ ক্যাম্পের একটি সূত্র ব্যবহার করে আবছারের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেও অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো উত্তর মেলেনি।

তবে কথা বলেছেন ওসমান। তিনি দাবী করেন, ‘আমি কখনোই ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত ছিলাম না, আমার বিরুদ্ধে এলাকায় কিছু শত্রু অপপ্রচারে সক্রিয়।তিনি গরুর খামার করেন বলে জানায়, তারা আমার মানহানির উদ্দেশ্যে এধরণের তথ্য দিয়ে আপনাদের বিভ্রান্ত করছে।’

মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য রুখতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র কঠোর তৎপরতা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন ৬৪ বিজিবির ( উখিয়া ব্যাটেলিয়ন) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

এদিকে ওসমান শুধু ইয়াবা পাচারে নয় জড়িত পাহাড়ের মাটি পাচারেও, সম্প্রতি তার একটি ড্রেজার মেশিনও বনবিভাগের থাইংখালী বিট জব্দ করেছে।

সম্প্রতি থাইংখালীর ধামনখালী, রহমতের বিল এলাকায় বেশ কয়েকটি ইয়াবার সিন্ডুকেট গড়ে উঠেছে বলে সীমান্তের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রথমে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান এনে পৌঁছে দেয় ওসমানের হাতে, পরে সেখানে মজুদের পর সময়মতো পৌঁছে যায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা তার শশুরবাড়িতে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, ওসমান এলাকায় বীরদর্পে চলাফেরা করে, কখনো কখনো নিজেকে গরুর খামারী কখনো নিজেকে বালু ব্যবসায়ী পরিচয় দেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপদে কক্সবাজার ছাড়লেন ওজিল-এরদোয়ান পুত্র , আছেন সুস্থ

This will close in 6 seconds

রেঙ্গুন থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প: আবছার ও থাইংখালীর ওসমানের ইয়াবা নেটওয়ার্ক

আপডেট সময় : ১১:২৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের পুরাতন রাজধানী রেঙ্গুনে (বর্তমানে ইয়াঙ্গুন নামে পরিচিত) বাস করেন রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ আবছার।

সেই রেঙ্গুন থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পর্যন্ত প্রযুক্তির সহায়তায় অবৈধ মাদক ইয়াবার রমরমা বাণিজ্যের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার তথ্য মিলেছে এই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে।

ওপার থেকে সক্রিয় নেটওয়ার্কটির এপার নিয়ন্ত্রণ করেন আবছারের আপন বোন জামাই মোহাম্মদ ওসমান, যার অধীনে রয়েছে ২০ থেকে ২৫ জন মাদক কারবারিদের একটি চক্র।

ওসমান পালংখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ধামনখালী এলাকার মৃত অলি আহমেদের পুত্র।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ওসমান মাদক প্রতিরোধ আইনে দায়েরকৃত একাধিক মামলা’র আসামী।

২০২১ সালে থাইংখালী’র ফুটবল মাঠ এলাকা থেকে দশ হাজার ইয়াবা সহ ওসমান’কে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এছাড়াও ২০২৩ সালে বালুখালী এলাকায় ৫০ হাজার ইয়াবা সহ দুই নারী’কে বিজিবি গ্রেফতার করলে সে ঘটনাতেও ওসমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে।

সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচারের রুট হিসেবে কুখ্যাতি পাওয়া সীমান্তবর্তী গ্রাম ধামনখালীতে ইয়াবা লেনদেনের সংবাদ প্রচার পায় গণমাধ্যমে, এরপরই প্রকাশ্যে আসে শালা-দুলাভাইয়ের কু-কীর্তি।

প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত একটি ভিডিওর তথ্য বলছে, আবছারের সাথে নিয়মিতই ইয়াবা লেনদেন করে থাকেন ওসমান।
ওসমানের মধ্যস্থতায় তার অধীনস্থ মাদকবহনকারীরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবা মজুদের পর ছড়িয়ে দেয় দেশের অন্যান্য স্থানে।

আশ্রয় শিবিরের  কুতুপালং ১নং ক্যাম্পে বাস করেন আবছারের পিতা ফজল আহমেদ সহ তার পরিবার৷ ঐ ক্যাম্পের একটি সূত্র ব্যবহার করে আবছারের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেও অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো উত্তর মেলেনি।

তবে কথা বলেছেন ওসমান। তিনি দাবী করেন, ‘আমি কখনোই ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত ছিলাম না, আমার বিরুদ্ধে এলাকায় কিছু শত্রু অপপ্রচারে সক্রিয়।তিনি গরুর খামার করেন বলে জানায়, তারা আমার মানহানির উদ্দেশ্যে এধরণের তথ্য দিয়ে আপনাদের বিভ্রান্ত করছে।’

মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য রুখতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র কঠোর তৎপরতা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন ৬৪ বিজিবির ( উখিয়া ব্যাটেলিয়ন) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

এদিকে ওসমান শুধু ইয়াবা পাচারে নয় জড়িত পাহাড়ের মাটি পাচারেও, সম্প্রতি তার একটি ড্রেজার মেশিনও বনবিভাগের থাইংখালী বিট জব্দ করেছে।

সম্প্রতি থাইংখালীর ধামনখালী, রহমতের বিল এলাকায় বেশ কয়েকটি ইয়াবার সিন্ডুকেট গড়ে উঠেছে বলে সীমান্তের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রথমে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান এনে পৌঁছে দেয় ওসমানের হাতে, পরে সেখানে মজুদের পর সময়মতো পৌঁছে যায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা তার শশুরবাড়িতে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, ওসমান এলাকায় বীরদর্পে চলাফেরা করে, কখনো কখনো নিজেকে গরুর খামারী কখনো নিজেকে বালু ব্যবসায়ী পরিচয় দেন।