বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “আগামীতে কোনো দিন হয়তো এমনও শুনতে হবে—জামায়াতে ইসলামী এ দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল!”
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার একটি অপচেষ্টা চলছে। একটি রাজনৈতিক দল—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—যারা একাত্তরে এ দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ব্যাখ্যা ও বর্ণনা করার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার দুপুরে চকরিয়ার মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের জঙ্গলকাটা এলাকায় এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাধীনতার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গতকাল জামায়াতে ইসলামীর আমির যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।তিনি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, বরং কর্নেল অলি আহমদ দিয়েছেন—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
এ রাজনীতিক আরও বলেন, “এ ধরনের বক্তব্য অস্বাভাবিক নয়। কারণ যারা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ ইতিহাস বিকৃত করবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সব জানে। জনগণ জানে, আজ তারা নতুন রূপে নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে চেষ্টা করছে, তা সম্পূর্ণ প্রতারণা ও ভণ্ডামি।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জামায়াতে ইসলামী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দলে যুক্ত করে কার্যত ভাড়া করে একটি সাইনবোর্ড দেখাতে চাইছে—যাতে বলা যায় তাদেরও মুক্তিযোদ্ধা আছে। সেই মুক্তিযোদ্ধাকে ব্যবহার করে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এটা কখনোই মেনে নেবে না।”
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের প্রতি নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশের সকল দেশপ্রেমিক মানুষ ও স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি এই ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তুলবে। একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো—যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে ও ইতিহাস বিকৃত করছে—তাদের বিরুদ্ধে শালীন ভাষায় হলেও দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানানো।
তিনি আরও বলেন, “গত কয়েকদিন আগে তারা এ দেশের নারী সমাজকে চরমভাবে অপমান করেছে। এক সাক্ষাৎকারে কর্মজীবী নারীদের পতিতাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে এই প্রস্তাব নারীদের কল্যাণ নয়; এটি নারীদের কর্মসংস্থান ধ্বংস করার একটি পরিকল্পনা।”
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেফাজতুর রহমান চৌধুরী টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
রেজাউল করিম: 





















