ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পিকআপভর্তি চোলাই মদ জব্দ, আটক ৫ ৩৬ বছরে পদার্পণ করলো দৈনিক কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি ফারুক, সা: সম্পাদক- আজিজ বড় বাজারে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা,ফেনসিডিলসহ কয়েক প্রকার মাদক:নেপথ্যে “কিং”! কক্সবাজারে হারানো আইফোনসহ উদ্ধার করা ৫০ টি মোবাইল মালিকের কাছে হস্তান্তর বিজিবি-আরএসও গোলাগুলি, অস্ত্র-ইয়াবা উদ্ধার শুক্রবার কক্সবাজারে আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যাবেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কক্সবাজারে সামাজিক সম্প্রীতি ও দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবহার বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কক্সবাজারে নির্মাণাধীন কালভার্টে মাটি ধসে নিহত ২ শ্রমিক দূষিত খাবারে বিশ্বজুড়ে বছরে প্রাণহানি ১৫ লাখ, সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশুরা পেকুয়ায় বন্দুক, গুলি-কার্তুজসহ অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার ঈদুল আজহার ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১ জন ২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈন্যদের স্মৃতির খোঁজে কক্সবাজারে জাপানি প্রতিনিধি দল কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আইভী কক্সবাজার রেল স্টেশনের সিকিউরিটি রাব্বানীর বিরুদ্ধে টিকেট কালোবাজারির অভিযোগ

সিনহা হত্যা মামলার রায়: চার বছর পেরিয়ে গেলেও ঝুলে আছে বিচার প্রক্রিয়া

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে চাঞ্চল্যকর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের রায়ের চার বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ঈসমাইল এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির অপেক্ষায় থমকে আছে সাজা কার্যকর করার প্রক্রিয়া।

​মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারিক ইতিহাস
​২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা রাশেদ খান।

​২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি এ মামলার প্রধান আসামী টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

​ছয়জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়।

​আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতের (নিম্ন আদালত) কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে হাইকোর্টের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) প্রয়োজন হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রদীপ ও লিয়াকতসহ অন্যান্যরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া চললেও তা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

এদিকে ​সিনহার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রায় হওয়ার পর তারা ন্যায়বিচারের আশা পেয়েছিলেন। কিন্তু চার বছরেও রায় কার্যকর না হওয়ায় তারা কিছুটা হতাশ। তাদের দাবি, দ্রুত আপিল শুনানি শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।

​বর্তমানে প্রদীপ কুমার দাশ এবং লিয়াকত আলীসহ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কারাগারে রয়েছেন। আইনজীবীদের মতে , হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ থাকে। এই সব ধাপ শেষ হলেই কেবল রায় কার্যকর সম্ভব।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পিকআপভর্তি চোলাই মদ জব্দ, আটক ৫

সিনহা হত্যা মামলার রায়: চার বছর পেরিয়ে গেলেও ঝুলে আছে বিচার প্রক্রিয়া

আপডেট সময় : ০২:৫৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে চাঞ্চল্যকর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের রায়ের চার বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ঈসমাইল এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির অপেক্ষায় থমকে আছে সাজা কার্যকর করার প্রক্রিয়া।

​মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারিক ইতিহাস
​২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা রাশেদ খান।

​২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি এ মামলার প্রধান আসামী টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

​ছয়জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়।

​আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতের (নিম্ন আদালত) কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে হাইকোর্টের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) প্রয়োজন হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রদীপ ও লিয়াকতসহ অন্যান্যরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া চললেও তা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

এদিকে ​সিনহার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রায় হওয়ার পর তারা ন্যায়বিচারের আশা পেয়েছিলেন। কিন্তু চার বছরেও রায় কার্যকর না হওয়ায় তারা কিছুটা হতাশ। তাদের দাবি, দ্রুত আপিল শুনানি শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।

​বর্তমানে প্রদীপ কুমার দাশ এবং লিয়াকত আলীসহ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কারাগারে রয়েছেন। আইনজীবীদের মতে , হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ থাকে। এই সব ধাপ শেষ হলেই কেবল রায় কার্যকর সম্ভব।