ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফের ‘জাফর চেয়ারম্যান’ দুনীর্তির দায়ে ৭ বছরের সাজা নিয়ে কারগারে ফাইনালের পর কাতারে আবারও মুখোমুখি হতে পারে স্পেন-আর্জেন্টিনা ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধে আইন পাস বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের স্পেশাল মিডিয়েটর হিসাবে নিয়োগ পেলেন অ্যাডভোকেট মোঃ শাহা আলম রাজা পালংয়ের প্রয়াত জননেতা শেখ শাহাবুদ্দিনের সহধর্মিণীর মৃত্যু : জানাজা বুধবার পেকুয়ায় দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে পুড়লো আমজাদের ড্রাম ট্রাক জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নাইক্ষ্যংছড়ি বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন সাবেক চেয়ারম্যান তোফাইল কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার নির্দেশ, প্রতিবেদন তলব মগনামায় সরকারি খালে ৫৮টি অবৈধ বাঁধ ও জাল অপসারণ নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা : পাহাড়ধসের আশংকা সেন্টমার্টিনে ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক মহেশখালী চ্যানেলে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই বালু উত্তোলন, ৫০ লাখ টাকা জরিমানা সমিতিপাড়ায় কিশোর সুকান্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি বেলাল গ্রেপ্তার

সিনহা হত্যা মামলার রায়: চার বছর পেরিয়ে গেলেও ঝুলে আছে বিচার প্রক্রিয়া

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে চাঞ্চল্যকর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের রায়ের চার বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ঈসমাইল এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির অপেক্ষায় থমকে আছে সাজা কার্যকর করার প্রক্রিয়া।

​মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারিক ইতিহাস
​২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা রাশেদ খান।

​২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি এ মামলার প্রধান আসামী টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

​ছয়জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়।

​আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতের (নিম্ন আদালত) কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে হাইকোর্টের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) প্রয়োজন হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রদীপ ও লিয়াকতসহ অন্যান্যরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া চললেও তা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

এদিকে ​সিনহার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রায় হওয়ার পর তারা ন্যায়বিচারের আশা পেয়েছিলেন। কিন্তু চার বছরেও রায় কার্যকর না হওয়ায় তারা কিছুটা হতাশ। তাদের দাবি, দ্রুত আপিল শুনানি শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।

​বর্তমানে প্রদীপ কুমার দাশ এবং লিয়াকত আলীসহ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কারাগারে রয়েছেন। আইনজীবীদের মতে , হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ থাকে। এই সব ধাপ শেষ হলেই কেবল রায় কার্যকর সম্ভব।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফের ‘জাফর চেয়ারম্যান’ দুনীর্তির দায়ে ৭ বছরের সাজা নিয়ে কারগারে

সিনহা হত্যা মামলার রায়: চার বছর পেরিয়ে গেলেও ঝুলে আছে বিচার প্রক্রিয়া

আপডেট সময় : ০২:৫৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে চাঞ্চল্যকর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের রায়ের চার বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ঈসমাইল এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির অপেক্ষায় থমকে আছে সাজা কার্যকর করার প্রক্রিয়া।

​মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারিক ইতিহাস
​২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা রাশেদ খান।

​২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি এ মামলার প্রধান আসামী টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

​ছয়জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়।

​আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতের (নিম্ন আদালত) কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে হাইকোর্টের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) প্রয়োজন হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রদীপ ও লিয়াকতসহ অন্যান্যরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি শুরু করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া চললেও তা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

এদিকে ​সিনহার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রায় হওয়ার পর তারা ন্যায়বিচারের আশা পেয়েছিলেন। কিন্তু চার বছরেও রায় কার্যকর না হওয়ায় তারা কিছুটা হতাশ। তাদের দাবি, দ্রুত আপিল শুনানি শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।

​বর্তমানে প্রদীপ কুমার দাশ এবং লিয়াকত আলীসহ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কারাগারে রয়েছেন। আইনজীবীদের মতে , হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ থাকে। এই সব ধাপ শেষ হলেই কেবল রায় কার্যকর সম্ভব।