ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জেলা ছাত্রদলের কমিটি: নেতৃত্বের পরিবর্তন নাকি অমীমাংসিত সমিকরণ! কচ্ছপিয়ায় ৫০ হাজার ইয়াবা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে যুবক , বিজিবির ব্যর্থ অভিযান জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি: নতুন নেতৃত্বের ঐক্যের বার্তার বিপরীতে ক্ষোভ–বঞ্চনার প্রকাশ.. কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে বিপাকে লবণ চাষিরা, বন্ধ উৎপাদন, বাড়ছে দুশ্চিন্তা কক্সবাজারে ৪ মাসব্যাপী বিআরটিসির ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরু, অংশ নিচ্ছেন ১০০ জন জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয় টেকনাফে যুবক গুলিবিদ্ধ টেকনাফে কিশোর অপহরণ, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি কক্সবাজার চেম্বারের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নতুন পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হ্নীলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর/ অবশেষে জেটি ও টার্মিনালসহ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু জুলাই সনদের প্রতিটি দফা আমরা বাস্তবায়ন করব : প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপির শপথ আজ হত্যাচেষ্টা মামলায় হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন: ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নির্দেশ

ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে, অতঃপর ভালোবাসার মানুষের হাতেই নির্যাতনের শিকার

১৩ মাস হয়েছে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। সেই ভালেবাসার মানুষটির হাতেই মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হলেন সালমা আকতার। যৌতুকের জন্য তার হাত পিটিয়ে ভেঙে দেয়া হয়েছে। আঘাত করেছে শরীরের বিভিন্ন অংশে।

শুক্রবার সকাল ১১টায় কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড উত্তর বড়ঘোপ এলাকায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৬ আগষ্ট
কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের উত্তর বড়ঘোপ এলাকার আবুল বশরের পুত্র ওমর ফারুকের সাথে দীর্ঘদিনের ভালোবাসার পূর্ণতা দিতে পালিয়ে বিয়ে করেন একই এলাকার সালমা আকতার।

সালমা আকতার জানান, পরিবারের অমতে ভালোবেসে ওমর ফারুককে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। বিয়ের ৬ মাসের পর থেকে ওমর ফারুকের মামা মোঃ আজিজ ওমর ফারুককে শ্বশুর বাড়ি থেকে যৌতুক নেওয়ার জন্য বলার পর থেকে শুরু জয় শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন। কয়েকমাস আগে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। কয়েকদিন আগে স্বামী আর নির্যাতন করবে না বলার পর তার সরল কথা বিশ্বাস করে শ্বশুর বাড়িতে

ফিরল আসারএকদিন পর বৃহস্পতিবার রাতে যৌতুক ছাড়া কেন আসলাম বলে স্বামী ওমর ফারুক, তার মামা মোঃ আজিজ, দেবর মোঃ জাহেদ তাকে মারধর করে। সকালে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর বাড়ি ফিরলে আবারও মারধর করলে ডান হাত ভেঙে যায়। এসময় তাকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া হাসপাতালে নেয়া হয় এবং পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয় বলে তিনি জানান।

যৌতুক লোভী স্বামী ওমর ফারুক, মামা শ্বশুর মোঃ আজিজ, দেবর মোঃ জাহেদ ও শ্বাশুড়ির বিচার দাবী করেন সালমা আকতার।

নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে সালমা আকতারের স্বামী ওমর ফারুক বলেন, তাকে মারধর করা হয়নি। যৌতুক চাওয়ার বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন তিনি।

সালমা আকতারের বড় ভাই জানান, যৌতুকের দাবীতে সালমা আকতারকে নির্যাতনকারী সবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

এই বিষয়ে বড়ঘোপ ১নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য মাঈন উদ্দিন হাসেম (মিন্টু) জানান, এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। স্বামী ওমর ফারুক নির্যাতন করবে না প্রতিশ্রুতি দিলেও স্ত্রীকে মারধর করে। শুক্রবার সকালে সালমা আকতারকে নির্যাতনের বিষয়টি তার পরিবার জানানোর পর হাসপাতালে গিয়ে দেখি তার ডান হাতে আঘাত। ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেছে।

এই বিষয়ে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরমান হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিং এ ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জেলা ছাত্রদলের কমিটি: নেতৃত্বের পরিবর্তন নাকি অমীমাংসিত সমিকরণ!

ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে, অতঃপর ভালোবাসার মানুষের হাতেই নির্যাতনের শিকার

আপডেট সময় : ০৫:২৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

১৩ মাস হয়েছে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। সেই ভালেবাসার মানুষটির হাতেই মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হলেন সালমা আকতার। যৌতুকের জন্য তার হাত পিটিয়ে ভেঙে দেয়া হয়েছে। আঘাত করেছে শরীরের বিভিন্ন অংশে।

শুক্রবার সকাল ১১টায় কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড উত্তর বড়ঘোপ এলাকায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৬ আগষ্ট
কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের উত্তর বড়ঘোপ এলাকার আবুল বশরের পুত্র ওমর ফারুকের সাথে দীর্ঘদিনের ভালোবাসার পূর্ণতা দিতে পালিয়ে বিয়ে করেন একই এলাকার সালমা আকতার।

সালমা আকতার জানান, পরিবারের অমতে ভালোবেসে ওমর ফারুককে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। বিয়ের ৬ মাসের পর থেকে ওমর ফারুকের মামা মোঃ আজিজ ওমর ফারুককে শ্বশুর বাড়ি থেকে যৌতুক নেওয়ার জন্য বলার পর থেকে শুরু জয় শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন। কয়েকমাস আগে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। কয়েকদিন আগে স্বামী আর নির্যাতন করবে না বলার পর তার সরল কথা বিশ্বাস করে শ্বশুর বাড়িতে

ফিরল আসারএকদিন পর বৃহস্পতিবার রাতে যৌতুক ছাড়া কেন আসলাম বলে স্বামী ওমর ফারুক, তার মামা মোঃ আজিজ, দেবর মোঃ জাহেদ তাকে মারধর করে। সকালে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর বাড়ি ফিরলে আবারও মারধর করলে ডান হাত ভেঙে যায়। এসময় তাকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া হাসপাতালে নেয়া হয় এবং পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয় বলে তিনি জানান।

যৌতুক লোভী স্বামী ওমর ফারুক, মামা শ্বশুর মোঃ আজিজ, দেবর মোঃ জাহেদ ও শ্বাশুড়ির বিচার দাবী করেন সালমা আকতার।

নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে সালমা আকতারের স্বামী ওমর ফারুক বলেন, তাকে মারধর করা হয়নি। যৌতুক চাওয়ার বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন তিনি।

সালমা আকতারের বড় ভাই জানান, যৌতুকের দাবীতে সালমা আকতারকে নির্যাতনকারী সবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

এই বিষয়ে বড়ঘোপ ১নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য মাঈন উদ্দিন হাসেম (মিন্টু) জানান, এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। স্বামী ওমর ফারুক নির্যাতন করবে না প্রতিশ্রুতি দিলেও স্ত্রীকে মারধর করে। শুক্রবার সকালে সালমা আকতারকে নির্যাতনের বিষয়টি তার পরিবার জানানোর পর হাসপাতালে গিয়ে দেখি তার ডান হাতে আঘাত। ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেছে।

এই বিষয়ে কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আরমান হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিং এ ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।