ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ২৪ ঘণ্টায় ৩১ মিমি বৃষ্টি, ৪ দিনের ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা স্টাফ কোয়ার্টারে রেস্টুরেন্টকর্মীর মরদেহ উদ্ধার ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, ৩ দালালসহ ৭২ জন আটক বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজার সৈকতে পর্যটক কম, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি কক্সবাজারে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রক্ষা পেল মেরিন ড্রাইভের তিন হাজার গাছ মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারচক্রের মূলহোতাসহ ১৪ জন আটক নাইক্ষ্যংছড়ির শাকিব সুযোগ পেল পোল্যান্ড জাতীয় ক্রীকেট দলে  আইওএম’র গাড়ির ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশু নিহত, উত্তেজনা ভুল নকশায় সয়লাব সামাজিক মাধ্যম, কক্সবাজার সরকারি কলেজ গেইটের ডিজাইন এখনো চূড়ান্ত নয় ঈদগাঁওয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে বৃদ্ধের আত্মহত্যা বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত মেরিন ড্রাইভে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: নিহত ১, আহত ২ লোহাগাড়ায় মাইক্রোবাস খাদে পড়ে ৩ জন নি’হত বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য: ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, কক্সবাজারে বজ্রপাতে নিহত ১

বো/মা না টিকা, কোন মৃ/ত্যু বেশি নৃ’শং’স?

যুদ্ধে যখন একটি শিশু বোমায় নিহত হয়, বিশ্ব কেঁপে ওঠে। বিবৃতি আসে, নিন্দা হয়, আন্তর্জাতিক মহল সরব হয়। কারণ, সেটি স্পষ্ট, একটি প্রাণ ইচ্ছাকৃত ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যখন একটি শিশু টিকা না পেয়ে মারা যায়, নিঃশব্দে, অগোচরে, তখন কি আমরা একইভাবে শোকাহত হই? নাকি সেটিকে “দুর্ভাগ্য” বলে পাশ কাটিয়ে যাই? এই প্রশ্নের উত্তরই আমাদের মানবিকতার প্রকৃত পরীক্ষা।

হাম একটি বহুল পরিচিত, সম্পূর্ণ প্রতিরোধ যোগ্য রোগ। এর বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা বহু দশক ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবুও যখন এই রোগে শিশু মারা যায়, তখন সেটি আর কেবল একটি স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে না; এটি হয়ে ওঠে একটি নৈতিক ব্যর্থতা, একটি প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার প্রতীক।

যুদ্ধের ময়দানে শিশু হত্যা আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এটিকে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ সেখানে একটি স্পষ্ট “ইচ্ছা” থাকে, ক্ষতি করার, ধ্বংস করার। কিন্তু টিকার অভাবে মৃত্যু? সেখানে কি কোনো “ইচ্ছা” নেই? প্রশ্নটি এখানেই জটিল, এবং একইসঙ্গে অস্বস্তিকর।

যদি একটি রাষ্ট্র জানে যে টিকা না দিলে শিশু মারা যাবে, যদি সেই টিকা থাকা সত্ত্বেও তা পৌঁছানো না হয়, যদি ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি, অবহেলা এবং উদাসীনতা অব্যাহত থাকে, তাহলে সেটি কি কেবল “ব্যর্থতা”? নাকি এটি এক ধরনের নীরব সহিংসতা?

আইন হয়তো বলবে, এটি সরাসরি “হত্যা” নয়। কারণ এখানে বন্দুক নেই, বোমা নেই, তাৎক্ষণিক আঘাত নেই। কিন্তু নৈতিকতার বিচারে, একটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুকে ঘটতে দেওয়া কি কম অপরাধ?

একটি শিশু যদি বোমায় মারা যায়, আমরা বলি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। একটি শিশু যদি টিকা না পেয়ে মারা যায়, আমরা বলি, সে মারা গেছে। এই ভাষার পার্থক্যই আমাদের দায় এড়ানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের জীবন রক্ষা করা। এই দায়িত্ব কোনো শর্তসাপেক্ষ নয়। স্বাস্থ্যব্যবস্থা, টিকাদান কর্মসূচি, সচেতনতা, সবই সেই দায়িত্বের অংশ। যখন এই ব্যবস্থা গুলো ব্যর্থ হয়, তখন সেটি কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি নয়; এটি একটি নৈতিক ব্যর্থতা, যার মূল্য দেয় সবচেয়ে অসহায়রা, শিশুরা।

এখানে দোষারোপের রাজনীতি নয়, প্রয়োজন জবাবদিহিতা। কে দায়ী, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে নিরপেক্ষ ভাবে। কোথায় ঘাটতি ছিল, কেন টিকা পৌঁছায়নি, কেন একটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ঘটলো, এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, প্রতিটি শিশুমৃত্যু একটি বার্তা বহন করে “আমরা কোথাও ব্যর্থ হয়েছি”।

বোমার শব্দে মৃত্যু দৃশ্যমান, তাই তা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। কিন্তু টিকার অভাবে মৃত্যু নীরব, তাই তা আমাদের দায়িত্ববোধকে আড়াল করে। এই নীরবতাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। সময় এসেছে এই নীরবতাকে ভাঙার। সময় এসেছে স্বীকার করার, প্রতিরোধ যোগ্য মৃত্যুকে মেনে নেওয়া আর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে ২৪ ঘণ্টায় ৩১ মিমি বৃষ্টি, ৪ দিনের ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা

বো/মা না টিকা, কোন মৃ/ত্যু বেশি নৃ’শং’স?

আপডেট সময় : ১২:৩৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধে যখন একটি শিশু বোমায় নিহত হয়, বিশ্ব কেঁপে ওঠে। বিবৃতি আসে, নিন্দা হয়, আন্তর্জাতিক মহল সরব হয়। কারণ, সেটি স্পষ্ট, একটি প্রাণ ইচ্ছাকৃত ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যখন একটি শিশু টিকা না পেয়ে মারা যায়, নিঃশব্দে, অগোচরে, তখন কি আমরা একইভাবে শোকাহত হই? নাকি সেটিকে “দুর্ভাগ্য” বলে পাশ কাটিয়ে যাই? এই প্রশ্নের উত্তরই আমাদের মানবিকতার প্রকৃত পরীক্ষা।

হাম একটি বহুল পরিচিত, সম্পূর্ণ প্রতিরোধ যোগ্য রোগ। এর বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা বহু দশক ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবুও যখন এই রোগে শিশু মারা যায়, তখন সেটি আর কেবল একটি স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে না; এটি হয়ে ওঠে একটি নৈতিক ব্যর্থতা, একটি প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার প্রতীক।

যুদ্ধের ময়দানে শিশু হত্যা আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এটিকে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ সেখানে একটি স্পষ্ট “ইচ্ছা” থাকে, ক্ষতি করার, ধ্বংস করার। কিন্তু টিকার অভাবে মৃত্যু? সেখানে কি কোনো “ইচ্ছা” নেই? প্রশ্নটি এখানেই জটিল, এবং একইসঙ্গে অস্বস্তিকর।

যদি একটি রাষ্ট্র জানে যে টিকা না দিলে শিশু মারা যাবে, যদি সেই টিকা থাকা সত্ত্বেও তা পৌঁছানো না হয়, যদি ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি, অবহেলা এবং উদাসীনতা অব্যাহত থাকে, তাহলে সেটি কি কেবল “ব্যর্থতা”? নাকি এটি এক ধরনের নীরব সহিংসতা?

আইন হয়তো বলবে, এটি সরাসরি “হত্যা” নয়। কারণ এখানে বন্দুক নেই, বোমা নেই, তাৎক্ষণিক আঘাত নেই। কিন্তু নৈতিকতার বিচারে, একটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুকে ঘটতে দেওয়া কি কম অপরাধ?

একটি শিশু যদি বোমায় মারা যায়, আমরা বলি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। একটি শিশু যদি টিকা না পেয়ে মারা যায়, আমরা বলি, সে মারা গেছে। এই ভাষার পার্থক্যই আমাদের দায় এড়ানোর সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের জীবন রক্ষা করা। এই দায়িত্ব কোনো শর্তসাপেক্ষ নয়। স্বাস্থ্যব্যবস্থা, টিকাদান কর্মসূচি, সচেতনতা, সবই সেই দায়িত্বের অংশ। যখন এই ব্যবস্থা গুলো ব্যর্থ হয়, তখন সেটি কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি নয়; এটি একটি নৈতিক ব্যর্থতা, যার মূল্য দেয় সবচেয়ে অসহায়রা, শিশুরা।

এখানে দোষারোপের রাজনীতি নয়, প্রয়োজন জবাবদিহিতা। কে দায়ী, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে নিরপেক্ষ ভাবে। কোথায় ঘাটতি ছিল, কেন টিকা পৌঁছায়নি, কেন একটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ঘটলো, এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, প্রতিটি শিশুমৃত্যু একটি বার্তা বহন করে “আমরা কোথাও ব্যর্থ হয়েছি”।

বোমার শব্দে মৃত্যু দৃশ্যমান, তাই তা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। কিন্তু টিকার অভাবে মৃত্যু নীরব, তাই তা আমাদের দায়িত্ববোধকে আড়াল করে। এই নীরবতাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। সময় এসেছে এই নীরবতাকে ভাঙার। সময় এসেছে স্বীকার করার, প্রতিরোধ যোগ্য মৃত্যুকে মেনে নেওয়া আর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।