ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৫ মিনিট খেলার ‘দম’ আছে নেইমারের: আনচেলত্তি আবু তাহের হ’ত্যাকা’ন্ডে পেকুয়া থানায় মামলা ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলাকে আড়াই লাখ ডলার দিলেন নেইমার একাত্তরের ভূমিকার জন্য একবারও ক্ষমা চাইলেন না: জামায়াতকে মির্জা ফখরুল অর্থনীতিকে তিন ধাপে সাজাতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী ২৯ জুন: ইতিহাসে এই দিনে আলোচিত কী ঘটেছিল? বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন ‘এটা আমাদের জন্য ফাইনাল’—আনচেলত্তি; ‘ব্রাজিলকে ছাড় নয়’—মোরিয়াসু সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাগু’ গ্রেফতার ৪.১ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প: উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা লোহাগাড়ায় ঢাকাগামী পর্যটকবাহী বাস উল্টে আহত-১৫ পেকুয়ায় আবু তাহের হত্যাকান্ড: ৭২ঘন্টায়ও দায়ের হয়নি মামলা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ছাত্রদলের আট কমিটি বিলুপ্ত ২৪ দিন পর অপহৃতকে উদ্ধার করলো র‍্যাব টেকনাফে এক চিকিৎসককে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা

বাংলাদেশি ১৬ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ‘মিয়ানমারের কোস্ট গার্ডের’ বিরুদ্ধে

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর ১৬ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘মিয়ানমারের কোস্ট গার্ডের’ বিরুদ্ধে।

তাদের ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন একটি ট্রলারের মালিক মিজানুর রহমান। তিনি দাবি করেন, ২৩ মার্চ বঙ্গোপসাগর থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের একজন, রামগতির নয়জন, নোয়াখালীর তিনজন, কক্সবাজারের একজন, চট্টগ্রামের একজন এবং ভোলার একজন রয়েছেন।

এই জেলেরা হলেন- লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মো. জুয়েল, মো. নিরব, রাকিব হোসেন, মো. মেজবাহ উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, মো. লিটন, ফরহাদ হোসেন, মো. তাহমীদ, মো. তামজিদ, কমলনগর উপজেলার মো. অজি উল্লাহ, নোয়াখালীর মো. শাহজাহান, জাবের হোসেন ও মো. সোহাগ এবং চট্টগ্রামের পাহাড়তলি এলাকার কামাল হোসেন, ভোলার কবির হোসাইন ও কক্সবাজারের তারেক রহমান।

ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলার কালালিয়াকাটা গ্রামের মোহাম্মদ চৌধুরীর ছেলে। তার ট্রলারটির নাম ‘এফবি মা বাবার দোয়া’।

ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান বলেন, “২৩ মার্চ মাছ ধরার উদ্দেশে মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়ন থেকে আমার ট্রলার নিয়ে জেলেরা বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায়। ট্রলারে মাঝি-মাল্লাসহ ১৬ জন ছিল। এর একদিন পর থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় আমি ২৮ মার্চ কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানায় একটি জিডি করি।”

তিনি বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে অন্যান্য জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি বাংলাদেশ জলসীমায় ঢুকে ‘মায়ানমারের কোস্ট গার্ড’ আমার ট্রলাসহ জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা মিয়ানমারের আকিয়াব (প্রথম থানা) থানায় আটক রয়েছে।

“আটক জেলেদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

রামগতির টুমচর গ্রামের জেলে লিটনের স্ত্রী রোজিনা আক্তার বলেন, শুক্রবার স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছে। তার স্বামী জানিয়েছেন, ট্রলারসহ ‘মিয়ানমার কোস্ট গার্ড’ তাদের আটক করে নিয়ে গেছে।

রামগতির চর পোড়াগাছা গ্রামের জেলে মেজবাহ উদ্দিনের স্ত্রী তাছলিমা বলেন, “আমাদের পরিবারের আমার স্বামী, ভাসুর, নন্দাই ও ভাগিনার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জানতে পেরেছি, ট্রলারের সবাইকে মিয়ানমারের কোনো এক বাহিনী আটক করে নিয়ে গেছে। তাদের চিন্তায় আমাদের ঘুম আসে না। আল্লাহ তাদের হেফাজত করুক। আমরা দ্রুত তাদেরকে ফিরে পেতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।”

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।”

এ ব্যাপারে জানতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানের মোবাইলে ফোন করলেও তিনি ধরেননি।

সূত্র: বিডিনিউজ

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ মিনিট খেলার ‘দম’ আছে নেইমারের: আনচেলত্তি

বাংলাদেশি ১৬ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ‘মিয়ানমারের কোস্ট গার্ডের’ বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ১১:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর ১৬ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘মিয়ানমারের কোস্ট গার্ডের’ বিরুদ্ধে।

তাদের ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন একটি ট্রলারের মালিক মিজানুর রহমান। তিনি দাবি করেন, ২৩ মার্চ বঙ্গোপসাগর থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের একজন, রামগতির নয়জন, নোয়াখালীর তিনজন, কক্সবাজারের একজন, চট্টগ্রামের একজন এবং ভোলার একজন রয়েছেন।

এই জেলেরা হলেন- লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মো. জুয়েল, মো. নিরব, রাকিব হোসেন, মো. মেজবাহ উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, মো. লিটন, ফরহাদ হোসেন, মো. তাহমীদ, মো. তামজিদ, কমলনগর উপজেলার মো. অজি উল্লাহ, নোয়াখালীর মো. শাহজাহান, জাবের হোসেন ও মো. সোহাগ এবং চট্টগ্রামের পাহাড়তলি এলাকার কামাল হোসেন, ভোলার কবির হোসাইন ও কক্সবাজারের তারেক রহমান।

ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলার কালালিয়াকাটা গ্রামের মোহাম্মদ চৌধুরীর ছেলে। তার ট্রলারটির নাম ‘এফবি মা বাবার দোয়া’।

ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান বলেন, “২৩ মার্চ মাছ ধরার উদ্দেশে মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়ন থেকে আমার ট্রলার নিয়ে জেলেরা বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায়। ট্রলারে মাঝি-মাল্লাসহ ১৬ জন ছিল। এর একদিন পর থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় আমি ২৮ মার্চ কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানায় একটি জিডি করি।”

তিনি বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে অন্যান্য জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি বাংলাদেশ জলসীমায় ঢুকে ‘মায়ানমারের কোস্ট গার্ড’ আমার ট্রলাসহ জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা মিয়ানমারের আকিয়াব (প্রথম থানা) থানায় আটক রয়েছে।

“আটক জেলেদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

রামগতির টুমচর গ্রামের জেলে লিটনের স্ত্রী রোজিনা আক্তার বলেন, শুক্রবার স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছে। তার স্বামী জানিয়েছেন, ট্রলারসহ ‘মিয়ানমার কোস্ট গার্ড’ তাদের আটক করে নিয়ে গেছে।

রামগতির চর পোড়াগাছা গ্রামের জেলে মেজবাহ উদ্দিনের স্ত্রী তাছলিমা বলেন, “আমাদের পরিবারের আমার স্বামী, ভাসুর, নন্দাই ও ভাগিনার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জানতে পেরেছি, ট্রলারের সবাইকে মিয়ানমারের কোনো এক বাহিনী আটক করে নিয়ে গেছে। তাদের চিন্তায় আমাদের ঘুম আসে না। আল্লাহ তাদের হেফাজত করুক। আমরা দ্রুত তাদেরকে ফিরে পেতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।”

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।”

এ ব্যাপারে জানতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানের মোবাইলে ফোন করলেও তিনি ধরেননি।

সূত্র: বিডিনিউজ