ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করল বিএফআইইউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ববাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ছাড়াল ১০৩ ডলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যেকোন অভিযানের জন্য প্রস্তুত পুলিশ উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, দুই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত উখিয়ার পালংখালী থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার উখিয়ায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযান: ৫ প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমনে বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে! কলাতলীতে বাতিল প্লটে মার্কেট নির্মাণ, কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য কুতুবদিয়ায় বজ্রপাতে বৃদ্ধের মৃত্যু রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ টেকনাফে বজ্রপাতে কৃষক আহত সদর থানার অভিযান অব্যাহত: ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ১৫ ফিশিং বোটের ইঞ্জিন বিকল, ভাসমান ১৩ জেলে উদ্ধার কক্সবাজারে ৪৬ মামলার প্রায় ৯৯ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ, প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

বাংলাদেশ অঞ্চলে সবশেষ ৯৬ বছর আগে ১৯৩০ সালের সর্বোচ্চ ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এর আগের ৬৫ বছর ভূমি তছনছ করা ভূমিকম্প হয়েছিল ৬ বার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও প্রায় শত বছর পার করা এসব প্লেট যেকোনো সময় তীব্র ঝাঁকুনি সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থায় বাসাবাড়িসহ সব অবকাঠামো ভূমিকম্প সহনীয় করে তোলাই হবে প্রধান প্রস্তুতি।

গত বছরের ২১ নভেম্বর দেশের অভ্যন্তরে বড় ভূকম্পনটি হয় নরসিংদীতে। ইন্দো-বার্মা টেকটনিক প্লেটের এই অংশে ঝাঁকুনির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ মাত্রা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়েকজনের প্রাণহানী ঘটে। আর মাত্র তিন মাসের মাথায় গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠলো সারাদেশ।

চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই ১০ দফা ভূকম্পন। গড়ে প্রায় দুই দিনে একটি। এমন ঘনঘন কম্পন কি বড় বিপর্যয়ের আভাস?

এ বিষয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বারবার যদি ভূমিকম্প হয়, আমরা জানি প্লেট বাউন্ডারিতে গেলে সেখানে শক্তি সৃষ্টি হয়। শক্তিগুলো জমা হতে হতে যদি আর জায়গা না পায় তখন সেটা বিস্ফোরণ ঘটে, শক্তিটুকু বের হয়ে আসে। এমতাবস্থায় বারবার যদি এরকম বের হওয়ার চেষ্টা করে, তখন সেখানে মনে হয় যে একটা বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিল্ডিং এসেসমেন্ট করতে হবে। সেটা ইঞ্জিনিয়ারদের শেখাতে হবে। আর সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বাড়ি ও স্থাপনাগুলোর মালিক, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, না হয় তো তারা করবে না।

বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল

সবশেষ ১৮৯৭ সালের ১২ই জুন ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ ছিল ৮ মাত্রারও বেশি। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কিছু বড় প্লেট বাউন্ডারি আর ভেতরে ও অতি নিকটের ফল্ট লাইনগুলোর ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর পর ৭ এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। ৮ এর অধিক মাত্রার ভূমিকম্পেরও আশঙ্কা আছে, যা ২৫০ থেকে হাজার বছর পর পর ফিরে আসে।

এদিকে, পরিসংখ্যান বলছে, শুধু রাজধানী ঢাকায় ২১ লাখ বাসাবাড়ি আছে। যার ৩০ শতাংশই ৬ তলার বেশি। এগুলোর ৯০ শতাংশই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। আর সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অবকাঠামো আছে শত শত।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, আমাদের নতুন ছোট ছোট ভূমিকম্প নিয়ে চিন্তা ও উদ্বেগেরও কিছু নেই। কিন্তু অতীতে যে বড় ভূমিকম্পগুলো হয়েছে, ওগুলো নিয়ে চিন্তার বিষয় আছে।

সূত্র: যমুনা টিভি

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করল বিএফআইইউ

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কায় বাংলাদেশ, প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

আপডেট সময় : ১২:১৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ অঞ্চলে সবশেষ ৯৬ বছর আগে ১৯৩০ সালের সর্বোচ্চ ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এর আগের ৬৫ বছর ভূমি তছনছ করা ভূমিকম্প হয়েছিল ৬ বার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও প্রায় শত বছর পার করা এসব প্লেট যেকোনো সময় তীব্র ঝাঁকুনি সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থায় বাসাবাড়িসহ সব অবকাঠামো ভূমিকম্প সহনীয় করে তোলাই হবে প্রধান প্রস্তুতি।

গত বছরের ২১ নভেম্বর দেশের অভ্যন্তরে বড় ভূকম্পনটি হয় নরসিংদীতে। ইন্দো-বার্মা টেকটনিক প্লেটের এই অংশে ঝাঁকুনির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ মাত্রা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়েকজনের প্রাণহানী ঘটে। আর মাত্র তিন মাসের মাথায় গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ফের কেঁপে উঠলো সারাদেশ।

চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই ১০ দফা ভূকম্পন। গড়ে প্রায় দুই দিনে একটি। এমন ঘনঘন কম্পন কি বড় বিপর্যয়ের আভাস?

এ বিষয়ে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বারবার যদি ভূমিকম্প হয়, আমরা জানি প্লেট বাউন্ডারিতে গেলে সেখানে শক্তি সৃষ্টি হয়। শক্তিগুলো জমা হতে হতে যদি আর জায়গা না পায় তখন সেটা বিস্ফোরণ ঘটে, শক্তিটুকু বের হয়ে আসে। এমতাবস্থায় বারবার যদি এরকম বের হওয়ার চেষ্টা করে, তখন সেখানে মনে হয় যে একটা বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিল্ডিং এসেসমেন্ট করতে হবে। সেটা ইঞ্জিনিয়ারদের শেখাতে হবে। আর সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বাড়ি ও স্থাপনাগুলোর মালিক, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, না হয় তো তারা করবে না।

বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল

সবশেষ ১৮৯৭ সালের ১২ই জুন ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ ছিল ৮ মাত্রারও বেশি। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কিছু বড় প্লেট বাউন্ডারি আর ভেতরে ও অতি নিকটের ফল্ট লাইনগুলোর ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর পর ৭ এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। ৮ এর অধিক মাত্রার ভূমিকম্পেরও আশঙ্কা আছে, যা ২৫০ থেকে হাজার বছর পর পর ফিরে আসে।

এদিকে, পরিসংখ্যান বলছে, শুধু রাজধানী ঢাকায় ২১ লাখ বাসাবাড়ি আছে। যার ৩০ শতাংশই ৬ তলার বেশি। এগুলোর ৯০ শতাংশই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। আর সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অবকাঠামো আছে শত শত।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, আমাদের নতুন ছোট ছোট ভূমিকম্প নিয়ে চিন্তা ও উদ্বেগেরও কিছু নেই। কিন্তু অতীতে যে বড় ভূমিকম্পগুলো হয়েছে, ওগুলো নিয়ে চিন্তার বিষয় আছে।

সূত্র: যমুনা টিভি