ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক পেশকারপাড়ায় ফারুক হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামী হলেন যারা…  সীমান্তের ৫শ হতদরিদ্রকে ফ্রীতে ৪ ধরণের সেবা দিলো ১১ বিজিবির রামুতে কোমলমতি খেলাঘর আসরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হামে মৃত্যু, সামনে ডেঙ্গু, এ কেমন জীবন? নারায়ণগঞ্জে পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের দুই হোতাসহ ৭ জন কক্সবাজারে গ্রেফতার ঈদগাঁওর আলোচিত সেলিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আতাউল্লাহ গ্রেফতার আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি কক্সবাজারে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড, জনজীবনে অস্বস্তি সোনাদিয়ায় প্রশাসনের অভিযান: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কালিরছড়ায় সাহেদের ই’য়াবা নাকি টাকার ব্যাগ ছি’নতাই? শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষা খাতের সমস্যা সমাধানে নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ লোহাগাড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪ হোটেল সী-হার্টের মালিক জাহাঙ্গীর আলম মারা গেছেন পেকুয়ায় পুকুরে গোসলে নেমে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

পর্যটক এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপে যাত্রী আহত, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার অভিযোগ

ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক যাত্রী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ট্রেনটি চট্টগ্রামের দোহাজারি এলাকা অতিক্রম করার সময় জানালার পাশে বসা এক যাত্রীর পেটে হঠাৎ একটি পাথর এসে লাগে। এতে তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বলে জানান।

আহত যাত্রীর দাবি, পাথরটি অত্যন্ত জোরে এসে তার পেটে আঘাত করে, যার ফলে আঘাতের স্থান ফুলে যায় এবং প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়।

ঘটনার পর ট্রেনে দায়িত্বরত পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিষয়টি জানানো হলেও তারা যাত্রীদেরই দোষারোপ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন,

“জানালার পাশের সিটে বসেছিলাম। গাড়ি যখন দোহাজারি ক্রস করছিল তখন হঠাৎ একটি পাথর এসে আমার পেটে লাগে। এত জোরে লাগে যে জায়গাটা ফুলে গেছে, প্রচুর ব্যথা করছে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।”

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানানোর পর কর্তব্যরতদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। বরং জানালা খুলে বসার জন্য তাকেই দায়ী করা হয়।

তার ভাষায়,

“গাড়িতে ডিউটিতে থাকা পুলিশ ও অন্যদের জানালে তারা উল্টো আমাদেরই দোষ দেয়—কেন জানালা খুলে বসেছি। আমি তো জানতাম না ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা তাদের কাছে স্বাভাবিক।”

তিনি আরও জানান, ট্রেনের এক কর্মী নাকি এর আগে একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছিলেন এবং সেই ঘটনার ভিডিওও দেখানো হয় তাকে।

ভুক্তভোগী যাত্রীর অভিযোগ, ট্রেনে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাও ছিল না।

“এত বড় ট্রেনে কোনো ফার্স্ট এইড নেই। আমি ব্যথা কমানোর জন্য মলম বা ওষুধ চাইলে সেটাও তারা দিতে পারেনি।”

এ ধরনের ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে বলে দাবি করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

তিনি বলেন,

“প্রতিদিন কেউ না কেউ আঘাত পাচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ চুপ। স্থানীয় প্রতিনিধি বা প্রশাসন কেন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে না?”

এদিকে কক্সবাজারগামী পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অতিক্রম করার পর ট্রেনে ভ্রমণের সময় যাত্রীদের জানালা খোলা রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও অন্যান্য যাত্রীরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক

পর্যটক এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপে যাত্রী আহত, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:১৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক যাত্রী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ট্রেনটি চট্টগ্রামের দোহাজারি এলাকা অতিক্রম করার সময় জানালার পাশে বসা এক যাত্রীর পেটে হঠাৎ একটি পাথর এসে লাগে। এতে তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বলে জানান।

আহত যাত্রীর দাবি, পাথরটি অত্যন্ত জোরে এসে তার পেটে আঘাত করে, যার ফলে আঘাতের স্থান ফুলে যায় এবং প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়।

ঘটনার পর ট্রেনে দায়িত্বরত পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিষয়টি জানানো হলেও তারা যাত্রীদেরই দোষারোপ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন,

“জানালার পাশের সিটে বসেছিলাম। গাড়ি যখন দোহাজারি ক্রস করছিল তখন হঠাৎ একটি পাথর এসে আমার পেটে লাগে। এত জোরে লাগে যে জায়গাটা ফুলে গেছে, প্রচুর ব্যথা করছে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।”

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানানোর পর কর্তব্যরতদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। বরং জানালা খুলে বসার জন্য তাকেই দায়ী করা হয়।

তার ভাষায়,

“গাড়িতে ডিউটিতে থাকা পুলিশ ও অন্যদের জানালে তারা উল্টো আমাদেরই দোষ দেয়—কেন জানালা খুলে বসেছি। আমি তো জানতাম না ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা তাদের কাছে স্বাভাবিক।”

তিনি আরও জানান, ট্রেনের এক কর্মী নাকি এর আগে একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছিলেন এবং সেই ঘটনার ভিডিওও দেখানো হয় তাকে।

ভুক্তভোগী যাত্রীর অভিযোগ, ট্রেনে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাও ছিল না।

“এত বড় ট্রেনে কোনো ফার্স্ট এইড নেই। আমি ব্যথা কমানোর জন্য মলম বা ওষুধ চাইলে সেটাও তারা দিতে পারেনি।”

এ ধরনের ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে বলে দাবি করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

তিনি বলেন,

“প্রতিদিন কেউ না কেউ আঘাত পাচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ চুপ। স্থানীয় প্রতিনিধি বা প্রশাসন কেন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে না?”

এদিকে কক্সবাজারগামী পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অতিক্রম করার পর ট্রেনে ভ্রমণের সময় যাত্রীদের জানালা খোলা রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও অন্যান্য যাত্রীরা।