ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক যাত্রী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ট্রেনটি চট্টগ্রামের দোহাজারি এলাকা অতিক্রম করার সময় জানালার পাশে বসা এক যাত্রীর পেটে হঠাৎ একটি পাথর এসে লাগে। এতে তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বলে জানান।
আহত যাত্রীর দাবি, পাথরটি অত্যন্ত জোরে এসে তার পেটে আঘাত করে, যার ফলে আঘাতের স্থান ফুলে যায় এবং প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়।
ঘটনার পর ট্রেনে দায়িত্বরত পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিষয়টি জানানো হলেও তারা যাত্রীদেরই দোষারোপ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন,
“জানালার পাশের সিটে বসেছিলাম। গাড়ি যখন দোহাজারি ক্রস করছিল তখন হঠাৎ একটি পাথর এসে আমার পেটে লাগে। এত জোরে লাগে যে জায়গাটা ফুলে গেছে, প্রচুর ব্যথা করছে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানানোর পর কর্তব্যরতদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। বরং জানালা খুলে বসার জন্য তাকেই দায়ী করা হয়।
তার ভাষায়,
“গাড়িতে ডিউটিতে থাকা পুলিশ ও অন্যদের জানালে তারা উল্টো আমাদেরই দোষ দেয়—কেন জানালা খুলে বসেছি। আমি তো জানতাম না ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা তাদের কাছে স্বাভাবিক।”
তিনি আরও জানান, ট্রেনের এক কর্মী নাকি এর আগে একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছিলেন এবং সেই ঘটনার ভিডিওও দেখানো হয় তাকে।
ভুক্তভোগী যাত্রীর অভিযোগ, ট্রেনে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাও ছিল না।
“এত বড় ট্রেনে কোনো ফার্স্ট এইড নেই। আমি ব্যথা কমানোর জন্য মলম বা ওষুধ চাইলে সেটাও তারা দিতে পারেনি।”
এ ধরনের ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে বলে দাবি করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
তিনি বলেন,
“প্রতিদিন কেউ না কেউ আঘাত পাচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ চুপ। স্থানীয় প্রতিনিধি বা প্রশাসন কেন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে না?”
এদিকে কক্সবাজারগামী পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অতিক্রম করার পর ট্রেনে ভ্রমণের সময় যাত্রীদের জানালা খোলা রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও অন্যান্য যাত্রীরা।
সায়ন্তন ভট্টাচার্য 























