বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ সম্মেলন কক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) টেকনাফ উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভার সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি টেকনাফের প্রধান সমন্বয়কারী সায়েম সিকদার। প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার–৪ আসনের এনসিপি’র সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ হোছাইন। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন এনসিপি কক্সবাজারের সংগঠক আখতার হোছাইন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ ওমর ফারুক, সংগঠক এনসিপি কক্সবাজার; বাবু মদন কান্তি রুদ্র, প্রধান শিক্ষক, সেন্টমার্টিন বিএন ইসলামিক স্কুল; আসিফ বাপ্পি, কেন্দ্রীয় সংগঠক, যুবশক্তি; আতাহার সাকিব, সংগঠক, জাতীয় ছাত্রশক্তি; বাহাউদ্দিন, যুগ্ম সমন্বয়কারী, এনসিপি টেকনাফ; মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সংগঠক এনসিপি কক্সবাজার; জমিল উদ্দিন, সদস্য, এনসিপি টেকনাফ। এছাড়া স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী মুহাম্মদ রফিক ও সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, সেন্টমার্টিনের দুর্লভ জীববৈচিত্র্য ও প্রবালপ্রাচীর রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব পর্যটন নীতি প্রণয়ন ও বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি না করলে সেন্টমার্টিনের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
এদিকে সেন্টমার্টিনের উন্নয়নে এনসিপির ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। সভায় বক্তারা দ্বীপবাসীর জীবনমান ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে এনসিপির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল।
১। সেন্টমার্টিনবাসীর জন্য একটি সী-ট্রাক চালু করা, যাতে দ্বীপের সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ আরও সহজ হয়।
২। জরুরি চিকিৎসা সেবায় দ্রুত সাড়া দিতে সী এম্বুলেন্স চালু করা।
৩। স্থানীয়দের চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে সেন্টমার্টিন হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা।
৪। শীত মৌসুমে অন্তত ৪ মাস পর্যটকদের রাত্রিযাপন করার অনুমতি দেওয়া, যাতে আয় বাড়ে ও পর্যটন শিল্প সক্রিয় থাকে।
৫। দ্বীপবাসীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের জন্য পর্যটন ভাতা চালুর দাবি।
বক্তারা আরও বলেন, সেন্টমার্টিনকে রক্ষা করতে হলে পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির মধ্যে সমন্বিত ভারসাম্য আনা জরুরি। এ ধরনের মতবিনিময় সভা স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা দিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
অংশগ্রহণকারীরা সেন্টমার্টিনের পরিবেশ, পর্যটন ও মানুষের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে এমন উদ্যোগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: 























