নির্বাচনী প্রচার কাজে ব্যবহার করতে নিজের এক শুভানুধ্যায়ীর কাছ থেকে দামী গাড়ি উপহার নিয়েছেন মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-২ আসনের ইসলামি আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী জিয়াউল হক।
উপহার পাওয়া গাড়িটি জাপানি গাড়ি নির্মাতা
প্রতিষ্ঠান টয়োটা’ ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো মডেলের (২০০৪), বর্তমান বাজারে যার আনুমানিক বাংলাদেশি মূল্য ৪০ লাখ টাকার বেশি।
তফসিল ঘোষণা পরবর্তী পাওয়া এমন দামী উপহার’কে ‘নিঃস্বার্থ সহায়তা’ উল্লেখ করে জিয়াউল হক নিজের ফেসবুকের এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে প্রচার-প্রচারণার কাজে ব্যবহারের জন্য আমার মাদ্রাসার এক সম্মানিত অভিভাবক যে গাড়িটি উপহার হিসেবে প্রদান করেছেন, এ আন্তরিক সহযোগিতার জন্য তাঁর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।’
নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সরকারি বা বেসরকারি কোনো উৎস থেকে এমন উপহার গ্রহণ করলে তা ‘অবৈধ প্রভাব’ বিস্তারতুল্য হয় যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে এবং স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।
নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালা ২০২৫ এর ৯ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি- নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন সহকারে কোনো মিছিল, জনসভা কিংবা কোনরূপ শোডাউন করিতে পারিবেন না।’
যেহেতু জিয়াউল হক গাড়িটি নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করবেন এবং তিনি যদি এই গাড়ি নিয়ে শোডাউন করেন তাহলে তা এই আইন ভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে বলে জানান জেলা আইনজীবী সমিতির একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য।
আব্দুর রহিম নামে এই আইনজীবী বলেন, ‘ নির্বাচন চলাকালীন কোন প্রার্থী উপহার আদান-প্রদান করতে পারেন না এতে আচরণবিধি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তার উপর তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছেন নির্বাচনের প্রচারে উপহারের গাড়ি ব্যবহার করবেন, তিনি এই গাড়ি দিয়ে প্রচারে শোডাউন করবেন না তার দায়িত্ব কে নিবে? কোনভাবেই এমন কাজ আইনসম্মত নয়।’
ফেসবুক পোস্টের সত্যতা নিশ্চিত করে জিয়াউল হক রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাত ১১ টার দিকে মুঠোফোনে প্রতিবেদক’কে বলেন, ‘ নির্বাচনী কাজেই তো গাড়িটি ব্যবহার করার জন্য নিয়েছি, ওটা দিয়েছে নির্বাচন পর্যন্তই ব্যবহারের জন্য।’
উপহার নিয়ে এভাবে গাড়ি ব্যবহারের বিষয়ে আচরণবিধি কি বলে? এমন প্রশ্নের জবাবে উলটো তিনি প্রতিবেদককে প্রশ্ন করেন, ‘ না, কেন? গাড়ি ব্যবহার করতে কি নিষেধ? গাড়ি নিয়ে কোথাও যাওয়া যাবেনা?।’ পরক্ষণেই তিনি ‘ আমি একটা প্রোগ্রামে আছি ‘ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে রোববার সন্ধ্যায় কক্সবাজারে ‘জেলা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল’ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ কোনভাবেই কোন প্রার্থী আচরণ বিধি বহির্ভূত কিছু করতে পারবেন না নির্বাচন সময়কালে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এবিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, ‘ কোন প্রার্থী যদি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে থাকেন তাহলে সে অনুযায়ী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘
নোমান অরুপ 


















