মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তার ঠিক পাঁচ বছর পর ২০০১ সালে জায়গা করে নেন মন্ত্রী পরিষদে। হন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী।
এবার তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের গুঞ্জন উঠছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ৷ জাতীয় অনেক সংবাদ মাধ্যমও বলছে এ কথা। অনেকে আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় দেখছেন বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্যকে৷ আবার কেউ কেউ বলছেন তিনি আইন মন্ত্রী হতেও পারেন।
বিএনপি ঘনিষ্ট ঢাকার সিনিয়র এক টেলিভিশন সাংবাদিক জানান, সালাহউদ্দিন আহমদ বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য ছিলেন তাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জন্যে তিনি উপযুক্ত, সে কারণে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হতে পারে।
আবার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা,প্রশাসন চালানোর অভিজ্ঞতা, মেধা ও প্রজ্ঞার কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্যে সালাহউদ্দিন আহমদ উপযুক্ত মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সালাহউদ্দিন আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ছাত্র হিসেবে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফলাফলে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। বিসিএস ক্যাডার হিসেবে চাকুরী শুরুর আগ পর্যন্ত তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। আইন বিষয়ে ভালো লেখাপড়া আছে বলে অনেকেই তাঁকে আইনমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়।
তবে সব আলোচনা ছাপিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাকে এগিয়ে রাখছেন সকলেই। ঢাকার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক যারা এ বিষয়ে খোঁজ খবর রাখেন তাদের অনেকেরই এমন মন্তব্য।
সদ্য অনুষ্ঠিত ১২ই ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে বিপুলসংখ্যক ভোট নিয়ে চতুর্থ বারেরমত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আহমদ৷ এ নির্বাচনে ২১৩টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। ৭৪টি আসন পেয়ে বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যাচ্ছেন জামায়াত-এনসিপির নেতৃত্বে ১১দলীয় জোট৷ এর আগে তিনি ষষ্ঠ,সপ্তম এবং অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা বিজয়ী হয়৷ ২০০১সালে বিএনপি জোট সরকার গঠন করলে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান সালাহউদ্দিন আহমদ৷ এরপর নানান রাজনৈতিক ও আইনী জটিলতায় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া হয়নি বিএনপির এই শীর্ষ নেতার।
সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৮৫ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম বিএসএসের ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এপিএস (সহকারী একান্ত সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এরপর বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়নকালে তিনিঢ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
সালাহ উদ্দিন আহামদ ১৯৯৬ সালে প্রথমে কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র আহবায়ক এবং পর পর দু’বার কাউন্সিলের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে ২০১০ সালে বিএনপি’র জাতীয় কাউন্সিলে সালাহউদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হন। এর পরে তিনি ভারতের শিলং থাকা অবস্থায় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন।
ব্যক্তি জীবনে সালাহউদ্দিন আহমদ চার সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী এডভোকেট হাসিনা আহমদও এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রেজাউল করিম, পেকুয়া: 






















