ঢাকা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হা হা রিয়েক্টের কারণেই হামলা: এক মায়ের মৃত্যু সীমান্তের আরএসও’র গুলির পর বৈঠার আঘাতে রক্তাক্ত স্থানীয় যুবক কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটির যাত্রা: নিজস্ব প্রোডাকশনে স্থানীয় সিনেমা নির্মাণ ও সিনেমা হল ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ রহিম উল্লাহ খান রানা শহর ছাত্রদলের সভাপতি পদে আলোচনায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে আনোয়ারী- “সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে” চকরিয়ায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার ৩০ পর্যটক অসুস্থের ঘটনায় আল্-গণিতে যৌথ অভিযান, ৫০ হাজার টাকা দন্ড বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী হতদরিদ্রদের চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করবে সরকার রাষ্ট্র ও সমাজকে মেরামত করতে হবে : তথ্যমন্ত্রী সারাদেশে ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে ১৩ জেলায় অব্যাহত থাকবে তাপপ্রবাহ সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস আজ সাংবাদিক মুজিবকে হেনস্থা- উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের বিবৃতি ও নিন্দা পানের দোকানি থেকে উখিয়া সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি-মুন্নার উত্থান যেভাবে

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মায়ের পর চলে গেল ছেলে

  • টিটিএন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১২:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 232

চট্টগ্রামে হালিশহরের একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে মায়ের পর চলে গেল তার কিশোর সন্তান।

১৬ বছর বয়সী শাওন শ্বসনালীসহ শরীরে ৫০ শতাংশ পোড়া নিয়ে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এমএইচডিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে শাওন মারা গেছে বলে ইনস্টিটিউটে সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন।

এর আগে সোমবার গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার পথে শাওনের মা ৪০ বছর বয়সী নুরজাহান আক্তার রানী মারা গেছেন। এ নিয়ে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হল।

সোমবার সন্ধ্যায় ৯ জনকে হাসপাতালে গ্রহণ করার পর শাওন বিন রহমান বলেছিলেন, “এখানে পৌঁছানোর আগেই রানীর মৃত্যু হয়, বাকি আট জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।”

সোমবার ভোর সাড়ে ৪টায় হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ধরে যায়। তারপর শরীরে আগুন নিয়ে ঘর থেকে একে একে সবাই বের হয়ে আসেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হন; তারা সে সময় সেহরি করছিলেন।

মৃত রানী ও শাওন ছাড়া দগ্ধ বাকিরা হলেন- রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬), তার আরেক সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের পর্তুগালপ্রবাসী ছোটভাই সামির আহমেদ (৪০), সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০), তাদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসাইন (৩১)।

দুর্ঘটনার পরপর প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সবার অবস্থাই ‘আশঙ্কাজনক’ বলে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা তখন জানিয়েছিলেন।

এখন চিকিৎসাধীন থাকা পাখি ও সাখাওয়াতের ত্বকে পোড়ার মাত্রা শতভাগ। এছাড়া শিপনের ৮০, সামিরের ৪৫, আইমানের ৩৮, আনাছের ৩০ ও আয়েশার ৪৫ শতাংশ পুড়েছে।

পেশায় গ্যারেজ মালিক সাখাওয়াত হোসেন ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন দেড় বছর আগে। সেখানে তিনি দুই সন্তান, স্ত্রী এবং তার গ্যারেজের এক কর্মচারীসহ পাঁচজন থাকেন। কদিন আগে তার ছোট ভাই পরিবার নিয়ে তার বাসায় আসেন ডাক্তার দেখাতে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের (জোন-১) উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল। চুলার আগুন ধরাতে গিয়ে এ বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়।”

বিস্ফোরণে ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের দরজা জানালা এবং লিফটের দরজাও ভেঙে গেছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

সূত্র:বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

হা হা রিয়েক্টের কারণেই হামলা: এক মায়ের মৃত্যু

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মায়ের পর চলে গেল ছেলে

আপডেট সময় : ১২:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে হালিশহরের একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে মায়ের পর চলে গেল তার কিশোর সন্তান।

১৬ বছর বয়সী শাওন শ্বসনালীসহ শরীরে ৫০ শতাংশ পোড়া নিয়ে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এমএইচডিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে শাওন মারা গেছে বলে ইনস্টিটিউটে সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন।

এর আগে সোমবার গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার পথে শাওনের মা ৪০ বছর বয়সী নুরজাহান আক্তার রানী মারা গেছেন। এ নিয়ে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হল।

সোমবার সন্ধ্যায় ৯ জনকে হাসপাতালে গ্রহণ করার পর শাওন বিন রহমান বলেছিলেন, “এখানে পৌঁছানোর আগেই রানীর মৃত্যু হয়, বাকি আট জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।”

সোমবার ভোর সাড়ে ৪টায় হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ধরে যায়। তারপর শরীরে আগুন নিয়ে ঘর থেকে একে একে সবাই বের হয়ে আসেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছিলেন।

দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হন; তারা সে সময় সেহরি করছিলেন।

মৃত রানী ও শাওন ছাড়া দগ্ধ বাকিরা হলেন- রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬), তার আরেক সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের পর্তুগালপ্রবাসী ছোটভাই সামির আহমেদ (৪০), সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০), তাদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসাইন (৩১)।

দুর্ঘটনার পরপর প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সবার অবস্থাই ‘আশঙ্কাজনক’ বলে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা তখন জানিয়েছিলেন।

এখন চিকিৎসাধীন থাকা পাখি ও সাখাওয়াতের ত্বকে পোড়ার মাত্রা শতভাগ। এছাড়া শিপনের ৮০, সামিরের ৪৫, আইমানের ৩৮, আনাছের ৩০ ও আয়েশার ৪৫ শতাংশ পুড়েছে।

পেশায় গ্যারেজ মালিক সাখাওয়াত হোসেন ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন দেড় বছর আগে। সেখানে তিনি দুই সন্তান, স্ত্রী এবং তার গ্যারেজের এক কর্মচারীসহ পাঁচজন থাকেন। কদিন আগে তার ছোট ভাই পরিবার নিয়ে তার বাসায় আসেন ডাক্তার দেখাতে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের (জোন-১) উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল। চুলার আগুন ধরাতে গিয়ে এ বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়।”

বিস্ফোরণে ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের দরজা জানালা এবং লিফটের দরজাও ভেঙে গেছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

সূত্র:বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম