ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২ দিনের সফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার আসছেন শুক্রবার বিশ্ব সাপ দিবস আজ লোহাগাড়ায় আসছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিদর্শন করবেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা কক্সবাজারে জুলাই শহিদ দিবস পালিত জননেতা নুরুল আবছারের বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন : আইসিইউতে স্থানান্তর বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্যের ট্যাকটিক্যাল লড়াই আন্দোলনকারীদের অনেকেই প্রকৃত শিক্ষার্থী নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবু সাঈদ এই আন্দোলনের শহীদদের ইমাম: নাহিদ ইসলাম ৭৫ মিনিটের পর ১১ গোল: আর্জেন্টিনা যেন ঘুরে দাঁড়ানোর অন্য নাম ৭৫ মিনিটের পর ১১ গোল, ক্যারিশমাটিক কামব্যাকের মহাকাব্য লিখছে আর্জেন্টিনা শ্রাবণের প্রথম দিন আজ চট্টগ্রামে কনফিডেন্স লবণ কারখানায় আগুন, দগ্ধ ১০ শ্রমিক ঘনীভূত হতে পারে লঘুচাপ, সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মানুষের সুস্থতাই একটি জনপদের প্রার্থনা

খুনিয়া পালংয়ে বন্য হাতির আক্রমণে মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

রামু উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে এক মা ও তার শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন, ছেমন আরা (২৫) ও তার তিন বছর বয়সী মেয়ে আসমা বিবি। তারা মো. একরাম মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান।

স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ভোরের দিকে হঠাৎ করে তিনটি বন্য হাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিরা সৈয়দ কলোনীর কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলতে শুরু করে। এতে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

তার ভাষ্য, শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী ছেমন আরা। তাদের সঙ্গে ছিল দুই শিশু সন্তান। এ সময় দুটি হাতি তাদের দিকে তেড়ে এলে একরাম মিয়া ছয় বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত বাড়ির পেছনে গিয়ে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আছমা বিবি ও তার ছোট কন্যা আসমা বিবি হাতির আক্রমণের মুখে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল জানান, হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। হাতিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আশপাশের গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পরে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।

তিনি নিশ্চিত করেন, আক্রান্ত পরিবারটি রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা বনবিভাগের জমিতে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

এদিকে বেলাল উদ্দিন উদ্বেগ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের সন্ধানে বন্য হাতির পালটি খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। ফলে পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে জনজীবন হয়ে উঠেছে অনিরাপদ।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটির পর হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে প্রবেশ করানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মাজেদের দাবি, বনাঞ্চল উজাড় এবং মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে বন্য প্রাণী ও মানুষের সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তার।

রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-পরিদর্শক শেখ আব্দুস সবুর মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছেন। পরে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি অপমৃত্যুর ঘটনা হিসেবে মামলা রুজু করা হবে বলে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

২ দিনের সফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার আসছেন শুক্রবার

খুনিয়া পালংয়ে বন্য হাতির আক্রমণে মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় : ০১:০৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

রামু উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে এক মা ও তার শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন, ছেমন আরা (২৫) ও তার তিন বছর বয়সী মেয়ে আসমা বিবি। তারা মো. একরাম মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান।

স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ভোরের দিকে হঠাৎ করে তিনটি বন্য হাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিরা সৈয়দ কলোনীর কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলতে শুরু করে। এতে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

তার ভাষ্য, শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী ছেমন আরা। তাদের সঙ্গে ছিল দুই শিশু সন্তান। এ সময় দুটি হাতি তাদের দিকে তেড়ে এলে একরাম মিয়া ছয় বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত বাড়ির পেছনে গিয়ে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আছমা বিবি ও তার ছোট কন্যা আসমা বিবি হাতির আক্রমণের মুখে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল জানান, হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। হাতিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আশপাশের গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পরে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।

তিনি নিশ্চিত করেন, আক্রান্ত পরিবারটি রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা বনবিভাগের জমিতে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

এদিকে বেলাল উদ্দিন উদ্বেগ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের সন্ধানে বন্য হাতির পালটি খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। ফলে পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে জনজীবন হয়ে উঠেছে অনিরাপদ।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটির পর হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে প্রবেশ করানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মাজেদের দাবি, বনাঞ্চল উজাড় এবং মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে বন্য প্রাণী ও মানুষের সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তার।

রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-পরিদর্শক শেখ আব্দুস সবুর মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছেন। পরে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি অপমৃত্যুর ঘটনা হিসেবে মামলা রুজু করা হবে বলে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে।