ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিবাদের পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে কুতুপালংয়ের ৩ শ পরিবার, সিআইসির প্রত্যাহার দাবী বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’ পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফে দুই বোটসহ ৭ জেলে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি পেকুয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষ: দুই যাত্রীর মৃত্যু কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব মনোনীত হলেন সাংবাদিক আবুল কাশেম রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে ইইউর সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী মনছুর আটক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি কাজল -রোহিঙ্গা ক্যাম্প মাদক ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির হেড কোয়ার্টার শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫’র পেছনে না ছুটে, সৃজনশীল হোক: শিক্ষামন্ত্রী গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্তে ১১ স্কাইডাইভার ও পাইলট নিহত

কেঁচো সারে চুনতির কাইছারের ভাগ্যবদল

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি গ্রামের যুবক কাইছার খান কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজের ভাগ্য বদল করেছেন।

ছোটবেলা থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও পারিবারিক কারণে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। তবে ২০২০ সালের করোনাকালে মায়ের মৃত্যুর পর গ্রামে ফিরে এসে শুরু করেন জৈব ও কেঁচো সার উৎপাদনের কাজ।

শুরুতে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি ঢাকায় গিয়ে গাজীপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল গ্যাপ থেকেও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রথমদিকে তার উৎপাদিত জৈব সার পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে উন্নতমানের সার উৎপাদনে সফল হন।

বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত “সুপার অর্গানিক ফার্টিলাইজার লিমিটেড” থেকে উৎপাদিত জৈব ও কেঁচো সার সাতকানিয়া, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষিজমিতে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ছে এবং মাটির উর্বরতা বজায় থাকছে।

কাইছার খান জানান, প্রতি মাসে তিনি ২০–৩০ টন জৈব ও কেঁচো সার বিক্রি করেন। প্রতি কেজি জৈব সার ১২ টাকা এবং কেঁচো সার ১৫ টাকায় বিক্রি করে খরচ বাদে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, প্রতি মাসে তিনি কাইছার খানের কাছ থেকে কয়েক টন জৈব ও কেঁচো সার ক্রয় করেন।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসাইন বলেন, রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে কৃষকদের মধ্যে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। তাই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারের ব্যবহার জরুরি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী সফিউল ইসলাম বলেন, বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে জৈব সারের বিকল্প নেই। কাইছার খানের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবাদের পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে কুতুপালংয়ের ৩ শ পরিবার, সিআইসির প্রত্যাহার দাবী

কেঁচো সারে চুনতির কাইছারের ভাগ্যবদল

আপডেট সময় : ০৫:০৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি গ্রামের যুবক কাইছার খান কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজের ভাগ্য বদল করেছেন।

ছোটবেলা থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও পারিবারিক কারণে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। তবে ২০২০ সালের করোনাকালে মায়ের মৃত্যুর পর গ্রামে ফিরে এসে শুরু করেন জৈব ও কেঁচো সার উৎপাদনের কাজ।

শুরুতে কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি ঢাকায় গিয়ে গাজীপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল গ্যাপ থেকেও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রথমদিকে তার উৎপাদিত জৈব সার পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে উন্নতমানের সার উৎপাদনে সফল হন।

বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত “সুপার অর্গানিক ফার্টিলাইজার লিমিটেড” থেকে উৎপাদিত জৈব ও কেঁচো সার সাতকানিয়া, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষিজমিতে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ছে এবং মাটির উর্বরতা বজায় থাকছে।

কাইছার খান জানান, প্রতি মাসে তিনি ২০–৩০ টন জৈব ও কেঁচো সার বিক্রি করেন। প্রতি কেজি জৈব সার ১২ টাকা এবং কেঁচো সার ১৫ টাকায় বিক্রি করে খরচ বাদে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, প্রতি মাসে তিনি কাইছার খানের কাছ থেকে কয়েক টন জৈব ও কেঁচো সার ক্রয় করেন।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসাইন বলেন, রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে কৃষকদের মধ্যে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। তাই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারের ব্যবহার জরুরি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী সফিউল ইসলাম বলেন, বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে জৈব সারের বিকল্প নেই। কাইছার খানের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।