ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে সেখানেই: প্রধানমন্ত্রী সংলাপ, অংশীদারত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধায় আঞ্চলিক–বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশকে ইনভেস্টমেন্ট হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পর্যটন প্রকল্প, সমঝোতা স্মারক সই বিএনপি নেতা এনামুল হকের কন্যা ইয়ারিন মারা গেছেন চলছে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ১৭ বাস টার্মিনালে কুলসুমা হত্যা: এরফানকে প্রধান আসামি করে মামলা জানাজায় মানুষের উপস্থিতি প্রমান করে সাহাব উদ্দিন সিকদার ছিলেন গণমানুষের নেতা” দেশের ১৫ গুণী শিক্ষকের তালিকায় পেকুয়ার ইলিয়াস রামু কেন্দ্রীয় প্রবারণা ও কল্প জাহাজ ভাসা উৎসব উদযাপন পরিষদ গঠিত আকাশ পথে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফিরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেফতার বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন বাহারছড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেলেন ১১’শ রোগী রামুতে সাংবাদিক কাশেমের মায়ের জানাজা সম্পন্ন

কক্সবাজারে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পর্যটন প্রকল্প, সমঝোতা স্মারক সই

কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলে পাঁচ তারকা মানের পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আসতে পারে। শনিবার কুয়ালালামপুরের পুলম্যান হোটেলে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

স্মারকে সই করেছেন মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী ও হোটেল-রিসোর্ট উদ্যোক্তা তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো, মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিব এবং বাংলাদেশের ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার-টেকনাফে বড় পরিসরে একটি টেকসই, বিলাসবহুল ও পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশে একটি যৌথ বিনিয়োগ কোম্পানি গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত অবকাশকেন্দ্রে থাকবে বিলাসবহুল হোটেল ও ভিলা, আন্তর্জাতিক মানের রেস্তোরাঁ এবং স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র। এ ছাড়া বিনোদন সুবিধা ও প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন অবকাঠামো রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের পরিচালনা ও ব্র্যান্ড অংশীদারিত্ব নিয়ে বিশ্বখ্যাত কয়েকটি হোটেল ব্র্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে মুভেনপিক, নভোটেল ও গ্র্যান্ড হায়াত। বাণিজ্যিক আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে হোটেল ব্র্যান্ড ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করা হবে।

তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো মালয়েশিয়ার হোটেল ও পর্যটন খাতের পরিচিত উদ্যোক্তা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও অবকাশকেন্দ্র গড়ার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে ফোর সিজনস কুয়ালালামপুর, কনকর্ড হোটেল, কাসা ডেল মার লাংকাউই, কাসা ডেল রিও মালাক্কা, জেডব্লিউ ম্যারিয়ট রিসোর্ট, হার্ড রক হোটেল পেনাং ও হার্ড রক ক্যাফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

স্মারক সইয়ের পর তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনের নতুন অধ্যায়ের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত ও সম্মানিত। কক্সবাজারে পাঁচ তারকা পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র গড়ার সম্ভাবনাকে তিনি আকর্ষণীয় ও বিনিয়োগবান্ধব বলে মনে করেন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান বলেও জানান তিনি।

মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিবও সরকারি ও পর্যটন খাতের অভিজ্ঞতা এ প্রকল্পে কাজে লাগাতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, মালদ্বীপের পর্যটন উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে প্রয়োগের এটি অসাধারণ সুযোগ। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ার বিপুল সম্ভাবনা আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও বিনিয়োগ দিয়ে উদ্যোগে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আহমেদ আদিব।

ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান বলেন, দেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসা দেশের প্রতি দায়িত্ব ও দেশপ্রেমের অংশ। অভিজ্ঞ দুই ব্যক্তিত্বের বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদার হতে চাওয়াকে তিনি আনন্দ ও গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমরা শুধু একটি হোটেল নির্মাণ করতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য কক্সবাজারে এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র তৈরি করা, যা বাংলাদেশের পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরবে।

প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের এ বিনিয়োগ এখনো নিশ্চিত নয়। এটি নির্ভর করছে সম্ভাব্যতা যাচাই, বিস্তারিত পর্যালোচনা ও প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের ওপর। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন এবং চূড়ান্ত বিনিয়োগ চুক্তিও বাকি আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতকে কাজে লাগিয়ে এ প্রকল্প করা হবে। লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য একটি বিশ্বমানের, টেকসই ও বিলাসবহুল পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলা।

সূত্র: ডেইলি সান
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পর্যটন প্রকল্প, সমঝোতা স্মারক সই

আপডেট সময় : ১২:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চলে পাঁচ তারকা মানের পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আসতে পারে। শনিবার কুয়ালালামপুরের পুলম্যান হোটেলে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

স্মারকে সই করেছেন মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী ও হোটেল-রিসোর্ট উদ্যোক্তা তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো, মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিব এবং বাংলাদেশের ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার-টেকনাফে বড় পরিসরে একটি টেকসই, বিলাসবহুল ও পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশে একটি যৌথ বিনিয়োগ কোম্পানি গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত অবকাশকেন্দ্রে থাকবে বিলাসবহুল হোটেল ও ভিলা, আন্তর্জাতিক মানের রেস্তোরাঁ এবং স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র। এ ছাড়া বিনোদন সুবিধা ও প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন অবকাঠামো রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের পরিচালনা ও ব্র্যান্ড অংশীদারিত্ব নিয়ে বিশ্বখ্যাত কয়েকটি হোটেল ব্র্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে মুভেনপিক, নভোটেল ও গ্র্যান্ড হায়াত। বাণিজ্যিক আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে হোটেল ব্র্যান্ড ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করা হবে।

তান শ্রী সৈয়দ ইউসুফ জোজো মালয়েশিয়ার হোটেল ও পর্যটন খাতের পরিচিত উদ্যোক্তা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও অবকাশকেন্দ্র গড়ার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে ফোর সিজনস কুয়ালালামপুর, কনকর্ড হোটেল, কাসা ডেল মার লাংকাউই, কাসা ডেল রিও মালাক্কা, জেডব্লিউ ম্যারিয়ট রিসোর্ট, হার্ড রক হোটেল পেনাং ও হার্ড রক ক্যাফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

স্মারক সইয়ের পর তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনের নতুন অধ্যায়ের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত ও সম্মানিত। কক্সবাজারে পাঁচ তারকা পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র গড়ার সম্ভাবনাকে তিনি আকর্ষণীয় ও বিনিয়োগবান্ধব বলে মনে করেন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান বলেও জানান তিনি।

মালদ্বীপের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আদিবও সরকারি ও পর্যটন খাতের অভিজ্ঞতা এ প্রকল্পে কাজে লাগাতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, মালদ্বীপের পর্যটন উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে প্রয়োগের এটি অসাধারণ সুযোগ। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ার বিপুল সম্ভাবনা আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও বিনিয়োগ দিয়ে উদ্যোগে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আহমেদ আদিব।

ভার্সাটিলো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান বলেন, দেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসা দেশের প্রতি দায়িত্ব ও দেশপ্রেমের অংশ। অভিজ্ঞ দুই ব্যক্তিত্বের বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদার হতে চাওয়াকে তিনি আনন্দ ও গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমরা শুধু একটি হোটেল নির্মাণ করতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য কক্সবাজারে এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব অবকাশকেন্দ্র তৈরি করা, যা বাংলাদেশের পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরবে।

প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের এ বিনিয়োগ এখনো নিশ্চিত নয়। এটি নির্ভর করছে সম্ভাব্যতা যাচাই, বিস্তারিত পর্যালোচনা ও প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের ওপর। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন এবং চূড়ান্ত বিনিয়োগ চুক্তিও বাকি আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতকে কাজে লাগিয়ে এ প্রকল্প করা হবে। লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য একটি বিশ্বমানের, টেকসই ও বিলাসবহুল পর্যটন গন্তব্য গড়ে তোলা।

সূত্র: ডেইলি সান