ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিটি কলেজ গেটে গুলিবিদ্ধ নির্মাণ শ্রমিক একরাম মারা গেছে পা কেটে ভিক্ষায় বাধ্য করা কিশোর বাড়ী ফিরলো সাত মাস পর টেকনাফের সাবরাং থেকে ৬ লাখ ১৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযান : ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ২০ পেকুয়ায় উপকূলীয় প্যারাবন কেটে চলছে ঘের তৈরির মহোৎসব কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন টেকনাফে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মৃত্যু জুতা নিক্ষেপের ঘটনায় জিনিয়াসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলার আবেদন জেলা দলের গোলরক্ষক সাঈদী উপর হামলার প্রতিবাদে মহেশখালীতে মানববন্ধন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ‍্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: আরও ৪০ জন গ্রেপ্তার আদানির বিকল ইউনিট সচল, দুপুরের মধ্যে বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ঈদগাঁওয়ের ফিরুজ-মিফতাসহ নিহত ৩ লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার: চুক্তি শেষ, সেবা বন্ধ; দুর্ঘটনাহতদের ‘শেষ আশ্রয়’ এখন অচল ইয়াবা কারবারি ধরবে এআই ক্যামেরা! কক্সবাজার-বান্দরবানের ১১ পয়েন্ট নিয়ে পুলিশের নতুন পরিকল্পনা

কক্সবাজারে হাম রোগ: বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা,ভর্তি ৩৫ শিশু

কক্সবাজারে আশংকাজনহারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় সোমবার একদিনে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন শিশু। এছাড়া বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি রয়েছে হাম আক্রান্ত আরো ৫ শিশু।

রামু উপজেলার মিঠাছড়ির বাসিন্দা মরিয়ম বেগম জানান, গত কয়েকদিন ধরে চরম উদ্বেগের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। ঈদের পরদিন থেকেই তার দুই যমজ শিশুকে নিয়ে ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। শুরুতে সাধারণ জ্বর ও কাশি মনে হলেও সপ্তাহখানেক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পর ধরা পড়ে শিশুরা আসলে হামে আক্রান্ত। বর্তমানে তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
​মরিয়ম বেগমের মতো একই পরিস্থিতির শিকার মহেশখালীর শাপলাপুর থেকে আসা রুমা আক্তার এবং শহরের শাহীনুর আক্তারের পরিবারও। তাদের শিশুরাও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হাম শনাক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী মায়েদের চোখে-মুখে এখন কেবলই সন্তানদের দ্রুত সুস্থতার আকুতি।

​সাম্প্রতিক সময়ে জেলাজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং কক্সবাজার শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে একটি আলাদা ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ খোলা হয়েছে। সেখানে ডেডিকেটেড নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলেও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

​কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, আক্রান্ত শিশুদের সেবায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মূলত ভিটামিন-এ-এর অভাবেই হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

​এদিকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে জেলায় ৫৩ জন শিশুকে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন। তবে আতঙ্কের কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

​চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। শিশুদের জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে এবং পাড়ার ফার্মেসিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসা না করিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সিটি কলেজ গেটে গুলিবিদ্ধ নির্মাণ শ্রমিক একরাম মারা গেছে

কক্সবাজারে হাম রোগ: বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা,ভর্তি ৩৫ শিশু

আপডেট সময় : ০৭:৩২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারে আশংকাজনহারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় সোমবার একদিনে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন শিশু। এছাড়া বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি রয়েছে হাম আক্রান্ত আরো ৫ শিশু।

রামু উপজেলার মিঠাছড়ির বাসিন্দা মরিয়ম বেগম জানান, গত কয়েকদিন ধরে চরম উদ্বেগের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। ঈদের পরদিন থেকেই তার দুই যমজ শিশুকে নিয়ে ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। শুরুতে সাধারণ জ্বর ও কাশি মনে হলেও সপ্তাহখানেক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পর ধরা পড়ে শিশুরা আসলে হামে আক্রান্ত। বর্তমানে তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
​মরিয়ম বেগমের মতো একই পরিস্থিতির শিকার মহেশখালীর শাপলাপুর থেকে আসা রুমা আক্তার এবং শহরের শাহীনুর আক্তারের পরিবারও। তাদের শিশুরাও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হাম শনাক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী মায়েদের চোখে-মুখে এখন কেবলই সন্তানদের দ্রুত সুস্থতার আকুতি।

​সাম্প্রতিক সময়ে জেলাজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং কক্সবাজার শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে একটি আলাদা ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ খোলা হয়েছে। সেখানে ডেডিকেটেড নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলেও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

​কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, আক্রান্ত শিশুদের সেবায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মূলত ভিটামিন-এ-এর অভাবেই হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

​এদিকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে জেলায় ৫৩ জন শিশুকে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন। তবে আতঙ্কের কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

​চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। শিশুদের জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে এবং পাড়ার ফার্মেসিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসা না করিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।