ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও ৩৬৭ কোটি টাকা পাচ্ছে ব্রাজিল ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাগরে নিম্নচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন দিবস আজ ভারীবর্ষণে পাহাড়ধস – একরাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহত ৮,শহরে ১ জনের মৃত্যু গেলো ২৪ ঘন্টায় ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি : বাড়ছে পাহাড় ধসের ঝুঁকি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড(পশ্চিম) শাখা যুবদলের সভাপতি মিজান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ‎ ওয়াটার সেইফটি এন্ড ড্রাউনিং প্রিভেনশন: জেসিআই কক্সবাজারের ‘বে গার্ডিয়ানস ইনিশিয়েটিভ’র উদ্বোধন অপহরণের এক সপ্তাহ পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরলেন বাহারছড়ার পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিন টেকনাফে শ্রমিক ফেডারেশনের নেতার হাতে শিবির কর্মী খুন,বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলোনা নিহত শফিউল্লাহর লোহাগাড়ায় ডাম্পার-সিএনজির সংঘর্ষ,আহত-৪ কক্সবাজারে একদিনে ঝরল তিনটি প্রাণ বাংলাদেশের ফুটবলের ‘গেম চেঞ্জার’ হবে রামু, আসছে ফিফার ৮৮ কোটি টাকার টেকনিক্যাল সেন্টার বাংলাদেশে আরাকান আর্মি প্রধানের চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য নেই

কক্সবাজারে হাম রোগ: বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা,ভর্তি ৩৫ শিশু

কক্সবাজারে আশংকাজনহারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় সোমবার একদিনে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন শিশু। এছাড়া বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি রয়েছে হাম আক্রান্ত আরো ৫ শিশু।

রামু উপজেলার মিঠাছড়ির বাসিন্দা মরিয়ম বেগম জানান, গত কয়েকদিন ধরে চরম উদ্বেগের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। ঈদের পরদিন থেকেই তার দুই যমজ শিশুকে নিয়ে ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। শুরুতে সাধারণ জ্বর ও কাশি মনে হলেও সপ্তাহখানেক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পর ধরা পড়ে শিশুরা আসলে হামে আক্রান্ত। বর্তমানে তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
​মরিয়ম বেগমের মতো একই পরিস্থিতির শিকার মহেশখালীর শাপলাপুর থেকে আসা রুমা আক্তার এবং শহরের শাহীনুর আক্তারের পরিবারও। তাদের শিশুরাও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হাম শনাক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী মায়েদের চোখে-মুখে এখন কেবলই সন্তানদের দ্রুত সুস্থতার আকুতি।

​সাম্প্রতিক সময়ে জেলাজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং কক্সবাজার শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে একটি আলাদা ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ খোলা হয়েছে। সেখানে ডেডিকেটেড নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলেও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

​কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, আক্রান্ত শিশুদের সেবায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মূলত ভিটামিন-এ-এর অভাবেই হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

​এদিকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে জেলায় ৫৩ জন শিশুকে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন। তবে আতঙ্কের কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

​চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। শিশুদের জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে এবং পাড়ার ফার্মেসিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসা না করিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজারে হাম রোগ: বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা,ভর্তি ৩৫ শিশু

আপডেট সময় : ০৭:৩২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারে আশংকাজনহারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় সোমবার একদিনে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন শিশু। এছাড়া বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি রয়েছে হাম আক্রান্ত আরো ৫ শিশু।

রামু উপজেলার মিঠাছড়ির বাসিন্দা মরিয়ম বেগম জানান, গত কয়েকদিন ধরে চরম উদ্বেগের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। ঈদের পরদিন থেকেই তার দুই যমজ শিশুকে নিয়ে ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। শুরুতে সাধারণ জ্বর ও কাশি মনে হলেও সপ্তাহখানেক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পর ধরা পড়ে শিশুরা আসলে হামে আক্রান্ত। বর্তমানে তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
​মরিয়ম বেগমের মতো একই পরিস্থিতির শিকার মহেশখালীর শাপলাপুর থেকে আসা রুমা আক্তার এবং শহরের শাহীনুর আক্তারের পরিবারও। তাদের শিশুরাও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হাম শনাক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী মায়েদের চোখে-মুখে এখন কেবলই সন্তানদের দ্রুত সুস্থতার আকুতি।

​সাম্প্রতিক সময়ে জেলাজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং কক্সবাজার শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে একটি আলাদা ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ খোলা হয়েছে। সেখানে ডেডিকেটেড নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলেও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

​কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, আক্রান্ত শিশুদের সেবায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মূলত ভিটামিন-এ-এর অভাবেই হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

​এদিকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে জেলায় ৫৩ জন শিশুকে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন। তবে আতঙ্কের কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

​চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। শিশুদের জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে এবং পাড়ার ফার্মেসিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসা না করিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।