ঢাকা ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’ পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফে দুই বোটসহ ৭ জেলে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি পেকুয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষ: দুই যাত্রীর মৃত্যু কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব মনোনীত হলেন সাংবাদিক আবুল কাশেম রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে ইইউর সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী মনছুর আটক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি কাজল -রোহিঙ্গা ক্যাম্প মাদক ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির হেড কোয়ার্টার শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫’র পেছনে না ছুটে, সৃজনশীল হোক: শিক্ষামন্ত্রী গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্তে ১১ স্কাইডাইভার ও পাইলট নিহত চকরিয়ার দুই মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ, ‎সন্ধান চায় পরিবার

কক্সবাজারে হাম রোগ: বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা,ভর্তি ৩৫ শিশু

কক্সবাজারে আশংকাজনহারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় সোমবার একদিনে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন শিশু। এছাড়া বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি রয়েছে হাম আক্রান্ত আরো ৫ শিশু।

রামু উপজেলার মিঠাছড়ির বাসিন্দা মরিয়ম বেগম জানান, গত কয়েকদিন ধরে চরম উদ্বেগের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। ঈদের পরদিন থেকেই তার দুই যমজ শিশুকে নিয়ে ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। শুরুতে সাধারণ জ্বর ও কাশি মনে হলেও সপ্তাহখানেক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পর ধরা পড়ে শিশুরা আসলে হামে আক্রান্ত। বর্তমানে তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
​মরিয়ম বেগমের মতো একই পরিস্থিতির শিকার মহেশখালীর শাপলাপুর থেকে আসা রুমা আক্তার এবং শহরের শাহীনুর আক্তারের পরিবারও। তাদের শিশুরাও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হাম শনাক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী মায়েদের চোখে-মুখে এখন কেবলই সন্তানদের দ্রুত সুস্থতার আকুতি।

​সাম্প্রতিক সময়ে জেলাজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং কক্সবাজার শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে একটি আলাদা ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ খোলা হয়েছে। সেখানে ডেডিকেটেড নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলেও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

​কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, আক্রান্ত শিশুদের সেবায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মূলত ভিটামিন-এ-এর অভাবেই হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

​এদিকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে জেলায় ৫৩ জন শিশুকে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন। তবে আতঙ্কের কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

​চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। শিশুদের জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে এবং পাড়ার ফার্মেসিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসা না করিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি!

কক্সবাজারে হাম রোগ: বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা,ভর্তি ৩৫ শিশু

আপডেট সময় : ০৭:৩২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারে আশংকাজনহারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় সোমবার একদিনে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন শিশু। এছাড়া বেসরকারি জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি রয়েছে হাম আক্রান্ত আরো ৫ শিশু।

রামু উপজেলার মিঠাছড়ির বাসিন্দা মরিয়ম বেগম জানান, গত কয়েকদিন ধরে চরম উদ্বেগের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন। ঈদের পরদিন থেকেই তার দুই যমজ শিশুকে নিয়ে ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। শুরুতে সাধারণ জ্বর ও কাশি মনে হলেও সপ্তাহখানেক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পর ধরা পড়ে শিশুরা আসলে হামে আক্রান্ত। বর্তমানে তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
​মরিয়ম বেগমের মতো একই পরিস্থিতির শিকার মহেশখালীর শাপলাপুর থেকে আসা রুমা আক্তার এবং শহরের শাহীনুর আক্তারের পরিবারও। তাদের শিশুরাও জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হাম শনাক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী মায়েদের চোখে-মুখে এখন কেবলই সন্তানদের দ্রুত সুস্থতার আকুতি।

​সাম্প্রতিক সময়ে জেলাজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি এবং কক্সবাজার শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলী ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে একটি আলাদা ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ খোলা হয়েছে। সেখানে ডেডিকেটেড নার্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলেও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

​কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, আক্রান্ত শিশুদের সেবায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মূলত ভিটামিন-এ-এর অভাবেই হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।

​এদিকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে জেলায় ৫৩ জন শিশুকে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩০ জন। তবে আতঙ্কের কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

​চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। শিশুদের জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে এবং পাড়ার ফার্মেসিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসা না করিয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।