ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একদিনে কক্সবাজারে ৮ প্রাণহানি সেন্টমার্টিনে “ভূতুড়ে জাল ও প্লাস্টিক” সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন, ১৫০ কেজি ভূতুড়ে জাল সংগ্রহ ৫ মাস ২১ দিন পর আবারও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে “বিপজ্জনক এলাকা” নির্দেশক লাল পতাকা কক্সবাজারে ২৪ ঘণ্টায় ৩১ মিমি বৃষ্টি, ৪ দিনের ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা স্টাফ কোয়ার্টারে রেস্টুরেন্টকর্মীর মরদেহ উদ্ধার ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, ৩ দালালসহ ৭২ জন আটক বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজার সৈকতে পর্যটক কম, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি কক্সবাজারে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রক্ষা পেল মেরিন ড্রাইভের তিন হাজার গাছ মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারচক্রের মূলহোতাসহ ১৪ জন আটক নাইক্ষ্যংছড়ির শাকিব সুযোগ পেল পোল্যান্ড জাতীয় ক্রীকেট দলে  আইওএম’র গাড়ির ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশু নিহত, উত্তেজনা ভুল নকশায় সয়লাব সামাজিক মাধ্যম, কক্সবাজার সরকারি কলেজ গেইটের ডিজাইন এখনো চূড়ান্ত নয় ঈদগাঁওয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে বৃদ্ধের আত্মহত্যা বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

উখিয়ায় মিয়ানমারে পাচারের জন্য মজুদ রাখা ২১৩ বস্তা সার জব্দ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার দক্ষিণ স্টেশনে মেসার্স এস. কে অটো রাইচ মিলে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা ২১৩ বস্তায় প্রায় ১১ টন অবৈধ সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস।

বৃহস্পতিবার (০৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার ও উখিয়া থানার পুলিশ সদস্যরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উক্ত রাইচ মিলে মোট ৩০০ বস্তা অনুমোদনহীন সার মজুদ ছিল। তবে অভিযানের সময় ২১৩ বস্তা সার জব্দ করা সম্ভব হয়। বাকি ৮৭ বস্তা গোপন স্থানে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশিষ্ট সার উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস. কে অটো রাইচ মিল এর মালিক আলহাজ্ব এম কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার বলেন, কৃষকদের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে কেউ যদি অবৈধভাবে সার মজুদ বা পাচারের চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অভিযান তারই অংশ।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিযানে অংশ নিয়েছি। যেসব ব্যক্তি এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, চলতি মাসে তার সার বরাদ্দ ছিলো ১১ টন কিন্তু তিনি আরও ১১ টন সার অবৈধভাবে মজুদ করেছে৷ কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার মজুদ করে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে—এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা নিয়মিত নজরদারি করছি৷ অভিযানে ২১৩ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধার করা সার সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে। গতমাসেও মিয়ানমারে অবৈধভাবে মজুদ করা ৩৬০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ হয়েছিলো৷

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

একদিনে কক্সবাজারে ৮ প্রাণহানি

উখিয়ায় মিয়ানমারে পাচারের জন্য মজুদ রাখা ২১৩ বস্তা সার জব্দ

আপডেট সময় : ০২:২১:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার দক্ষিণ স্টেশনে মেসার্স এস. কে অটো রাইচ মিলে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা ২১৩ বস্তায় প্রায় ১১ টন অবৈধ সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস।

বৃহস্পতিবার (০৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার ও উখিয়া থানার পুলিশ সদস্যরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উক্ত রাইচ মিলে মোট ৩০০ বস্তা অনুমোদনহীন সার মজুদ ছিল। তবে অভিযানের সময় ২১৩ বস্তা সার জব্দ করা সম্ভব হয়। বাকি ৮৭ বস্তা গোপন স্থানে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশিষ্ট সার উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস. কে অটো রাইচ মিল এর মালিক আলহাজ্ব এম কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার বলেন, কৃষকদের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে কেউ যদি অবৈধভাবে সার মজুদ বা পাচারের চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অভিযান তারই অংশ।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিযানে অংশ নিয়েছি। যেসব ব্যক্তি এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, চলতি মাসে তার সার বরাদ্দ ছিলো ১১ টন কিন্তু তিনি আরও ১১ টন সার অবৈধভাবে মজুদ করেছে৷ কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার মজুদ করে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে—এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা নিয়মিত নজরদারি করছি৷ অভিযানে ২১৩ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ধার করা সার সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে। গতমাসেও মিয়ানমারে অবৈধভাবে মজুদ করা ৩৬০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ হয়েছিলো৷