ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বরকতময় খাবার সেহরি ​টেকনাফে ছাত্রদল নেতা আয়াছুল আলমের ইফতার বিতরণ টেকনাফে এক জালে ১১০০ লাল কোরাল, ৩১ লাখ টাকায় বিক্রি সামনের ইউপি নির্বাচনে সেন্টমার্টিনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী যারা! মায়ের পর বাবার জানাজায় প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দুই ভাই : নিজেদের নির্দোষ দাবি কক্সবাজারের ৪ পৌরসভায় প্রশাসকের আলোচনায় যারা কে হচ্ছেন কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক? চকরিয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন: জড়িতদের আটকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম ফের রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হলেন সরওয়ার আলম আর স্কুলে যাওয়া হবে না ছোট্ট নূরের.. মেরিন ড্রাইভে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত ৬,আশঙ্কাজনক ২ ঘুমধুম সীমান্তে অনুপ্রবেশ, তিন আরকান আর্মি সদস্য আটক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছয় সিটি প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে হবে সিটি নির্বাচন : মির্জা ফখরুল চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মায়ের পর চলে গেল ছেলে
সম্পাদকীয়

আমরা কাকে ভোট দেব; তা নয়, আমরা কী জন্য ভোট দেব?

নির্বাচন এলেই চারপাশে একটাই আলোচনা; কে জিতবে, কে হারবে, কোন দল এগিয়ে। কিন্তু একটু থেমে যদি নিজেকে জিজ্ঞেস করি; আমরা আসলে কী জন্য ভোট দিই? এই প্রশ্নটা কক্সবাজারের মতো জেলায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কক্সবাজারের মানুষ একরকম নয়। কেউ উপকূলে মাছ ধরে, কেউ পাহাড়ে বসবাস করে, কেউ লবণ চাষ করে, কেউ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত, কেউ শহরে দোকান চালায়, কেউ আবার সীমান্ত ঘেঁষা অনিশ্চয়তার ভেতর দিন কাটায়। তাই এখানকার মানুষের কাছে ভোট মানে শুধু দল বা প্রতীক নয়; ভোট মানে জীবন নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত।

তরুণদের কথাই ধরা যাক। তারা অতীতের রাজনৈতিক গল্প খুব একটা টানে না। কে কী আন্দোলন করেছে, কে কবে ক্ষমতায় ছিল, এসব তাদের কাছে বড় বিষয় নয়। তারা জানতে চায়, ভোট দিলে চাকরি হবে কি না, কাজ শেখার সুযোগ মিলবে কি না, ভবিষ্যৎটা একটু নিরাপদ হবে কি না। সহজ কথা, তারা স্লোগান নয়, ফল দেখতে চায়।

নারীরাও একই প্রশ্ন করেন, যদিও অনেক সময় তা খুব নীরবে। নিরাপত্তা থাকবে তো? হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা মিলবে তো? সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারব তো? উপকূলীয় এলাকায় ঝড়; জলোচ্ছ্বাসের ভয় তো আছেই। এসব বাস্তব প্রশ্নের উত্তর না পেলে বড় বড় রাজনৈতিক কথা তাদের মন ছুঁতে পারে না।

আরেকটা বড় প্রশ্ন হলো; ভোট দেওয়া যাবে তো ঠিকভাবে? ভোটকেন্দ্রে গেলে নিরাপদ লাগবে তো? ভোটটা ঠিকমতো গণনা হবে তো? মানুষ শুধু কাকে ভোট দেবে, তা নিয়ে ভাবে না; মানুষ ভাবে, ভোট দেওয়ার মানে আছে তো?

অনেকেই বলেন, ভোট দিয়ে কী হবে; কিছুই তো বদলায় না। এই হতাশা নতুন নয়। কিন্তু এখানেই আসলে সবচেয়ে বড় সুযোগ। যদি মানুষ প্রশ্ন তোলে, দাবি তোলে; ভোটটা কেন দিচ্ছি, কী চাই; তাহলেই রাজনীতির ভাষা বদলাতে বাধ্য হবে।

তাই ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে প্রশ্নটা হওয়া উচিত, কে জিতবে, তা নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই ভোট কি আমাদের কাজ, শিক্ষা, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার পথে নিয়ে যাবে?

ভোট শুধু একটি দিন নয়, এটি আমাদের প্রত্যাশার প্রকাশ। আমরা কাকে ভোট দেব, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আমরা কী জন্য ভোট দেব। এই প্রশ্নটাই যদি সামনে আসে, তাহলেই নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

সম্পাদকীয়

আমরা কাকে ভোট দেব; তা নয়, আমরা কী জন্য ভোট দেব?

আপডেট সময় : ০৭:০৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন এলেই চারপাশে একটাই আলোচনা; কে জিতবে, কে হারবে, কোন দল এগিয়ে। কিন্তু একটু থেমে যদি নিজেকে জিজ্ঞেস করি; আমরা আসলে কী জন্য ভোট দিই? এই প্রশ্নটা কক্সবাজারের মতো জেলায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কক্সবাজারের মানুষ একরকম নয়। কেউ উপকূলে মাছ ধরে, কেউ পাহাড়ে বসবাস করে, কেউ লবণ চাষ করে, কেউ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত, কেউ শহরে দোকান চালায়, কেউ আবার সীমান্ত ঘেঁষা অনিশ্চয়তার ভেতর দিন কাটায়। তাই এখানকার মানুষের কাছে ভোট মানে শুধু দল বা প্রতীক নয়; ভোট মানে জীবন নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত।

তরুণদের কথাই ধরা যাক। তারা অতীতের রাজনৈতিক গল্প খুব একটা টানে না। কে কী আন্দোলন করেছে, কে কবে ক্ষমতায় ছিল, এসব তাদের কাছে বড় বিষয় নয়। তারা জানতে চায়, ভোট দিলে চাকরি হবে কি না, কাজ শেখার সুযোগ মিলবে কি না, ভবিষ্যৎটা একটু নিরাপদ হবে কি না। সহজ কথা, তারা স্লোগান নয়, ফল দেখতে চায়।

নারীরাও একই প্রশ্ন করেন, যদিও অনেক সময় তা খুব নীরবে। নিরাপত্তা থাকবে তো? হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা মিলবে তো? সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারব তো? উপকূলীয় এলাকায় ঝড়; জলোচ্ছ্বাসের ভয় তো আছেই। এসব বাস্তব প্রশ্নের উত্তর না পেলে বড় বড় রাজনৈতিক কথা তাদের মন ছুঁতে পারে না।

আরেকটা বড় প্রশ্ন হলো; ভোট দেওয়া যাবে তো ঠিকভাবে? ভোটকেন্দ্রে গেলে নিরাপদ লাগবে তো? ভোটটা ঠিকমতো গণনা হবে তো? মানুষ শুধু কাকে ভোট দেবে, তা নিয়ে ভাবে না; মানুষ ভাবে, ভোট দেওয়ার মানে আছে তো?

অনেকেই বলেন, ভোট দিয়ে কী হবে; কিছুই তো বদলায় না। এই হতাশা নতুন নয়। কিন্তু এখানেই আসলে সবচেয়ে বড় সুযোগ। যদি মানুষ প্রশ্ন তোলে, দাবি তোলে; ভোটটা কেন দিচ্ছি, কী চাই; তাহলেই রাজনীতির ভাষা বদলাতে বাধ্য হবে।

তাই ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে প্রশ্নটা হওয়া উচিত, কে জিতবে, তা নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই ভোট কি আমাদের কাজ, শিক্ষা, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার পথে নিয়ে যাবে?

ভোট শুধু একটি দিন নয়, এটি আমাদের প্রত্যাশার প্রকাশ। আমরা কাকে ভোট দেব, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আমরা কী জন্য ভোট দেব। এই প্রশ্নটাই যদি সামনে আসে, তাহলেই নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হবে।