ঢাকা ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন প্রবাসীর পাঠানো মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ ও তার স্ত্রী’র চকরিয়ায় পা’চা’রচ’ক্রের নারী সদ’স্য গ্রে’প্তা’র শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা: কক্সবাজারে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সদ্ধর্ম সভার ব্যাপক প্রস্তুতি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বার্মিজ গরুসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি হাইকোর্টের রায়ে শিলখালীর ইউপি চেয়ারম্যান পদে বহাল কামাল হোসেন কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস পালিত চকরিয়ায় বাস চাপায় বিএনপি নেতার মৃত্যু মেরিন ড্রাইভে ‘চান্দের গাড়ি’ বন্ধের দাবি, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত: গণমিছিল সফল করার আহ্বান জামায়াত নেতার টেকনাফের বাহারছড়ায় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ ৭ জেলেকে ধরে নিয়ে গেলো আরাকান আর্মি ‘মায়েরা যথাযথ ভূমিকা পালন করলে ছেলেমেয়েরা অবশ্যই শিক্ষিত হবে’ দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য কক্সবাজারে ৬৩৮ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে, থাকবে জরুরি মেডিক্যাল টিম রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জলাশয়ে নারীর মরদেহ উদ্ধার

২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইটে সেনাবাহিনীতে কর্মরত কক্সবাজারের দুই শহীদ

  • কালাম আজাদ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • 587

গোলাম কাদের (১৯৪০-১৯৭১)

অপারেশন সার্চ লাইটের দিন যে সব বাঙালি সেনা শহীদ হন তাদের অন্যতম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্সনায়েক শহীদ গোলাম কাদের (সৈনিক নং- ১৩১৬২৭৮)। চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের গ্রামের আমজাদ আলী ও আফিয়া খাতুনের গর্বের ধন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ৮ আগস্ট সাহারবিল মাইজপাড়া গ্রামে জন্ম তাঁর। মেট্টিকুলেশন পাশের পর পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যোগদেন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক হিসেবে কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী ল্যান্সনায়েক গোলাম কাদেরসহ কুমিল্লা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে তাদেরকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।’
মুক্তিযোদ্ধার নামীয় তালিকায় ০২০৬০৬০৫২ নম্বরের আইডি এবং ৪৮১৫৪ নম্বরধারী মন্ত্রণালয়ের সনদ, মুক্তিবার্তা নং (লাল বই)- ০২১৩০৩০০৪৬ এবং ৪ জুন ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪০ নম্বর বাংলাদেশ গেজেটে লিপিবদ্ধ আছে এবং বর্তমানে তার তিন পৌষ্য ফরিদা ইয়াসমিন, মাহফুজা বেগম ও সায়েরা বানু শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পান।

ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সদস্য হিসেবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যারা অবদান রেখে শহীদ হন তাদের অন্যতম ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পানখালীর গ্রামের হাজী আবদুস সোবহান ও পরান্নেসা বেগমের পুত্র। চট্টগ্রাম মুসলিম হাই স্কুল থেকে এস এস সি, চট্টগ্রাম ইন্টারমেডিয়েট কলেজ (চট্টগ্রাম সরকারি মহসিন কলেজ) থেকে এইচ এস সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করার পর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে অফিসার ক্যাডেটে সেনা বাহিনীতে যোগ দেন। সেকেণ্ড লে.কর্নেল হিসেবে পাকিস্তানের করাচীতে ২ বছর কর্মরত থাকার পর চট্টগ্রাম সেনা নিবাস হয়ে সর্বশেষ একাত্তরে অসহযোগ আন্দোলনের আগে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়ে পিএস সি ( পিএসএস ১০৭৪৭৬) ’ কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী কুমিলা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে ১৩ জন সৈনিককে একটি গর্তে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এই তের জনের মধ্যে ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদও ছিলেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গর্ত থেকে অন্যান্য সৈনিকের মতো মকবুল আহমদের সোল্ডার বেইজসহ উদ্ধার করা হয়। পরে কুমিল্লা ক্যান্টেনমেন্ট এর ৬ নং সেক্টরে তাকে সমাহিত করা হয়।
হ্নীলা বাসস্টেশন টু পানখালী সড়কটি হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও টেকনাফ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহায়তায় ‘শহীদ ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদ সড়ক’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

কালাম আজাদ: লেখক ও সাংবাদিক।

ট্যাগ :

মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন

২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইটে সেনাবাহিনীতে কর্মরত কক্সবাজারের দুই শহীদ

আপডেট সময় : ১১:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

গোলাম কাদের (১৯৪০-১৯৭১)

অপারেশন সার্চ লাইটের দিন যে সব বাঙালি সেনা শহীদ হন তাদের অন্যতম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্সনায়েক শহীদ গোলাম কাদের (সৈনিক নং- ১৩১৬২৭৮)। চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের গ্রামের আমজাদ আলী ও আফিয়া খাতুনের গর্বের ধন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ৮ আগস্ট সাহারবিল মাইজপাড়া গ্রামে জন্ম তাঁর। মেট্টিকুলেশন পাশের পর পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যোগদেন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক হিসেবে কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী ল্যান্সনায়েক গোলাম কাদেরসহ কুমিল্লা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে তাদেরকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।’
মুক্তিযোদ্ধার নামীয় তালিকায় ০২০৬০৬০৫২ নম্বরের আইডি এবং ৪৮১৫৪ নম্বরধারী মন্ত্রণালয়ের সনদ, মুক্তিবার্তা নং (লাল বই)- ০২১৩০৩০০৪৬ এবং ৪ জুন ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪০ নম্বর বাংলাদেশ গেজেটে লিপিবদ্ধ আছে এবং বর্তমানে তার তিন পৌষ্য ফরিদা ইয়াসমিন, মাহফুজা বেগম ও সায়েরা বানু শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পান।

ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সদস্য হিসেবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যারা অবদান রেখে শহীদ হন তাদের অন্যতম ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পানখালীর গ্রামের হাজী আবদুস সোবহান ও পরান্নেসা বেগমের পুত্র। চট্টগ্রাম মুসলিম হাই স্কুল থেকে এস এস সি, চট্টগ্রাম ইন্টারমেডিয়েট কলেজ (চট্টগ্রাম সরকারি মহসিন কলেজ) থেকে এইচ এস সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করার পর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে অফিসার ক্যাডেটে সেনা বাহিনীতে যোগ দেন। সেকেণ্ড লে.কর্নেল হিসেবে পাকিস্তানের করাচীতে ২ বছর কর্মরত থাকার পর চট্টগ্রাম সেনা নিবাস হয়ে সর্বশেষ একাত্তরে অসহযোগ আন্দোলনের আগে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়ে পিএস সি ( পিএসএস ১০৭৪৭৬) ’ কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী কুমিলা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে ১৩ জন সৈনিককে একটি গর্তে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এই তের জনের মধ্যে ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদও ছিলেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গর্ত থেকে অন্যান্য সৈনিকের মতো মকবুল আহমদের সোল্ডার বেইজসহ উদ্ধার করা হয়। পরে কুমিল্লা ক্যান্টেনমেন্ট এর ৬ নং সেক্টরে তাকে সমাহিত করা হয়।
হ্নীলা বাসস্টেশন টু পানখালী সড়কটি হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও টেকনাফ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহায়তায় ‘শহীদ ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদ সড়ক’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

কালাম আজাদ: লেখক ও সাংবাদিক।