ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার ওভারটেকের সময় ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো সিএনজি, প্রাণ গেল দুই যাত্রীর পেকুয়ায় গরুর কা/টা মাথার সূত্র ধরেই মিলল চোরের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ শাহপরীর দ্বীপে সাড়ে চার কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল সেন্টমার্টিনে খতনার পর অসুস্থ হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দিলো সরকারি মেডিকেল টিম আবেগঘন স্ট্যাটাস :সহধর্মিণীর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন এমপি কাজল কক্সবাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারে বিলাস ভ্রমণে গিয়ে ধরা ‘কেডিসি বস্তি’র ৫ বাসিন্দা আজ পৃথিবীর মন খারাপ: ‘বিদায়’ বললেন, ফুটবলের কবি হামের টিকার আওতায় ২ কোটি শিশু, এক মাসে দেওয়া হবে আরও ৩৫ লাখ প্রবাসীদের পরিবার নিয়ে সৌদি থাকার সুযোগ সাগরে লঘুচাপ, টানা বৃষ্টির আভাস দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে : রিজভী বিশ্ববাজারে ১০১ ডলারে পৌঁছেছে জ্বালানি তেলের দাম

‘মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট’ কচ্ছপিয়া ও নোয়াখালী পাড়া: চলছে মানবপাচার ও অপহরণ

টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া ও নোয়াখালী পাড়া এলাকা এখন মানবপাচারের এক অঘোষিত ‘মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে এই দুটি পয়েন্ট থেকে প্রতিনিয়ত সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচার হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও রোহিঙ্গারা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মিয়ানমারের অবৈধ পণ্যের চোরাচালান।

দুর্গম পাহাড় ও প্লাস্টিকের ঘরে বন্দি জীবন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেরিন ড্রাইভ সড়কের মাত্র ১০০ ফুট পূর্বে পাহাড় ও ঘন বনাঞ্চলকে পাচারকারীরা তাদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। পাহাড়ের পাদদেশে ছোট ছোট প্লাস্টিকের তাবু বা ঘর তৈরি করে সেখানে জড়ো করা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা মানুষ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সেখানে এনে দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়।

মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকার ‘অফার’ ও অপহরণ বাণিজ্য

পাচারকারীরা মানবপাচারকে এক লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছে। জানা গেছে, কোনো দালালের হাতে একজন মানুষ তুলে দিতে পারলেই নগদ ৫০ হাজার টাকা কমিশন দেয়া হয়। এই টাকার লোভে এলাকায় শুরু হয়েছে ভয়ংকর ‘অপহরণ বাণিজ্য’। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সহজ-সরল মানুষকে ভালো কাজের কথা বলে মোবাইলে প্রলুব্ধ করে এই এলাকায় এনে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন শতাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশ কিছু ভিকটিমকে পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও মূল হোতারা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

নেপথ্যে যারা: পাচারকারী চক্রের তালিকা

বাহারছড়া ইউনিয়নে এই শক্তিশালী পাচারকারী চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধী। স্থানীয়দের সাথে আলাপকরে যাদের নাম পাওয়া গেছে সে বিষয়টি নিরপেক্ষতার স্বার্থে প্রশাসনের কর্মকর্তা, মামলাসহ বিভিন্ন নথি থেকে পাওয়া গেছে এই চক্রের সক্রিয় সদস্যদের কয়েকজনের নাম। আরো কিছু অনুসন্ধান শেষে যাদের নাম শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।

সম্প্রতি আন্দামান সাগরে ২৭৩ প্রাণহানি ও নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা

সাম্প্রতিক সময়ে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ট্রলার ডুবির ঘটনায় প্রায় ২৭৩ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, এদের অধিকাংশকেই কচ্ছপিয়া ও নোয়াখালী পাড়া ঘাট দিয়ে ট্রলারে তোলা হয়েছিল।
ঐ ঘটনায় বেঁচে ফিরে আসা রফিক নামের এক রোহিঙ্গা নাগরিক জানান, পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া মানুষগুলোকে বনের ভেতরে ও ট্রলারে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। অনেক সময় মুক্তিপণের দাবিতে চলে এই নির্যাতন, যা সহ্য করতে না পেরে অনেকে পথেই প্রাণ হারান।

প্রশাসনের নীরবতা ও শঙ্কা

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্র থেকে এই দুর্গম এলাকাগুলোর দূরত্ব বেশি হওয়ার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় বড় ট্র্যাজেডি আর শত শত মানুষের মৃত্যুর পরও এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বড় অভিযান বা কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে পাচারকারী চক্রটি।

টেকনাফ ও উখিয়ার সচেতন মহল মনে করেন, এই ‘অঘোষিত এয়ারপোর্ট’ দ্রুত বন্ধ করা না গেলে সমুদ্রপথে লাশের মিছিল আরও দীর্ঘ হবে এবং পাচারকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়বে সাধারণ মানুষ।

ট্যাগ :

কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার

‘মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট’ কচ্ছপিয়া ও নোয়াখালী পাড়া: চলছে মানবপাচার ও অপহরণ

আপডেট সময় : ১১:২০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া ও নোয়াখালী পাড়া এলাকা এখন মানবপাচারের এক অঘোষিত ‘মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে এই দুটি পয়েন্ট থেকে প্রতিনিয়ত সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচার হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও রোহিঙ্গারা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মিয়ানমারের অবৈধ পণ্যের চোরাচালান।

দুর্গম পাহাড় ও প্লাস্টিকের ঘরে বন্দি জীবন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেরিন ড্রাইভ সড়কের মাত্র ১০০ ফুট পূর্বে পাহাড় ও ঘন বনাঞ্চলকে পাচারকারীরা তাদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। পাহাড়ের পাদদেশে ছোট ছোট প্লাস্টিকের তাবু বা ঘর তৈরি করে সেখানে জড়ো করা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা মানুষ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সেখানে এনে দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়।

মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকার ‘অফার’ ও অপহরণ বাণিজ্য

পাচারকারীরা মানবপাচারকে এক লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছে। জানা গেছে, কোনো দালালের হাতে একজন মানুষ তুলে দিতে পারলেই নগদ ৫০ হাজার টাকা কমিশন দেয়া হয়। এই টাকার লোভে এলাকায় শুরু হয়েছে ভয়ংকর ‘অপহরণ বাণিজ্য’। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সহজ-সরল মানুষকে ভালো কাজের কথা বলে মোবাইলে প্রলুব্ধ করে এই এলাকায় এনে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন শতাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশ কিছু ভিকটিমকে পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও মূল হোতারা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

নেপথ্যে যারা: পাচারকারী চক্রের তালিকা

বাহারছড়া ইউনিয়নে এই শক্তিশালী পাচারকারী চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধী। স্থানীয়দের সাথে আলাপকরে যাদের নাম পাওয়া গেছে সে বিষয়টি নিরপেক্ষতার স্বার্থে প্রশাসনের কর্মকর্তা, মামলাসহ বিভিন্ন নথি থেকে পাওয়া গেছে এই চক্রের সক্রিয় সদস্যদের কয়েকজনের নাম। আরো কিছু অনুসন্ধান শেষে যাদের নাম শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।

সম্প্রতি আন্দামান সাগরে ২৭৩ প্রাণহানি ও নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা

সাম্প্রতিক সময়ে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ট্রলার ডুবির ঘটনায় প্রায় ২৭৩ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, এদের অধিকাংশকেই কচ্ছপিয়া ও নোয়াখালী পাড়া ঘাট দিয়ে ট্রলারে তোলা হয়েছিল।
ঐ ঘটনায় বেঁচে ফিরে আসা রফিক নামের এক রোহিঙ্গা নাগরিক জানান, পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া মানুষগুলোকে বনের ভেতরে ও ট্রলারে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। অনেক সময় মুক্তিপণের দাবিতে চলে এই নির্যাতন, যা সহ্য করতে না পেরে অনেকে পথেই প্রাণ হারান।

প্রশাসনের নীরবতা ও শঙ্কা

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্র থেকে এই দুর্গম এলাকাগুলোর দূরত্ব বেশি হওয়ার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় বড় ট্র্যাজেডি আর শত শত মানুষের মৃত্যুর পরও এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বড় অভিযান বা কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে পাচারকারী চক্রটি।

টেকনাফ ও উখিয়ার সচেতন মহল মনে করেন, এই ‘অঘোষিত এয়ারপোর্ট’ দ্রুত বন্ধ করা না গেলে সমুদ্রপথে লাশের মিছিল আরও দীর্ঘ হবে এবং পাচারকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়বে সাধারণ মানুষ।