ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসলামী ব্যাংকের পুরো বোর্ড ভেঙে দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার নাম করে আনছিলো ইয়াবা : আটক  যুবদল নেতা, দল থেকে বহিস্কার কক্সবাজারে দুইশ কিলোমিটার ড্রাইভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ১৫ বছর পরও স্মৃতিতে অমলিন নেতা শাহ আলম সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবান্ধব শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে- এমপি কাজল সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার আত্মসমর্পণ করতে আদালতে আসছেন এমপি আমির হামজা একই পরিবারের ৪ সদস্যের আত্মহত্যা ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার নিজ বাড়ি থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার নজরুল বর্ষ ঘিরে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে ৬৪ জেলায়: সংস্কৃতিমন্ত্রী দুর্ভিক্ষপীড়িত রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন জিয়াউর রহমান: মির্জা ফখরুল ‘এগিয়ে চলো ব্রাজিল’, সতীর্থদের প্রতি নেইমার বিশ্বকাপ জিততে এসেছি, ব্যক্তিগত পুরস্কার নয়: ভিনিসিয়ুস প্রায় ১৪ ঘণ্টার সফর শেষে ঢাকা ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মাদক নির্মুলে কঠোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চার দিনে কক্সবাজারে উদ্ধার ৫০ কোটি টাকার ইয়াবা!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব গ্রহণের পর নড়ে চড়ে বসেছে কক্সবাজারের প্রশাসন। মিয়ানমার সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি-পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে চারদিনে হয়েছে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা। এসব মাদকের  আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা, অভিযানে এক নারী সহ গ্রেফতার হয়েছেন ৩ জন।

সর্বশেষ, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫ টার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের  কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) পরিচালিত অভিযানে
৮০ হাজার ইয়াবাসহ বছির আহম্মেদ (৫০) নামের এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে সীমান্ত পিলার-৩৬ সংলগ্ন এলাকাতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ২ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম ঢাকাপোস্ট’কে বলেন, ‘ ঘুমধুম এবং বাইশফাঁড়ী বিওপির টহলদল অভিযান দুটি পরিচালনা করে।
বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) ৯ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে, এসময় মাদক কারবারিদের সাথে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবাগুলো টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং বিওপির পৃথক অভিযানে উদ্ধার হয়। উখিয়া ব্যাটালিয়নের কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ‘ সাম্প্রতিক সময়ে এটি সবচেয়ে বড় ইয়াবা চালান উদ্ধারের ঘটনা।’

অন্যদিকে, নম্বরবিহীন মিনি ট্রাক ধাওয়া করে ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেফতার করে রামু থানা পুলিশ। এছাড়াও ৭০ হাজার ইয়াবাসহ রামুর এক নারীকে বসতবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, ‘ মাদক কারবারিদের দমনে পুলিশ বদ্ধ পরিকর, সে লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সালাহউদ্দিন আহমদ। একই দিন বিকেলে মন্ত্রী হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ গ্রহণ করেন এবং পান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

দায়িত্ব নিয়ে তিনি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে সীমান্ত দিয়ে যেন মাদক-অস্ত্র চোরাচালান রোধ করা হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকার কঠোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয়দের অভিমত, কক্সবাজার জেলার মানুষ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি ধারণা রাখেন সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানের সমস্যা সমাধানে কোথায় দুর্বলতা, কে গডফাদার। তাই তার কাছে প্রত্যাশাও বেশি, ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ওপরও বেড়েছে চাপ।

জেলার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি বাহিনী অতিরিক্ত সতর্ক। বিশেষ করে ইয়াবা রুট, মাঝরাতের ‘নৌ-চলাচল’ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরের সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করা  হাতে নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক নির্মুলে কঠোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চার দিনে কক্সবাজারে উদ্ধার ৫০ কোটি টাকার ইয়াবা!

আপডেট সময় : ০২:১০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব গ্রহণের পর নড়ে চড়ে বসেছে কক্সবাজারের প্রশাসন। মিয়ানমার সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি-পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে চারদিনে হয়েছে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা। এসব মাদকের  আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা, অভিযানে এক নারী সহ গ্রেফতার হয়েছেন ৩ জন।

সর্বশেষ, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫ টার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের  কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) পরিচালিত অভিযানে
৮০ হাজার ইয়াবাসহ বছির আহম্মেদ (৫০) নামের এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে সীমান্ত পিলার-৩৬ সংলগ্ন এলাকাতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ২ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম ঢাকাপোস্ট’কে বলেন, ‘ ঘুমধুম এবং বাইশফাঁড়ী বিওপির টহলদল অভিযান দুটি পরিচালনা করে।
বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) ৯ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে, এসময় মাদক কারবারিদের সাথে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবাগুলো টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং বিওপির পৃথক অভিযানে উদ্ধার হয়। উখিয়া ব্যাটালিয়নের কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ‘ সাম্প্রতিক সময়ে এটি সবচেয়ে বড় ইয়াবা চালান উদ্ধারের ঘটনা।’

অন্যদিকে, নম্বরবিহীন মিনি ট্রাক ধাওয়া করে ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেফতার করে রামু থানা পুলিশ। এছাড়াও ৭০ হাজার ইয়াবাসহ রামুর এক নারীকে বসতবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, ‘ মাদক কারবারিদের দমনে পুলিশ বদ্ধ পরিকর, সে লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সালাহউদ্দিন আহমদ। একই দিন বিকেলে মন্ত্রী হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ গ্রহণ করেন এবং পান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

দায়িত্ব নিয়ে তিনি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে সীমান্ত দিয়ে যেন মাদক-অস্ত্র চোরাচালান রোধ করা হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকার কঠোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয়দের অভিমত, কক্সবাজার জেলার মানুষ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি ধারণা রাখেন সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানের সমস্যা সমাধানে কোথায় দুর্বলতা, কে গডফাদার। তাই তার কাছে প্রত্যাশাও বেশি, ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ওপরও বেড়েছে চাপ।

জেলার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি বাহিনী অতিরিক্ত সতর্ক। বিশেষ করে ইয়াবা রুট, মাঝরাতের ‘নৌ-চলাচল’ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরের সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করা  হাতে নেওয়া হয়েছে।