ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিবাদ লোহাগাড়ায় এক দিনের ব্যবধানে দুই মৃত্যু, কিশোরীর পর সাবেক স্কুল দপ্তরীর মরদেহ উদ্ধার মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লোহাগাড়ায় হেফজখানার শিক্ষক জাফর আলমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা উখিয়ার নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র টেকনাফে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ পুজামন্ডপ পরিদর্শন করবেন : দুই দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার কক্সবাজার আসছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘন্টায় জেলায় তিন অগ্নিকাণ্ড হিমঘরে ১০ মরদেহ, ডিএনএ টেস্টের পর হস্তান্তর, ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি, মামলায় কারাগারে রিসোর্ট ম্যানেজার ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বিজিবি আলোচিত ইয়াবা মামলার আসামী সলিম উল্লাহ গ্রেফতার সাত খু’ন, মেজর সিনহা ও আবরার হ’ত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির বিশেষ উদ্যোগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মালিক তানভীরের পোষা কুকুর সহ পালায় টুপটুপের কর্মীরা

টেকনাফে মাদক মামলার পলাতক আসামি এবার হলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের সীমান্তে দেড় লাখ পিস ইয়াবা পাচার মামলার পলাতক আসামিকে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি টেকনাফ উপজেলার ৪নং সাবরাং ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং মাদক মামলার আসামি আবদুল মান্নান ওরফে মান্নান মেম্বার।

২৪ জুন (বুধবার) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার মোঃ নাজমুল হাসান নাঈম এর সাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে দায়িত্ব প্রদান করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়া এলাকায় র‍্যাব-১৫ এর মাদকবিরোধী অভিযানে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মোস্তাক ও তার বাবা ট্রলারের মাঝি আবুল হোছন আটক হলে তাদের স্বীকারোক্তিতে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবার মূল মালিক ও অর্থদাতা হিসেবে উঠে আসে সাবরাং ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মান্নান মেম্বারের নাম। যার মামলার নং ৭৪৮/২৪ ইং।  র‍্যাবের দায়ের করা মাদক মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে তিনি অন্তরালেই থেকে যান।

এদিকে মান্নান মেম্বার কে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেকনাফ পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. ইসমাইল লিখেন, সাবরাং রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আব্দুল মান্নান, কি বলছে জনমত।

গত ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যূত্থানের পর আওয়ামীপন্থী চেয়ারম্যান নুর হোসেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। পরে প্যানেল-১ ইউপি সদস্য শামসুল আলম মেম্বার স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন। প্যানেল-২ মো. শরীফ মেম্বারও আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। পরে টেকনাফ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিদ্দিক আহমদকে সভাপতি করে অন্যান্য ১১জন ইউপি সদস্যের মতামতের প্রেক্ষিতে প্যানেল গঠন করা হয়।

প্যানেল-৩ এ দায়িত্বরত ইউপি সদস্য ফারিহা ইয়াসমিন প্রথমে অব্যাহতি নিলেও পরে হাইকোর্ট এ রিট করে স্বপদে পূর্ণবহাল হন।

একইভাবে দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর নির্বাচিত চেয়ারম্যান নুর হোসেন পুনরায় হাইকোর্ট এর রিট অনুযায়ী চলতি বছরের গত ২৪ মে তার চেয়ারম্যান পদে পূর্ণবহালের নির্দেশ রয়েছে। তবে এই আদেশকে অমান্য করে উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতৃবৃন্দ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আবদুল মান্নানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। অবশেষে মাদক মামলার পলাতক আসামি ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মেম্বার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য কবির আহমদ জানান, ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান একজন বিতর্কিত মেম্বার। কার্যক্রমেও সে এখনো জুনিয়র। তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিলে পরিষদ তথা পুরো সাবরাংয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। তবে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা নিজেদের আধিপত্য কায়েম করার জন্য মান্নান কে দিয়ে স্বার্থ হাসিল করতে চাইছে।।

এ বিষয়ে প্যানেল- ৩ এর দায়িত্বরত ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা ইউপি সদস্য ফারিহা ইয়াসমিন জানান- আমাকে অনেক চাপ সৃষ্টি করে টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি- সেক্রেটারি ও সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে মান্নান মেম্বারের পক্ষে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। এভাবে একটা ইউনিয়ন চলতে পারে না। আমি বাধ্য হয়ে স্বাক্ষর করেছি।

এ-ব্যাপারে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান মুঠোফোনে বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান আপনা-আপনি বাদ হওয়ায় জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমি দায়িত্ব নিয়েছি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম অনীক চৌধুরী বলেন, আব্দুল মন্নান নামে একজন ইউপি সদস্যকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একটা রিট মামলা ছিল, সেটা স্থগিত করা হয়েছে। কোন আইনি জটিলতা ছিল না। তাছাড়া এমপি মহোদয়ের ডিউ লেটার ছিল। মাদকের সাথে জড়িত ব্যক্তি কিভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবগুলো প্রসিডিওর অনুযায়ী হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিবাদ

টেকনাফে মাদক মামলার পলাতক আসামি এবার হলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

আপডেট সময় : ১০:২০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের সীমান্তে দেড় লাখ পিস ইয়াবা পাচার মামলার পলাতক আসামিকে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি টেকনাফ উপজেলার ৪নং সাবরাং ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং মাদক মামলার আসামি আবদুল মান্নান ওরফে মান্নান মেম্বার।

২৪ জুন (বুধবার) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার মোঃ নাজমুল হাসান নাঈম এর সাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে দায়িত্ব প্রদান করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়া এলাকায় র‍্যাব-১৫ এর মাদকবিরোধী অভিযানে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মোস্তাক ও তার বাবা ট্রলারের মাঝি আবুল হোছন আটক হলে তাদের স্বীকারোক্তিতে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবার মূল মালিক ও অর্থদাতা হিসেবে উঠে আসে সাবরাং ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মান্নান মেম্বারের নাম। যার মামলার নং ৭৪৮/২৪ ইং।  র‍্যাবের দায়ের করা মাদক মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে তিনি অন্তরালেই থেকে যান।

এদিকে মান্নান মেম্বার কে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেকনাফ পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. ইসমাইল লিখেন, সাবরাং রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আব্দুল মান্নান, কি বলছে জনমত।

গত ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যূত্থানের পর আওয়ামীপন্থী চেয়ারম্যান নুর হোসেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। পরে প্যানেল-১ ইউপি সদস্য শামসুল আলম মেম্বার স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন। প্যানেল-২ মো. শরীফ মেম্বারও আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। পরে টেকনাফ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিদ্দিক আহমদকে সভাপতি করে অন্যান্য ১১জন ইউপি সদস্যের মতামতের প্রেক্ষিতে প্যানেল গঠন করা হয়।

প্যানেল-৩ এ দায়িত্বরত ইউপি সদস্য ফারিহা ইয়াসমিন প্রথমে অব্যাহতি নিলেও পরে হাইকোর্ট এ রিট করে স্বপদে পূর্ণবহাল হন।

একইভাবে দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর নির্বাচিত চেয়ারম্যান নুর হোসেন পুনরায় হাইকোর্ট এর রিট অনুযায়ী চলতি বছরের গত ২৪ মে তার চেয়ারম্যান পদে পূর্ণবহালের নির্দেশ রয়েছে। তবে এই আদেশকে অমান্য করে উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতৃবৃন্দ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আবদুল মান্নানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। অবশেষে মাদক মামলার পলাতক আসামি ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মেম্বার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য কবির আহমদ জানান, ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান একজন বিতর্কিত মেম্বার। কার্যক্রমেও সে এখনো জুনিয়র। তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিলে পরিষদ তথা পুরো সাবরাংয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। তবে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা নিজেদের আধিপত্য কায়েম করার জন্য মান্নান কে দিয়ে স্বার্থ হাসিল করতে চাইছে।।

এ বিষয়ে প্যানেল- ৩ এর দায়িত্বরত ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা ইউপি সদস্য ফারিহা ইয়াসমিন জানান- আমাকে অনেক চাপ সৃষ্টি করে টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি- সেক্রেটারি ও সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে মান্নান মেম্বারের পক্ষে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। এভাবে একটা ইউনিয়ন চলতে পারে না। আমি বাধ্য হয়ে স্বাক্ষর করেছি।

এ-ব্যাপারে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান মুঠোফোনে বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান আপনা-আপনি বাদ হওয়ায় জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমি দায়িত্ব নিয়েছি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম অনীক চৌধুরী বলেন, আব্দুল মন্নান নামে একজন ইউপি সদস্যকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একটা রিট মামলা ছিল, সেটা স্থগিত করা হয়েছে। কোন আইনি জটিলতা ছিল না। তাছাড়া এমপি মহোদয়ের ডিউ লেটার ছিল। মাদকের সাথে জড়িত ব্যক্তি কিভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবগুলো প্রসিডিওর অনুযায়ী হয়েছে।