টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের সীমান্তে দেড় লাখ পিস ইয়াবা পাচার মামলার পলাতক আসামিকে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি টেকনাফ উপজেলার ৪নং সাবরাং ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং মাদক মামলার আসামি আবদুল মান্নান ওরফে মান্নান মেম্বার।
২৪ জুন (বুধবার) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার মোঃ নাজমুল হাসান নাঈম এর সাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে দায়িত্ব প্রদান করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়া এলাকায় র্যাব-১৫ এর মাদকবিরোধী অভিযানে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মোস্তাক ও তার বাবা ট্রলারের মাঝি আবুল হোছন আটক হলে তাদের স্বীকারোক্তিতে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবার মূল মালিক ও অর্থদাতা হিসেবে উঠে আসে সাবরাং ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মান্নান মেম্বারের নাম। যার মামলার নং ৭৪৮/২৪ ইং। র্যাবের দায়ের করা মাদক মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে তিনি অন্তরালেই থেকে যান।
এদিকে মান্নান মেম্বার কে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেকনাফ পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. ইসমাইল লিখেন, সাবরাং রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আব্দুল মান্নান, কি বলছে জনমত।
গত ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যূত্থানের পর আওয়ামীপন্থী চেয়ারম্যান নুর হোসেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। পরে প্যানেল-১ ইউপি সদস্য শামসুল আলম মেম্বার স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন। প্যানেল-২ মো. শরীফ মেম্বারও আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। পরে টেকনাফ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিদ্দিক আহমদকে সভাপতি করে অন্যান্য ১১জন ইউপি সদস্যের মতামতের প্রেক্ষিতে প্যানেল গঠন করা হয়।
প্যানেল-৩ এ দায়িত্বরত ইউপি সদস্য ফারিহা ইয়াসমিন প্রথমে অব্যাহতি নিলেও পরে হাইকোর্ট এ রিট করে স্বপদে পূর্ণবহাল হন।
একইভাবে দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর নির্বাচিত চেয়ারম্যান নুর হোসেন পুনরায় হাইকোর্ট এর রিট অনুযায়ী চলতি বছরের গত ২৪ মে তার চেয়ারম্যান পদে পূর্ণবহালের নির্দেশ রয়েছে। তবে এই আদেশকে অমান্য করে উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতৃবৃন্দ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আবদুল মান্নানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। অবশেষে মাদক মামলার পলাতক আসামি ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মেম্বার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য কবির আহমদ জানান, ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান একজন বিতর্কিত মেম্বার। কার্যক্রমেও সে এখনো জুনিয়র। তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিলে পরিষদ তথা পুরো সাবরাংয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। তবে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা নিজেদের আধিপত্য কায়েম করার জন্য মান্নান কে দিয়ে স্বার্থ হাসিল করতে চাইছে।।
এ বিষয়ে প্যানেল- ৩ এর দায়িত্বরত ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা ইউপি সদস্য ফারিহা ইয়াসমিন জানান- আমাকে অনেক চাপ সৃষ্টি করে টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি- সেক্রেটারি ও সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে মান্নান মেম্বারের পক্ষে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। এভাবে একটা ইউনিয়ন চলতে পারে না। আমি বাধ্য হয়ে স্বাক্ষর করেছি।
এ-ব্যাপারে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান মুঠোফোনে বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান আপনা-আপনি বাদ হওয়ায় জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমি দায়িত্ব নিয়েছি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম অনীক চৌধুরী বলেন, আব্দুল মন্নান নামে একজন ইউপি সদস্যকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একটা রিট মামলা ছিল, সেটা স্থগিত করা হয়েছে। কোন আইনি জটিলতা ছিল না। তাছাড়া এমপি মহোদয়ের ডিউ লেটার ছিল। মাদকের সাথে জড়িত ব্যক্তি কিভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবগুলো প্রসিডিওর অনুযায়ী হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















