ঢাকা ০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আন্দোলনকারীদের অনেকেই প্রকৃত শিক্ষার্থী নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবু সাঈদ এই আন্দোলনের শহীদদের ইমাম: নাহিদ ইসলাম ৭৫ মিনিটের পর ১১ গোল: আর্জেন্টিনা যেন ঘুরে দাঁড়ানোর অন্য নাম ৭৫ মিনিটের পর ১১ গোল, ক্যারিশমাটিক কামব্যাকের মহাকাব্য লিখছে আর্জেন্টিনা শ্রাবণের প্রথম দিন আজ চট্টগ্রামে কনফিডেন্স লবণ কারখানায় আগুন, দগ্ধ ১০ শ্রমিক ঘনীভূত হতে পারে লঘুচাপ, সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মানুষের সুস্থতাই একটি জনপদের প্রার্থনা জননেতা নুরুল আবছারের ওপেন হার্ট সার্জারি শুরু : দোয়া কামনা পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করলেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন চকরিয়ার শহীদ আহসান হাবিবের পরিবারের পাশে জুলাই যোদ্ধারা,দিলেন আর্থিক সহায়তা কোটবাজারে পিকআপ-সিএনজি-অটোরিক্সার ত্রিমুখি সংঘর্ষ, আহত ১০ ​আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আবার বিয়ে করবেন পরী মনি! কক্সবাজারকে বিশ্বের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করা হবে

সাংবাদিককে ফাঁসাতে গিয়ে অবশেষে অস্ত্র মামলায় কারাগারে অজুফা বেগম

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুল এলাকার আলোচিত নারী অজুফা বেগমকে অস্ত্র মামলায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্র ও মামলা সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ ইস্ট বেঙ্গলের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২টি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২টি কার্তুজ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মারুফ হাসান তাহসিন নামে এক যুবককে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে আটক মারুফ হাসান তাহসিন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে, তিনি অজুফা বেগমের সহায়তা ও অর্থায়নে সাংবাদিক ফরহাদকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ওই অস্ত্র ঘটনাস্থলে রেখেছিলেন। ঘটনার পর থেকেই অজুফা বেগম পলাতক ছিলেন।

এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, মামলায় অজুফা বেগমকে পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ কয়েক মাস আত্মগোপনে থাকার পর আত্মসমর্পণ করলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ ডিককুল এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অজুফা বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, দখলবাজি, মামলা বাণিজ্য, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তার ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে ইয়াবা ও গাঁজার বেচাকেনা হতো, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল এলাকার কিশোর ও যুবসমাজের ওপর। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং বিলাসবহুল বাড়িসহ নানা সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এছাড়া, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অজুফা বেগমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হতো। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি।

অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক ফরহাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। একাধিক মিথ্যা মামলা, হামলার হুমকি এবং শেষ পর্যন্ত অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনার অভিযোগও উঠে আসে। তবে সেনাবাহিনীর অভিযানে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অজুফা বেগম কারাগারে যাওয়ার পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন অভিযোগের কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

এসব অভিযোগগুলোর বিষয়ে অজুফা বেগমের স্বামী ইয়াকুব নবীর সাথে বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, অস্ত্র মামলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে এলাকায় স্থায়ীভাবে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আন্দোলনকারীদের অনেকেই প্রকৃত শিক্ষার্থী নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাংবাদিককে ফাঁসাতে গিয়ে অবশেষে অস্ত্র মামলায় কারাগারে অজুফা বেগম

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুল এলাকার আলোচিত নারী অজুফা বেগমকে অস্ত্র মামলায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্র ও মামলা সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ ইস্ট বেঙ্গলের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ ডিককুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২টি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২টি কার্তুজ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মারুফ হাসান তাহসিন নামে এক যুবককে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে আটক মারুফ হাসান তাহসিন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে, তিনি অজুফা বেগমের সহায়তা ও অর্থায়নে সাংবাদিক ফরহাদকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ওই অস্ত্র ঘটনাস্থলে রেখেছিলেন। ঘটনার পর থেকেই অজুফা বেগম পলাতক ছিলেন।

এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, মামলায় অজুফা বেগমকে পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ কয়েক মাস আত্মগোপনে থাকার পর আত্মসমর্পণ করলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ ডিককুল এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অজুফা বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, দখলবাজি, মামলা বাণিজ্য, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তার ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে ইয়াবা ও গাঁজার বেচাকেনা হতো, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল এলাকার কিশোর ও যুবসমাজের ওপর। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং বিলাসবহুল বাড়িসহ নানা সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এছাড়া, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অজুফা বেগমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হতো। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি।

অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক ফরহাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। একাধিক মিথ্যা মামলা, হামলার হুমকি এবং শেষ পর্যন্ত অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনার অভিযোগও উঠে আসে। তবে সেনাবাহিনীর অভিযানে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অজুফা বেগম কারাগারে যাওয়ার পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন অভিযোগের কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

এসব অভিযোগগুলোর বিষয়ে অজুফা বেগমের স্বামী ইয়াকুব নবীর সাথে বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, অস্ত্র মামলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে এলাকায় স্থায়ীভাবে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।