ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দ্বীপবর্তিকার ইফতার মাহফিল সম্পন্ন জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে কালিমার ক্যালিগ্রাফি টেকনাফে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গ্রেফতার, র‌্যাবের ২টি মোটরসাইকেলে আগুন উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫ জন হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আরসা সন্ত্রাসী গ্রেফতার লবণ চাষীদের গলা কাটছে ইজারাদার রামুতে অগ্নিকাণ্ডে বসতবাড়ি পুড়ে ছাই: প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি কউকে ভাঙ্গল ‘রিশাদ’ সিন্ডিকেট, ঘুষ ছাড়া মিলত না ভবন তৈরির অনুমতি লবণচাষীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে মহেশখালী রান ২০২৬, রেজিস্ট্রেশন শুরু নাহিদের গতির ঝড় আর তানজিদের ব্যাটিং তাণ্ডবে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ খেজুর দূর করবে রোজার ক্লান্তি সাগরে নি’হত কুতুবদিয়ার দুই জেলে পরিবার পেলো সহায়তার ৫০ হাজার টাকা উখিয়ায় সেহেরির সময় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূর মৃত্যু সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি : সালাহউদ্দিন আহমদ গর্জনিয়ায় তাঁতীদলের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল আরেক মামলায় আনিস আলমগীরের জামিন, মুক্তিতে ‘বাধা নেই’

প্রায় ২০০ বছর পুরনো মোড়ের নাম ডলফিন না কলাতলী! এ বিতর্ক শেষ হবে কবে?

  • আহসানুল হক।
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • 426

ভাস্কর্য হাঙ্গরের , কিন্তু বলা হয় ডলফিন মোড়। যার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই। অন্যদিকে সমুদ্রে হাঙ্গরের উৎপাত নেই কিন্তু এই ভাস্কর্য কক্সবাজার সমুদ্রে হাঙ্গর আছে এমন ভুল বার্তাই দিচ্ছে দেশী বিদেশী পর্যটকের কাছে। এমন বিতর্ক শুরু থেকেই ছিলো।

ভাস্কর্য নিয়ে যতো না বিতর্ক তার চেয়ে বেশী বিতর্ক এখন ডলফিন মোড় নামকরণ নিয়ে, কবে থেকে কলাতলী মোড় ডলফিন মোড় হয়ে গেলো এটার সঠিক তথ্য দিতে পারেনি কেউ। তবে এবার এই মোড়ের নাম আবারো কলাতলী মোড় নামকরণ করতে আঁটসাঁট বেধে নেমেছে স্থানীয়রা। তাদের দাবীর পক্ষে তুলে ধরছেন নানান যুক্তিও।

কলাতলীর স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলম টিটিএনকে জানান- নাম দিয়েছে ডলফিন মোড়, ভাস্কর্য বসিয়েছে হাঙ্গরের। আমরা মনে করি এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাদের পূর্ব পুরুষ থেকে এই মোড়কে কলাতলী মোড় হিসেবে জেনে আসছি।

আমরা ইতিমধ্যে সমাজের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি।

কলাতলীবাসীর প্রাণের দাবী হলো ভয়ানক হাঙ্গরের ভাস্কর্য সরিয়ে ডলফিন মোড়ের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী কলাতলী মোড় নামকরণ করা হোক, এমন দাবি করেছেন কলাতলীর স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন।

মিসেস রুমানা বছরে একবার হলেও পরিবার নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে আসেন। তার কাছে কি নামে পরিচিত এই মোড় এমন প্রশ্নে টিটিএনকে তিনি জানান, আমরা এতদিন এই মোড়কে ডলফিন মোড় নামে জেনে আসলেও, ইদানীং শুনছি এর আদি নাম ছিল কলাতলী মোড়। কিন্তু দুই নামের একটির সাথেও ভয়ংকর হাঙ্গরের ভাস্কর্যের কোন মিল নেই বলেও অভিযোগ করেন মিস রুমানা।

ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে কলাতলীর বাসিন্দারা। তারা বলছেন, এ জনপদের গোড়াপত্তন যে নামে, সে নামেই হবে মোড়ের নামকরণ।

কলাতলী রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী নুরুল আবছারের দাবী, প্রায় ২০০ বছর আগে থেকেই এটি কলাতলী মোড় হিসেবেই পরিচিত ছিলো। কলাতলী মোড়ের এই নামেই আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম কলাতলী রেস্টুরেন্ট দিয়েছিলেন আমাদের মুরুব্বিরা।

শহরের কোনো এলাকা, সড়ক বা মোড়ের নামকরণের কাজটি করে পৌরসভা। পৌর প্রশাসক মোঃ শামীম আল ইমরান জানান, এ বিষয়ে সহসাই সবার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কলাতলীর স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসক বরাবর যে স্মারকলিপি দিয়েছে তা আমরা আমলে নিয়ে পরবর্তীতে সকলের পরামর্শ নিয়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

ভাস্কর্যটির মূল নাম জ ভাস্কর্য। হলিউড চলচ্চিত্র “জ” এর নামানুসারে ২০১০ সালের ৫ জুন কক্সবাজার শহরের প্রবেশমুখ কলাতলী মোড়ে উদ্বোধন করা হয়েছিলো এই জ ভাস্কর্য। জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় ঢাকা ব্যাংকের সৌজন্যে ৫০ লক্ষ টাকায় নির্মিত এ ভাস্কর্যের নির্মাতা ছিলেন প্রয়াত জীববিজ্ঞানী রাগীব উদ্দিন আহমেদ।

ট্যাগ :

দ্বীপবর্তিকার ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

প্রায় ২০০ বছর পুরনো মোড়ের নাম ডলফিন না কলাতলী! এ বিতর্ক শেষ হবে কবে?

আপডেট সময় : ০৪:১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

ভাস্কর্য হাঙ্গরের , কিন্তু বলা হয় ডলফিন মোড়। যার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই। অন্যদিকে সমুদ্রে হাঙ্গরের উৎপাত নেই কিন্তু এই ভাস্কর্য কক্সবাজার সমুদ্রে হাঙ্গর আছে এমন ভুল বার্তাই দিচ্ছে দেশী বিদেশী পর্যটকের কাছে। এমন বিতর্ক শুরু থেকেই ছিলো।

ভাস্কর্য নিয়ে যতো না বিতর্ক তার চেয়ে বেশী বিতর্ক এখন ডলফিন মোড় নামকরণ নিয়ে, কবে থেকে কলাতলী মোড় ডলফিন মোড় হয়ে গেলো এটার সঠিক তথ্য দিতে পারেনি কেউ। তবে এবার এই মোড়ের নাম আবারো কলাতলী মোড় নামকরণ করতে আঁটসাঁট বেধে নেমেছে স্থানীয়রা। তাদের দাবীর পক্ষে তুলে ধরছেন নানান যুক্তিও।

কলাতলীর স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলম টিটিএনকে জানান- নাম দিয়েছে ডলফিন মোড়, ভাস্কর্য বসিয়েছে হাঙ্গরের। আমরা মনে করি এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাদের পূর্ব পুরুষ থেকে এই মোড়কে কলাতলী মোড় হিসেবে জেনে আসছি।

আমরা ইতিমধ্যে সমাজের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি।

কলাতলীবাসীর প্রাণের দাবী হলো ভয়ানক হাঙ্গরের ভাস্কর্য সরিয়ে ডলফিন মোড়ের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী কলাতলী মোড় নামকরণ করা হোক, এমন দাবি করেছেন কলাতলীর স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন।

মিসেস রুমানা বছরে একবার হলেও পরিবার নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে আসেন। তার কাছে কি নামে পরিচিত এই মোড় এমন প্রশ্নে টিটিএনকে তিনি জানান, আমরা এতদিন এই মোড়কে ডলফিন মোড় নামে জেনে আসলেও, ইদানীং শুনছি এর আদি নাম ছিল কলাতলী মোড়। কিন্তু দুই নামের একটির সাথেও ভয়ংকর হাঙ্গরের ভাস্কর্যের কোন মিল নেই বলেও অভিযোগ করেন মিস রুমানা।

ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে কলাতলীর বাসিন্দারা। তারা বলছেন, এ জনপদের গোড়াপত্তন যে নামে, সে নামেই হবে মোড়ের নামকরণ।

কলাতলী রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী নুরুল আবছারের দাবী, প্রায় ২০০ বছর আগে থেকেই এটি কলাতলী মোড় হিসেবেই পরিচিত ছিলো। কলাতলী মোড়ের এই নামেই আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম কলাতলী রেস্টুরেন্ট দিয়েছিলেন আমাদের মুরুব্বিরা।

শহরের কোনো এলাকা, সড়ক বা মোড়ের নামকরণের কাজটি করে পৌরসভা। পৌর প্রশাসক মোঃ শামীম আল ইমরান জানান, এ বিষয়ে সহসাই সবার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কলাতলীর স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসক বরাবর যে স্মারকলিপি দিয়েছে তা আমরা আমলে নিয়ে পরবর্তীতে সকলের পরামর্শ নিয়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

ভাস্কর্যটির মূল নাম জ ভাস্কর্য। হলিউড চলচ্চিত্র “জ” এর নামানুসারে ২০১০ সালের ৫ জুন কক্সবাজার শহরের প্রবেশমুখ কলাতলী মোড়ে উদ্বোধন করা হয়েছিলো এই জ ভাস্কর্য। জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় ঢাকা ব্যাংকের সৌজন্যে ৫০ লক্ষ টাকায় নির্মিত এ ভাস্কর্যের নির্মাতা ছিলেন প্রয়াত জীববিজ্ঞানী রাগীব উদ্দিন আহমেদ।