ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ হাসিনার চেহারা দেখা যায়নি, অস্থিরতা সৃষ্টিতে বিদেশ থেকে মাঝে মধ্যে উঁকিঝুঁকি দেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমুদ্রসৈকতে পানিতে ডুবে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু দুই ঘণ্টার ব্যবধানে সড়কে ঝরল ১৬ প্রাণ দরিয়ানগরে পর্যটক মৃত্যুর ঘটনায় প্যারাসেইলিং মালিক ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার দেশের ৭ অঞ্চলে ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা ‘শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা হচ্ছে, চোরাচালানের রুটে বসছে ক্যাম্প’ – স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শহীদ ইশমামের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী : ছেলের ছবির সামনে মায়ের আহাজারি, মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল আংশিক চালু, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু পেকুয়ায় ওযু করতে গিয়ে পা পিছলে মসজিদের ইমামের মৃত্যু অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: ট্যুরিস্ট জীপ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান:জরিমানা ও গাড়ি জব্দ লোহাগাড়ায় বিএনপির বিজয় র‍্যালি, নেতাকর্মীদের ঢল নাইক্ষ্যংছড়িতে ১১ বিজিবির অভিযান : ইয়াবা উদ্ধার নারীদের সুরক্ষায় টেকনাফে সাইবার নিরাপত্তা ও অনলাইন অভিযোগ বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত টেকনাফে ৫৭ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় আটক ২ : উদ্ধার হয়নি টাকা কথিত ছোটন সিন্ডিকেটের মাদক আনতেই কি মাইন বিস্ফোরণে পা হারালেন বালুখালীর সেই জেলে?

দুর্নীতি মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার ও দণ্ডাদেশ নিয়ে দুদকের ব্যাখ্যা

ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার ও দণ্ডাদেশ নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে ওঠা আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলার নথি-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা জানায় দুদক।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে অভিযোগগুলো মূলত শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে প্লট বরাদ্দসংক্রান্ত দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। একটি মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, শেখ হাসিনা সরকার প্রধান থাকা অবস্থায় টিউলিপ সিদ্দিক নিজেও একটি সরকারি প্লট বরাদ্দ পেয়েছিলেন।

তিনটি মামলার মধ্যে একটি মামলার বিচার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৫ এ বিশেষ মামলা নং ১৮/২০২৫ এ টিউলিপ সিদ্দিককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি প্রভাব বিস্তার করে শেখ হাসিনাকে পরিবারের সদস্যদের জন্য প্লট বরাদ্দে প্ররোচিত, উৎসাহিত ও প্রভাবিত করেছিলেন।

মামলায় মোট ৩২ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের কয়েকজন আদালতে শপথ নিয়ে বলেছেন— শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয় টিউলিপ সিদ্দিক নিজের প্রভাব খাটিয়ে এসব প্লট বরাদ্দ নিশ্চিত করেন। নথিতে থাকা পরিস্থিতিগত প্রমাণ– টিউলিপ, তার মা ও ভাইবোনদের নামে প্লট বরাদ্দ দেখায় যে তিনি শুধু একটি নয়, বরং একাধিকবার বেআইনি প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। এসব অপরাধ দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(কা), ২০১, ২১৭, ২১৮, ৪০৯ ও ৪২০ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য।

দুদক আরও জানায়, টিউলিপ সিদ্দিক শেখ হাসিনার ওপর প্রভাব খাটিয়ে গুলশান-২ এর মূল্যবান একটি প্লট (প্লট নং সিডব্লিউএন (এ)-২৭; পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হয়ে প্লট নং ০৫, ব্লক এনই (এ), গুলশান; ফ্ল্যাট নং বি/২০১; বাড়ি নং ৫এ ও ৫বি; বর্তমানে বাড়ি নং ১১৫ ও ১১বি; রোড নং ৭১) বরাদ্দ পান। এগুলো কোনও দূরবর্তী কৃষিজমি নয়, ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত অঞ্চলের সরকারি আবাসিক প্লট, যেখানে একাধিক ফ্ল্যাট বা বড় বাড়ি নির্মাণের সুযোগ ছিল। জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত এসব জমি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনদের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়; যা পারিবারিক সম্পদ বৃদ্ধির অনৈতিক প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে।

দুদকের তথ্যানুসারে, টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পাঁচটি ফ্ল্যাট কেনার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট, যেগুলো অফশোর কোম্পানির সহায়তায় কেনা হয়। দুদকের প্রশ্ন– জনপরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি কীভাবে ঢাকা ও লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল দুটি শহরে একাধিক সম্পত্তি কেনার মতো বিপুল সম্পদের মালিক হন?

এ বিষয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হতো। কিন্তু তিনি অনুপস্থিত থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই বিচার সম্পন্ন করতে হয়।
আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি– টিউলিপ সিদ্দিকের এ দাবি দুদক সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে।
কমিশন জানায়, টিউলিপ সিদ্দিকে আদালতে হাজির হওয়ার এবং আইনজীবী নিয়োগের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজেই বিচার এড়িয়ে গেছেন।

দুদক বলেছে, উপস্থাপিত নথিপত্র, সাক্ষ্য এবং পরিস্থিতিগত প্রমাণ স্পষ্ট করে যে, টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে দুর্নীতি সহায়তা ও প্ররোচণার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা বা তিনি নির্দোষ– এমন দাবি করার কোনও অবকাশ নেই।

সূত্র: বাসস

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনার চেহারা দেখা যায়নি, অস্থিরতা সৃষ্টিতে বিদেশ থেকে মাঝে মধ্যে উঁকিঝুঁকি দেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্নীতি মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার ও দণ্ডাদেশ নিয়ে দুদকের ব্যাখ্যা

আপডেট সময় : ০১:২৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিচার ও দণ্ডাদেশ নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে ওঠা আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলার নথি-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা জানায় দুদক।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে অভিযোগগুলো মূলত শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে প্লট বরাদ্দসংক্রান্ত দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। একটি মামলার নথিতে উল্লেখ আছে, শেখ হাসিনা সরকার প্রধান থাকা অবস্থায় টিউলিপ সিদ্দিক নিজেও একটি সরকারি প্লট বরাদ্দ পেয়েছিলেন।

তিনটি মামলার মধ্যে একটি মামলার বিচার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৫ এ বিশেষ মামলা নং ১৮/২০২৫ এ টিউলিপ সিদ্দিককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি প্রভাব বিস্তার করে শেখ হাসিনাকে পরিবারের সদস্যদের জন্য প্লট বরাদ্দে প্ররোচিত, উৎসাহিত ও প্রভাবিত করেছিলেন।

মামলায় মোট ৩২ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের কয়েকজন আদালতে শপথ নিয়ে বলেছেন— শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয় টিউলিপ সিদ্দিক নিজের প্রভাব খাটিয়ে এসব প্লট বরাদ্দ নিশ্চিত করেন। নথিতে থাকা পরিস্থিতিগত প্রমাণ– টিউলিপ, তার মা ও ভাইবোনদের নামে প্লট বরাদ্দ দেখায় যে তিনি শুধু একটি নয়, বরং একাধিকবার বেআইনি প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। এসব অপরাধ দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(কা), ২০১, ২১৭, ২১৮, ৪০৯ ও ৪২০ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য।

দুদক আরও জানায়, টিউলিপ সিদ্দিক শেখ হাসিনার ওপর প্রভাব খাটিয়ে গুলশান-২ এর মূল্যবান একটি প্লট (প্লট নং সিডব্লিউএন (এ)-২৭; পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হয়ে প্লট নং ০৫, ব্লক এনই (এ), গুলশান; ফ্ল্যাট নং বি/২০১; বাড়ি নং ৫এ ও ৫বি; বর্তমানে বাড়ি নং ১১৫ ও ১১বি; রোড নং ৭১) বরাদ্দ পান। এগুলো কোনও দূরবর্তী কৃষিজমি নয়, ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত অঞ্চলের সরকারি আবাসিক প্লট, যেখানে একাধিক ফ্ল্যাট বা বড় বাড়ি নির্মাণের সুযোগ ছিল। জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত এসব জমি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনদের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়; যা পারিবারিক সম্পদ বৃদ্ধির অনৈতিক প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে।

দুদকের তথ্যানুসারে, টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পাঁচটি ফ্ল্যাট কেনার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট, যেগুলো অফশোর কোম্পানির সহায়তায় কেনা হয়। দুদকের প্রশ্ন– জনপরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি কীভাবে ঢাকা ও লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল দুটি শহরে একাধিক সম্পত্তি কেনার মতো বিপুল সম্পদের মালিক হন?

এ বিষয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়গুলো আরও পরিষ্কার হতো। কিন্তু তিনি অনুপস্থিত থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই বিচার সম্পন্ন করতে হয়।
আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি– টিউলিপ সিদ্দিকের এ দাবি দুদক সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে।
কমিশন জানায়, টিউলিপ সিদ্দিকে আদালতে হাজির হওয়ার এবং আইনজীবী নিয়োগের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজেই বিচার এড়িয়ে গেছেন।

দুদক বলেছে, উপস্থাপিত নথিপত্র, সাক্ষ্য এবং পরিস্থিতিগত প্রমাণ স্পষ্ট করে যে, টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে দুর্নীতি সহায়তা ও প্ররোচণার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা বা তিনি নির্দোষ– এমন দাবি করার কোনও অবকাশ নেই।

সূত্র: বাসস