ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক পেশকারপাড়ায় ফারুক হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামী হলেন যারা…  সীমান্তের ৫শ হতদরিদ্রকে ফ্রীতে ৪ ধরণের সেবা দিলো ১১ বিজিবির রামুতে কোমলমতি খেলাঘর আসরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হামে মৃত্যু, সামনে ডেঙ্গু, এ কেমন জীবন? নারায়ণগঞ্জে পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের দুই হোতাসহ ৭ জন কক্সবাজারে গ্রেফতার ঈদগাঁওর আলোচিত সেলিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আতাউল্লাহ গ্রেফতার আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি কক্সবাজারে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড, জনজীবনে অস্বস্তি সোনাদিয়ায় প্রশাসনের অভিযান: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কালিরছড়ায় সাহেদের ই’য়াবা নাকি টাকার ব্যাগ ছি’নতাই? শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষা খাতের সমস্যা সমাধানে নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ লোহাগাড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪ হোটেল সী-হার্টের মালিক জাহাঙ্গীর আলম মারা গেছেন পেকুয়ায় পুকুরে গোসলে নেমে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

ডায়াবেটিক রোগীরা কি সব ফল খেতে পারবেন

  • টিটিএন ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 309

আমাদের ধারণা, ডায়াবেটিস হলে সব পছন্দের খাবার বন্ধ, এমনকি ফলমূলও; বিষয়টা এমন নয়। ডায়াবেটিস হলে সাদা চিনি বা সরাসরি মিষ্টিজাতীয় খাবার ছাড়া সব খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে। চিনি, গুড়, গ্লুকোজ, মধু, আখের রস, খেজুরের রস, তালের রস বা এসব দিয়ে তৈরি খাবার বাদে কিছু নিষেধ নয়।
একটা প্রশ্ন থাকে, ফল তো মিষ্টি, তাই তা খাওয়া ঠিক হবে কি না। অবশ্যই ফল বাছাই করা ও পরিমাণমতো খেতে শিখতে হবে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম ও ফাইবারসমৃদ্ধ ফল বরং উপকারী। সাধারণত যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫–এর নিচে, সেগুলো ডায়াবেটিসবান্ধব বলা হয়। এ ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুব কম। যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৬-৬৯ এর মধ্যে বা এর বেশি, সে ফলগুলোও হিসাব করে খাওয়া যাবে।

আপেলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৩৭, নাশপাতি ৩৮, লিচু ৫৫, পেয়ারা ২০, কমলা ৫৫, আমড়া ১৫, জাম্বুরা ২০, খুরমা ৪৫, কলা ৬০, আনারস ৬৭, তরমুজ ৭৮, খেজুর ৫৪, আঙুর ৬০। এসব গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মান ফলের মানভেদে কিছুটা কমবেশি হয়।
আবার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পাশাপাশি গ্লাইসেমিক লোডও খেয়াল রাখতে হবে। যে ফলের গ্লাইসেমিক লোড কম, সে ফল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশি উপযোগী। আমড়া, জাম্বুরা, আমলকী, জলপাই, কাঁচা পেয়ারা—এসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড অনেক কম। অপর দিকে আনারস, তরমুজ, আম, কাঠালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড উভয়ই বেশি। তাই এগুলো কম খেতে হবে। এ ছাড়া মাল্টা, কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স একটু বেশি হলেও লোড অনেক কম।

একজন ডায়াবেটিক রোগী প্রতিদিন ৭৫ কিলোক্যালরি পরিমাণ মিষ্টি ফল খেতে পারবেন। সেই হিসাবে এক দিনে ১১০ গ্রাম আপেল বা ২৫০ গ্রাম পাকা পেঁপে বা ১০০ গ্রাম লিচু বা ৭০ গ্রাম পাকা কলা বা ৭৫ গ্রাম আঙুর বা ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল বা ২৫০ গ্রাম তরমুজ বা ১৩০ গ্রাম আম বা ১৫০ গ্রাম নাশপাতি বা ১২০ গ্রাম মাল্টা বা ১০০ গ্রাম বেদানা খেতে পারবেন।

কিছু পরামর্শ

প্রধান খাবারের সঙ্গে কখনো মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না। মধ্য সকাল বা বিকেলে স্ন্যাক্স হিসেবে মিষ্টি ফল খেতে হবে। রাতের খাবারের পরও মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না।

ফল পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস। সে ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনির সমস্যা থাকলে কিছু বিধিনিষেধ মানতে হবে।

ফল জুস বানিয়ে খাওয়া যাবে না। ফলের জুস বানালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক বেড়ে যায়।

শরীরের ভিটামিন, মিনারেলসহ নানা পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণে তাজা ফলমূল খাওয়া ভালো। তবে একবারে বেশি খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ পেতে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক

ডায়াবেটিক রোগীরা কি সব ফল খেতে পারবেন

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

আমাদের ধারণা, ডায়াবেটিস হলে সব পছন্দের খাবার বন্ধ, এমনকি ফলমূলও; বিষয়টা এমন নয়। ডায়াবেটিস হলে সাদা চিনি বা সরাসরি মিষ্টিজাতীয় খাবার ছাড়া সব খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে। চিনি, গুড়, গ্লুকোজ, মধু, আখের রস, খেজুরের রস, তালের রস বা এসব দিয়ে তৈরি খাবার বাদে কিছু নিষেধ নয়।
একটা প্রশ্ন থাকে, ফল তো মিষ্টি, তাই তা খাওয়া ঠিক হবে কি না। অবশ্যই ফল বাছাই করা ও পরিমাণমতো খেতে শিখতে হবে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম ও ফাইবারসমৃদ্ধ ফল বরং উপকারী। সাধারণত যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫–এর নিচে, সেগুলো ডায়াবেটিসবান্ধব বলা হয়। এ ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুব কম। যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৬-৬৯ এর মধ্যে বা এর বেশি, সে ফলগুলোও হিসাব করে খাওয়া যাবে।

আপেলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৩৭, নাশপাতি ৩৮, লিচু ৫৫, পেয়ারা ২০, কমলা ৫৫, আমড়া ১৫, জাম্বুরা ২০, খুরমা ৪৫, কলা ৬০, আনারস ৬৭, তরমুজ ৭৮, খেজুর ৫৪, আঙুর ৬০। এসব গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মান ফলের মানভেদে কিছুটা কমবেশি হয়।
আবার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পাশাপাশি গ্লাইসেমিক লোডও খেয়াল রাখতে হবে। যে ফলের গ্লাইসেমিক লোড কম, সে ফল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশি উপযোগী। আমড়া, জাম্বুরা, আমলকী, জলপাই, কাঁচা পেয়ারা—এসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড অনেক কম। অপর দিকে আনারস, তরমুজ, আম, কাঠালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড উভয়ই বেশি। তাই এগুলো কম খেতে হবে। এ ছাড়া মাল্টা, কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স একটু বেশি হলেও লোড অনেক কম।

একজন ডায়াবেটিক রোগী প্রতিদিন ৭৫ কিলোক্যালরি পরিমাণ মিষ্টি ফল খেতে পারবেন। সেই হিসাবে এক দিনে ১১০ গ্রাম আপেল বা ২৫০ গ্রাম পাকা পেঁপে বা ১০০ গ্রাম লিচু বা ৭০ গ্রাম পাকা কলা বা ৭৫ গ্রাম আঙুর বা ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল বা ২৫০ গ্রাম তরমুজ বা ১৩০ গ্রাম আম বা ১৫০ গ্রাম নাশপাতি বা ১২০ গ্রাম মাল্টা বা ১০০ গ্রাম বেদানা খেতে পারবেন।

কিছু পরামর্শ

প্রধান খাবারের সঙ্গে কখনো মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না। মধ্য সকাল বা বিকেলে স্ন্যাক্স হিসেবে মিষ্টি ফল খেতে হবে। রাতের খাবারের পরও মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না।

ফল পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস। সে ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনির সমস্যা থাকলে কিছু বিধিনিষেধ মানতে হবে।

ফল জুস বানিয়ে খাওয়া যাবে না। ফলের জুস বানালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক বেড়ে যায়।

শরীরের ভিটামিন, মিনারেলসহ নানা পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণে তাজা ফলমূল খাওয়া ভালো। তবে একবারে বেশি খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ পেতে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল