ঢাকা ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতামুহুরীতে প্রথমবারের মতো মাদক ও জুয়া বিরোধী ম্যারাথন অনুষ্ঠিত দুবাইতে চুরি করা টাকার ভাগ নিয়ে জেলে গেলেন রশিদ নগরের চেয়ারম্যান শাহ আলম চকরিয়া ডুলাহাজারা ক্রিড়া সংসদ নির্বাচনে ফজলুর কাদের সভাপতি নির্বাচিত পটিয়ার লুণ্ঠিত চিনি উদ্ধার হলো চকরিয়ার রাসেলের দোকান থেকে – রাসেল ছাত্রদল নাকি শিবির এ নিয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পেকুয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু জামায়াতের দায়িত্বশীল বৈঠকে জেলা আমীর আনোয়ারী- জন আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৩ পরিবারকে এমপি আলমগীর ফরিদের নগদ অর্থ সহায়তা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, প্রশাসনের সহযোগিতা চান জাবের আহমদ গং কক্সবাজারে স্বস্তি খুঁজে পায় মিমের মন অচিরেই ইসিএ ও নো ডেভেলপমেন্ট জোনের আইন তুলে নেয়া হবে : এমপি কাজল গেলো ২৪ ঘন্টায় সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১৫ কক্সবাজারে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হোটেলে থাকতে দিলে ব্যবস্থা- সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না পেকুয়ায় লবণাক্ত পানিতে ক্ষতির শঙ্কায় হাজারো কৃষকের ফসল এশিয়ার সেরা ২০ সমুদ্রসৈকতের তালিকায় কক্সবাজার কি আছে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল

ডায়াবেটিক রোগীরা কি সব ফল খেতে পারবেন

  • টিটিএন ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 395

আমাদের ধারণা, ডায়াবেটিস হলে সব পছন্দের খাবার বন্ধ, এমনকি ফলমূলও; বিষয়টা এমন নয়। ডায়াবেটিস হলে সাদা চিনি বা সরাসরি মিষ্টিজাতীয় খাবার ছাড়া সব খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে। চিনি, গুড়, গ্লুকোজ, মধু, আখের রস, খেজুরের রস, তালের রস বা এসব দিয়ে তৈরি খাবার বাদে কিছু নিষেধ নয়।
একটা প্রশ্ন থাকে, ফল তো মিষ্টি, তাই তা খাওয়া ঠিক হবে কি না। অবশ্যই ফল বাছাই করা ও পরিমাণমতো খেতে শিখতে হবে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম ও ফাইবারসমৃদ্ধ ফল বরং উপকারী। সাধারণত যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫–এর নিচে, সেগুলো ডায়াবেটিসবান্ধব বলা হয়। এ ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুব কম। যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৬-৬৯ এর মধ্যে বা এর বেশি, সে ফলগুলোও হিসাব করে খাওয়া যাবে।

আপেলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৩৭, নাশপাতি ৩৮, লিচু ৫৫, পেয়ারা ২০, কমলা ৫৫, আমড়া ১৫, জাম্বুরা ২০, খুরমা ৪৫, কলা ৬০, আনারস ৬৭, তরমুজ ৭৮, খেজুর ৫৪, আঙুর ৬০। এসব গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মান ফলের মানভেদে কিছুটা কমবেশি হয়।
আবার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পাশাপাশি গ্লাইসেমিক লোডও খেয়াল রাখতে হবে। যে ফলের গ্লাইসেমিক লোড কম, সে ফল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশি উপযোগী। আমড়া, জাম্বুরা, আমলকী, জলপাই, কাঁচা পেয়ারা—এসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড অনেক কম। অপর দিকে আনারস, তরমুজ, আম, কাঠালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড উভয়ই বেশি। তাই এগুলো কম খেতে হবে। এ ছাড়া মাল্টা, কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স একটু বেশি হলেও লোড অনেক কম।

একজন ডায়াবেটিক রোগী প্রতিদিন ৭৫ কিলোক্যালরি পরিমাণ মিষ্টি ফল খেতে পারবেন। সেই হিসাবে এক দিনে ১১০ গ্রাম আপেল বা ২৫০ গ্রাম পাকা পেঁপে বা ১০০ গ্রাম লিচু বা ৭০ গ্রাম পাকা কলা বা ৭৫ গ্রাম আঙুর বা ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল বা ২৫০ গ্রাম তরমুজ বা ১৩০ গ্রাম আম বা ১৫০ গ্রাম নাশপাতি বা ১২০ গ্রাম মাল্টা বা ১০০ গ্রাম বেদানা খেতে পারবেন।

কিছু পরামর্শ

প্রধান খাবারের সঙ্গে কখনো মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না। মধ্য সকাল বা বিকেলে স্ন্যাক্স হিসেবে মিষ্টি ফল খেতে হবে। রাতের খাবারের পরও মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না।

ফল পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস। সে ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনির সমস্যা থাকলে কিছু বিধিনিষেধ মানতে হবে।

ফল জুস বানিয়ে খাওয়া যাবে না। ফলের জুস বানালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক বেড়ে যায়।

শরীরের ভিটামিন, মিনারেলসহ নানা পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণে তাজা ফলমূল খাওয়া ভালো। তবে একবারে বেশি খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ পেতে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতামুহুরীতে প্রথমবারের মতো মাদক ও জুয়া বিরোধী ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

ডায়াবেটিক রোগীরা কি সব ফল খেতে পারবেন

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

আমাদের ধারণা, ডায়াবেটিস হলে সব পছন্দের খাবার বন্ধ, এমনকি ফলমূলও; বিষয়টা এমন নয়। ডায়াবেটিস হলে সাদা চিনি বা সরাসরি মিষ্টিজাতীয় খাবার ছাড়া সব খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে। চিনি, গুড়, গ্লুকোজ, মধু, আখের রস, খেজুরের রস, তালের রস বা এসব দিয়ে তৈরি খাবার বাদে কিছু নিষেধ নয়।
একটা প্রশ্ন থাকে, ফল তো মিষ্টি, তাই তা খাওয়া ঠিক হবে কি না। অবশ্যই ফল বাছাই করা ও পরিমাণমতো খেতে শিখতে হবে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম ও ফাইবারসমৃদ্ধ ফল বরং উপকারী। সাধারণত যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫–এর নিচে, সেগুলো ডায়াবেটিসবান্ধব বলা হয়। এ ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুব কম। যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৬-৬৯ এর মধ্যে বা এর বেশি, সে ফলগুলোও হিসাব করে খাওয়া যাবে।

আপেলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৩৭, নাশপাতি ৩৮, লিচু ৫৫, পেয়ারা ২০, কমলা ৫৫, আমড়া ১৫, জাম্বুরা ২০, খুরমা ৪৫, কলা ৬০, আনারস ৬৭, তরমুজ ৭৮, খেজুর ৫৪, আঙুর ৬০। এসব গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মান ফলের মানভেদে কিছুটা কমবেশি হয়।
আবার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পাশাপাশি গ্লাইসেমিক লোডও খেয়াল রাখতে হবে। যে ফলের গ্লাইসেমিক লোড কম, সে ফল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশি উপযোগী। আমড়া, জাম্বুরা, আমলকী, জলপাই, কাঁচা পেয়ারা—এসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড অনেক কম। অপর দিকে আনারস, তরমুজ, আম, কাঠালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড উভয়ই বেশি। তাই এগুলো কম খেতে হবে। এ ছাড়া মাল্টা, কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স একটু বেশি হলেও লোড অনেক কম।

একজন ডায়াবেটিক রোগী প্রতিদিন ৭৫ কিলোক্যালরি পরিমাণ মিষ্টি ফল খেতে পারবেন। সেই হিসাবে এক দিনে ১১০ গ্রাম আপেল বা ২৫০ গ্রাম পাকা পেঁপে বা ১০০ গ্রাম লিচু বা ৭০ গ্রাম পাকা কলা বা ৭৫ গ্রাম আঙুর বা ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল বা ২৫০ গ্রাম তরমুজ বা ১৩০ গ্রাম আম বা ১৫০ গ্রাম নাশপাতি বা ১২০ গ্রাম মাল্টা বা ১০০ গ্রাম বেদানা খেতে পারবেন।

কিছু পরামর্শ

প্রধান খাবারের সঙ্গে কখনো মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না। মধ্য সকাল বা বিকেলে স্ন্যাক্স হিসেবে মিষ্টি ফল খেতে হবে। রাতের খাবারের পরও মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না।

ফল পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস। সে ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনির সমস্যা থাকলে কিছু বিধিনিষেধ মানতে হবে।

ফল জুস বানিয়ে খাওয়া যাবে না। ফলের জুস বানালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক বেড়ে যায়।

শরীরের ভিটামিন, মিনারেলসহ নানা পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণে তাজা ফলমূল খাওয়া ভালো। তবে একবারে বেশি খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ পেতে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল