ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ​কক্সবাজারের ২০ এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ কুতুবদিয়ায় লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সংযোগ সেতু ধসে পড়েছে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও ৩৬৭ কোটি টাকা পাচ্ছে ব্রাজিল ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাগরে নিম্নচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন দিবস আজ ভারীবর্ষণে পাহাড়ধস – একরাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহত ৮,শহরে ১ জনের মৃত্যু গেলো ২৪ ঘন্টায় ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি : বাড়ছে পাহাড় ধসের ঝুঁকি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড(পশ্চিম) শাখা যুবদলের সভাপতি মিজান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ‎ ওয়াটার সেইফটি এন্ড ড্রাউনিং প্রিভেনশন: জেসিআই কক্সবাজারের ‘বে গার্ডিয়ানস ইনিশিয়েটিভ’র উদ্বোধন অপহরণের এক সপ্তাহ পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরলেন বাহারছড়ার পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিন টেকনাফে শ্রমিক ফেডারেশনের নেতার হাতে শিবির কর্মী খুন,বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলোনা নিহত শফিউল্লাহর লোহাগাড়ায় ডাম্পার-সিএনজির সংঘর্ষ,আহত-৪

ডায়াবেটিক রোগীরা কি সব ফল খেতে পারবেন

  • টিটিএন ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 324

আমাদের ধারণা, ডায়াবেটিস হলে সব পছন্দের খাবার বন্ধ, এমনকি ফলমূলও; বিষয়টা এমন নয়। ডায়াবেটিস হলে সাদা চিনি বা সরাসরি মিষ্টিজাতীয় খাবার ছাড়া সব খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে। চিনি, গুড়, গ্লুকোজ, মধু, আখের রস, খেজুরের রস, তালের রস বা এসব দিয়ে তৈরি খাবার বাদে কিছু নিষেধ নয়।
একটা প্রশ্ন থাকে, ফল তো মিষ্টি, তাই তা খাওয়া ঠিক হবে কি না। অবশ্যই ফল বাছাই করা ও পরিমাণমতো খেতে শিখতে হবে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম ও ফাইবারসমৃদ্ধ ফল বরং উপকারী। সাধারণত যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫–এর নিচে, সেগুলো ডায়াবেটিসবান্ধব বলা হয়। এ ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুব কম। যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৬-৬৯ এর মধ্যে বা এর বেশি, সে ফলগুলোও হিসাব করে খাওয়া যাবে।

আপেলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৩৭, নাশপাতি ৩৮, লিচু ৫৫, পেয়ারা ২০, কমলা ৫৫, আমড়া ১৫, জাম্বুরা ২০, খুরমা ৪৫, কলা ৬০, আনারস ৬৭, তরমুজ ৭৮, খেজুর ৫৪, আঙুর ৬০। এসব গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মান ফলের মানভেদে কিছুটা কমবেশি হয়।
আবার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পাশাপাশি গ্লাইসেমিক লোডও খেয়াল রাখতে হবে। যে ফলের গ্লাইসেমিক লোড কম, সে ফল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশি উপযোগী। আমড়া, জাম্বুরা, আমলকী, জলপাই, কাঁচা পেয়ারা—এসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড অনেক কম। অপর দিকে আনারস, তরমুজ, আম, কাঠালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড উভয়ই বেশি। তাই এগুলো কম খেতে হবে। এ ছাড়া মাল্টা, কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স একটু বেশি হলেও লোড অনেক কম।

একজন ডায়াবেটিক রোগী প্রতিদিন ৭৫ কিলোক্যালরি পরিমাণ মিষ্টি ফল খেতে পারবেন। সেই হিসাবে এক দিনে ১১০ গ্রাম আপেল বা ২৫০ গ্রাম পাকা পেঁপে বা ১০০ গ্রাম লিচু বা ৭০ গ্রাম পাকা কলা বা ৭৫ গ্রাম আঙুর বা ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল বা ২৫০ গ্রাম তরমুজ বা ১৩০ গ্রাম আম বা ১৫০ গ্রাম নাশপাতি বা ১২০ গ্রাম মাল্টা বা ১০০ গ্রাম বেদানা খেতে পারবেন।

কিছু পরামর্শ

প্রধান খাবারের সঙ্গে কখনো মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না। মধ্য সকাল বা বিকেলে স্ন্যাক্স হিসেবে মিষ্টি ফল খেতে হবে। রাতের খাবারের পরও মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না।

ফল পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস। সে ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনির সমস্যা থাকলে কিছু বিধিনিষেধ মানতে হবে।

ফল জুস বানিয়ে খাওয়া যাবে না। ফলের জুস বানালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক বেড়ে যায়।

শরীরের ভিটামিন, মিনারেলসহ নানা পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণে তাজা ফলমূল খাওয়া ভালো। তবে একবারে বেশি খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ পেতে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন

ডায়াবেটিক রোগীরা কি সব ফল খেতে পারবেন

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪

আমাদের ধারণা, ডায়াবেটিস হলে সব পছন্দের খাবার বন্ধ, এমনকি ফলমূলও; বিষয়টা এমন নয়। ডায়াবেটিস হলে সাদা চিনি বা সরাসরি মিষ্টিজাতীয় খাবার ছাড়া সব খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে। চিনি, গুড়, গ্লুকোজ, মধু, আখের রস, খেজুরের রস, তালের রস বা এসব দিয়ে তৈরি খাবার বাদে কিছু নিষেধ নয়।
একটা প্রশ্ন থাকে, ফল তো মিষ্টি, তাই তা খাওয়া ঠিক হবে কি না। অবশ্যই ফল বাছাই করা ও পরিমাণমতো খেতে শিখতে হবে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম ও ফাইবারসমৃদ্ধ ফল বরং উপকারী। সাধারণত যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫–এর নিচে, সেগুলো ডায়াবেটিসবান্ধব বলা হয়। এ ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুব কম। যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৬-৬৯ এর মধ্যে বা এর বেশি, সে ফলগুলোও হিসাব করে খাওয়া যাবে।

আপেলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৩৭, নাশপাতি ৩৮, লিচু ৫৫, পেয়ারা ২০, কমলা ৫৫, আমড়া ১৫, জাম্বুরা ২০, খুরমা ৪৫, কলা ৬০, আনারস ৬৭, তরমুজ ৭৮, খেজুর ৫৪, আঙুর ৬০। এসব গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মান ফলের মানভেদে কিছুটা কমবেশি হয়।
আবার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পাশাপাশি গ্লাইসেমিক লোডও খেয়াল রাখতে হবে। যে ফলের গ্লাইসেমিক লোড কম, সে ফল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশি উপযোগী। আমড়া, জাম্বুরা, আমলকী, জলপাই, কাঁচা পেয়ারা—এসব ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড অনেক কম। অপর দিকে আনারস, তরমুজ, আম, কাঠালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসেমিক লোড উভয়ই বেশি। তাই এগুলো কম খেতে হবে। এ ছাড়া মাল্টা, কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স একটু বেশি হলেও লোড অনেক কম।

একজন ডায়াবেটিক রোগী প্রতিদিন ৭৫ কিলোক্যালরি পরিমাণ মিষ্টি ফল খেতে পারবেন। সেই হিসাবে এক দিনে ১১০ গ্রাম আপেল বা ২৫০ গ্রাম পাকা পেঁপে বা ১০০ গ্রাম লিচু বা ৭০ গ্রাম পাকা কলা বা ৭৫ গ্রাম আঙুর বা ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল বা ২৫০ গ্রাম তরমুজ বা ১৩০ গ্রাম আম বা ১৫০ গ্রাম নাশপাতি বা ১২০ গ্রাম মাল্টা বা ১০০ গ্রাম বেদানা খেতে পারবেন।

কিছু পরামর্শ

প্রধান খাবারের সঙ্গে কখনো মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না। মধ্য সকাল বা বিকেলে স্ন্যাক্স হিসেবে মিষ্টি ফল খেতে হবে। রাতের খাবারের পরও মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে না।

ফল পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস। সে ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনির সমস্যা থাকলে কিছু বিধিনিষেধ মানতে হবে।

ফল জুস বানিয়ে খাওয়া যাবে না। ফলের জুস বানালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক বেড়ে যায়।

শরীরের ভিটামিন, মিনারেলসহ নানা পুষ্টি উপাদানের চাহিদা পূরণে তাজা ফলমূল খাওয়া ভালো। তবে একবারে বেশি খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ পেতে একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল