ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হা হা রিয়েক্টের কারণেই হামলা: এক মায়ের মৃত্যু সীমান্তের আরএসও’র গুলির পর বৈঠার আঘাতে রক্তাক্ত স্থানীয় যুবক কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটির যাত্রা: নিজস্ব প্রোডাকশনে স্থানীয় সিনেমা নির্মাণ ও সিনেমা হল ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ রহিম উল্লাহ খান রানা শহর ছাত্রদলের সভাপতি পদে আলোচনায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে আনোয়ারী- “সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে” চকরিয়ায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার ৩০ পর্যটক অসুস্থের ঘটনায় আল্-গণিতে যৌথ অভিযান, ৫০ হাজার টাকা দন্ড বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী হতদরিদ্রদের চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করবে সরকার রাষ্ট্র ও সমাজকে মেরামত করতে হবে : তথ্যমন্ত্রী সারাদেশে ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে ১৩ জেলায় অব্যাহত থাকবে তাপপ্রবাহ সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস আজ সাংবাদিক মুজিবকে হেনস্থা- উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের বিবৃতি ও নিন্দা পানের দোকানি থেকে উখিয়া সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি-মুন্নার উত্থান যেভাবে

গুলিতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নিহত

কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের এলোপাতাড়ি গুলিতে হাসান আহমেদ ওরফে ‘কালা হাসান’ (৪৫) নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি পূর্বে ডাকাত বাহিনী ‘জকির গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ১০ টার দিকে টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

আজ শুক্রাবার সকালে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত হাসান আহমেদ ওরফে কালা হাসানের বাড়ি নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের ৬৩৪ নম্বর শেডে। তার এমআরসি নম্বর ৩৯২২৫। তিনি সুলতান আহমেদের ছেলে।

স্থানীয়দের বরাতে মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানিয়েছেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা সশস্ত্র অবস্থায় ক্যাম্পে প্রবেশ করে হাসান আহমেদকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে তার বুকের ডান পাশে আঘাত লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর হামলাকারীরা ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়। স্থানীয় রোহিঙ্গারা আহত অবস্থায় হাসানকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্যাম্পসংলগ্ন জি/কে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় ।

তার ভাষ্য, “ক্যাম্পের আধিপত্য বিস্তার, মসজিদ কমিটি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা বলে মুচনী রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের কমিটির এক সদস্য রাতে হাসানকে ডেকে নেন। পরে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৬ থেকে ৭ জন সশস্ত্র সদস্য তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।”

তিনি জানিয়েছেন, খবর পেয়ে নয়াপাড়া এপিবিএনের একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এপিবিএন অধিনায়ক কাউছার নিশ্চিত করেছেন, নিহত হাসান পূর্বে জকির গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি অস্ত্র মামলা, দুটি ডাকাতি প্রস্তুতি মামলা এবং দুটি অপহরণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

টেকনাফ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ ক্যাম্পবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে দাবি করেছেন রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

হা হা রিয়েক্টের কারণেই হামলা: এক মায়ের মৃত্যু

গুলিতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নিহত

আপডেট সময় : ১২:১৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের এলোপাতাড়ি গুলিতে হাসান আহমেদ ওরফে ‘কালা হাসান’ (৪৫) নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি পূর্বে ডাকাত বাহিনী ‘জকির গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ১০ টার দিকে টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

আজ শুক্রাবার সকালে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত হাসান আহমেদ ওরফে কালা হাসানের বাড়ি নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের ৬৩৪ নম্বর শেডে। তার এমআরসি নম্বর ৩৯২২৫। তিনি সুলতান আহমেদের ছেলে।

স্থানীয়দের বরাতে মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানিয়েছেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা সশস্ত্র অবস্থায় ক্যাম্পে প্রবেশ করে হাসান আহমেদকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে তার বুকের ডান পাশে আঘাত লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর হামলাকারীরা ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়। স্থানীয় রোহিঙ্গারা আহত অবস্থায় হাসানকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্যাম্পসংলগ্ন জি/কে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় ।

তার ভাষ্য, “ক্যাম্পের আধিপত্য বিস্তার, মসজিদ কমিটি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা বলে মুচনী রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের কমিটির এক সদস্য রাতে হাসানকে ডেকে নেন। পরে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৬ থেকে ৭ জন সশস্ত্র সদস্য তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।”

তিনি জানিয়েছেন, খবর পেয়ে নয়াপাড়া এপিবিএনের একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এপিবিএন অধিনায়ক কাউছার নিশ্চিত করেছেন, নিহত হাসান পূর্বে জকির গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি অস্ত্র মামলা, দুটি ডাকাতি প্রস্তুতি মামলা এবং দুটি অপহরণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

টেকনাফ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ ক্যাম্পবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে দাবি করেছেন রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম।