ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানের দোকানি থেকে উখিয়া সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি-মুন্নার উত্থান যেভাবে কারিনা কায়সার আর নেই লবণের পরিচয় সংকট: কৃষকের ঘামের ফসল, নাকি শুধু শিল্পের কাঁচামাল? ঐক্যবদ্ধ টেকনাফ গড়ার অঙ্গীকার: এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির যৌথ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন পেকুয়ার রাজাখালী  ফারুক – উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে এগিয়ে যে নাম চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হ্নীলার ইসমাইল ‘মানিলন্ডারিং-মানবপাচার চক্রের’ রোহিঙ্গা সদস্য আটক সোহেল সরওয়ার কাজল অসুস্থ: দোয়া কামনা পরিবারের টেকনাফে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তা লাঞ্ছিত করার মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬তম আবির্ভাব উৎসব উদযাপন কমিটি গঠিত র‌্যাবের জালে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি টেকনাফ ও উখিয়ায় পৃথক অভিযানে ৭২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২ ”খেলাঘরের “ ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন রামুর দরিয়া খেলাঘর আসরের হজে গিয়ে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু, মোট মৃতের সংখ্যা ১৪

পানের দোকানি থেকে উখিয়া সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি-মুন্নার উত্থান যেভাবে

উখিয়া সদরের ব্যস্ততম মোড় ফরেস্টরোড, বছর পাঁচেক আগে যেখানকার একটি পানের দোকানে কর্মচারী ছিলেন পালংখালীর আব্দুস সালামের পুত্র সাখাওয়াত হোসেন মুন্না।

মিয়ানমার সীমান্তের উখিয়া অংশে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের হটস্পট খ্যাত ‘আঞ্জুমান পাড়ায়’ একচত্র নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠা সেই মুন্না এখন নিষিদ্ধ ইয়াবার বদৌলতে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক।

২০২১ সালের ৬ নভেম্বর পালংখালী ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকা থেকে সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা সহ র‍্যাবের হাতে আটক চার মাদক কারবারির একজন মুন্না সে ঘটনায় দায়েরকৃত মাদক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী।

পুলিশের পিসিপিআরের তথ্য অনুযায়ী মুন্নার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গত ৮ মে মুন্নার আপন চাচার বাড়ির আঙ্গিনা থেকে র‍্যাব-১৫ আড়াই লক্ষাধিক ইয়াবা উদ্ধার করে। ঘটনার তিন দিনপর স্থানীয় আরো চার ব্যক্তিকে নিয়ে কক্সবাজারে একটি সংবাদ সম্মেলন করে মুন্না দাবী করেন, ‘ ইয়াবাগুলো তারা সোর্স হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে ধরে দিয়েছে সন্দেহের জেরে স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল ফয়েজ দ্বারা অপহরণ-নির্যাতনের শিকার ।’

এই আবুল ফয়েজ মুন্নার সংবাদ সম্মেলনের একদিন পর প্রকাশ্যে শপথ করে মুন্নাদের সেই দাবী অস্বীকার করেন। পাশাপাশি একই দিনে বটতলী এলাকায় প্রায় সহস্রাধিক স্থানীয় মানুষ ও বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী ফয়েজের পক্ষে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করে।

আঞ্জুমানে দুই আত্মীয়ের মধ্যে ইয়াবা নিয়ে এমন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বকে ঐ এলাকার নিয়ন্ত্রক দুই সাবেক জনপ্রতিনিধির দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের বহিঃপ্রকাশ।

শুণ্যরেখার নিকট হওয়া এগ্রামে রয়েছে অসংখ্য মৎস্যখামার, যেখানে শ্রমিকের কাজ করেন ৫০ উর্ধ্ব বৃদ্ধ আব্দুল গফুর (ছদ্মনাম)। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘ ইউপি সদস্যের চেয়ার দখলে এখানে লোক দেখানো লড়াই করে তারা। ক্ষমতা যার এ এলাকায় সবকিছু তার এমন পরিস্থিতিই দেখে আসছি সবসময়।’

‘আমি মাদক ব্যবসা করি না’ এমন জবাব দিয়ে বাকি প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান মুন্না। এছাড়াও ইয়াবার মামলায় ৩ বছরের অধিক সময়ে কারাগারে থাকা মুন্না গণমাধ্যমের সামনে জানান, ‘ আবুল ফয়েজের ভয়ে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এজন্য পরিত্রাণ পেতে সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হয়েছেন।’

অন্যদিকে আবুল ফয়েজের দাবী, এলাকায় জনপ্রিয় হওয়ায় মুন্না তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ মাদক নিয়ন্ত্রণে আমরা সদাতৎপর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিয়মিত মাদক কারবারি গ্রেফতার হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হচ্ছে। আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের আদেশে শীঘ্রই মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হচ্ছে৷ সূত্রের দাবী – শুদ্ধিকরণ এই অভিযান জিরো টলারেন্স নীতিতে পরিচালিত হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পানের দোকানি থেকে উখিয়া সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি-মুন্নার উত্থান যেভাবে

পানের দোকানি থেকে উখিয়া সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি-মুন্নার উত্থান যেভাবে

আপডেট সময় : ০২:০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

উখিয়া সদরের ব্যস্ততম মোড় ফরেস্টরোড, বছর পাঁচেক আগে যেখানকার একটি পানের দোকানে কর্মচারী ছিলেন পালংখালীর আব্দুস সালামের পুত্র সাখাওয়াত হোসেন মুন্না।

মিয়ানমার সীমান্তের উখিয়া অংশে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের হটস্পট খ্যাত ‘আঞ্জুমান পাড়ায়’ একচত্র নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠা সেই মুন্না এখন নিষিদ্ধ ইয়াবার বদৌলতে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক।

২০২১ সালের ৬ নভেম্বর পালংখালী ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকা থেকে সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা সহ র‍্যাবের হাতে আটক চার মাদক কারবারির একজন মুন্না সে ঘটনায় দায়েরকৃত মাদক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী।

পুলিশের পিসিপিআরের তথ্য অনুযায়ী মুন্নার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গত ৮ মে মুন্নার আপন চাচার বাড়ির আঙ্গিনা থেকে র‍্যাব-১৫ আড়াই লক্ষাধিক ইয়াবা উদ্ধার করে। ঘটনার তিন দিনপর স্থানীয় আরো চার ব্যক্তিকে নিয়ে কক্সবাজারে একটি সংবাদ সম্মেলন করে মুন্না দাবী করেন, ‘ ইয়াবাগুলো তারা সোর্স হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে ধরে দিয়েছে সন্দেহের জেরে স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল ফয়েজ দ্বারা অপহরণ-নির্যাতনের শিকার ।’

এই আবুল ফয়েজ মুন্নার সংবাদ সম্মেলনের একদিন পর প্রকাশ্যে শপথ করে মুন্নাদের সেই দাবী অস্বীকার করেন। পাশাপাশি একই দিনে বটতলী এলাকায় প্রায় সহস্রাধিক স্থানীয় মানুষ ও বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী ফয়েজের পক্ষে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করে।

আঞ্জুমানে দুই আত্মীয়ের মধ্যে ইয়াবা নিয়ে এমন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বকে ঐ এলাকার নিয়ন্ত্রক দুই সাবেক জনপ্রতিনিধির দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের বহিঃপ্রকাশ।

শুণ্যরেখার নিকট হওয়া এগ্রামে রয়েছে অসংখ্য মৎস্যখামার, যেখানে শ্রমিকের কাজ করেন ৫০ উর্ধ্ব বৃদ্ধ আব্দুল গফুর (ছদ্মনাম)। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘ ইউপি সদস্যের চেয়ার দখলে এখানে লোক দেখানো লড়াই করে তারা। ক্ষমতা যার এ এলাকায় সবকিছু তার এমন পরিস্থিতিই দেখে আসছি সবসময়।’

‘আমি মাদক ব্যবসা করি না’ এমন জবাব দিয়ে বাকি প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান মুন্না। এছাড়াও ইয়াবার মামলায় ৩ বছরের অধিক সময়ে কারাগারে থাকা মুন্না গণমাধ্যমের সামনে জানান, ‘ আবুল ফয়েজের ভয়ে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এজন্য পরিত্রাণ পেতে সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হয়েছেন।’

অন্যদিকে আবুল ফয়েজের দাবী, এলাকায় জনপ্রিয় হওয়ায় মুন্না তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ মাদক নিয়ন্ত্রণে আমরা সদাতৎপর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিয়মিত মাদক কারবারি গ্রেফতার হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হচ্ছে। আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের আদেশে শীঘ্রই মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হচ্ছে৷ সূত্রের দাবী – শুদ্ধিকরণ এই অভিযান জিরো টলারেন্স নীতিতে পরিচালিত হবে।