ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গর্জনিয়ায় মোটরসাইকেল চালক সমিতির ইফতার মাহফিল চকরিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণ : উড়ে গেল কাঠুরিয়ার পা ভিন্ন আবহে আরেকটি ৭ মার্চ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের আহবায়ক কমিটি গঠিত – আহবায়ক: মোজাম্মেল হক, সদস্য সচিব: আরোজ ফারুক ‘আমার মত অনেক মেয়ে আপেল মাহমুদের কাছে নির্যাতিত’ -লাইলা পরী পেকুয়ায় মা–মেয়ের এক মাসের কারাদণ্ডের অন্তরালে “নব্য জাহেলিয়াত থেকে মুক্তির জন্য ইসলামী অনুশাসনের বিকল্প নেই – আনোয়ারী সিবিআইইউতে বিবিএ ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল বিপিসি রামুতে সরঞ্জাম ও জাল টাকাসহ যুবক আটক সাগরপাড়ে প্রশান্তির ইফতার রত্নগর্ভা রিজিয়া আহমেদ স্মরণে ফেইম ফাউন্ডেশনের ইফতার ও ঈদসামগ্রী বিতরণ ইফতারে দই-চিড়া কেন খাবেন? আরকান আর্মির হাতে আটক তিন বাংলাদেশিকে ফেরত আনল বিজিবি
মন্তব্য কলাম

কি হতে পারে: নির্বাচন, না নতুন অন্তর্বর্তী সরকার?

সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে আঙুলের উপরের ভাগে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি কি ভেস্তে যাবে জেদের রাজনীতিতে? প্রশ্নটা আজ প্রতিটি সচেতন নাগরিকের মনে।

পাঁচ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পথচলায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকার ঘূর্ণিঝড়ের ন্যায় দ্রুত সংস্কার আনবে, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং আস্থার সংকট দূর করবে। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে, সরকারের ভেতরে বিভাজন, অনিশ্চয়তা ও পারস্পরিক সন্দেহ ততই প্রকট হয়ে উঠছে।

উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ববোধের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, বক্তব্যে একরূপতা হারাচ্ছে, এমনকি কিছু মুখ এখন নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দলীয়ধর্মী মন্তব্য, পরিবেশ উপদেষ্টার অস্পষ্ট অবস্থান, কিংবা প্রধান উপদেষ্টার দফতরে যোগাযোগের ঘাটতি, সবকিছু মিলিয়ে সরকারের ভেতরে এক ধরনের দিক হীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এনসিপি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে। ছাত্র সংগঠনের দুর্বলতা, মাঠ পর্যায়ের ভঙ্গুর কাঠামো এবং নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা মানুষের হতাশা আরও গভীর করছে। জুলাই সনদ, যা একসময় সংস্কারের প্রতীক হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল, এখন সাধারণ মানুষের কাছে অর্থহীন এক শব্দে পরিণত হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে হিসাব-নিকাশের নতুন খেলা। বিএনপি মনে করছে, আগামীকাল যদি নির্বাচন হয়, তারা ক্ষমতায় ফিরবে; তাই তারা দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে। জামায়াত এখনো মাঠে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, তারা সময় টানতে চাইছে। জাতীয় পার্টি অপেক্ষা করছে তফসিল ঘোষণার। তাদের আশা, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট গড়ে আবারও ক্ষমতার অংশীদার হবে। আর আওয়ামী লীগ কৌশলগত ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের কোনো ইঙ্গিত নেই। দলটি প্রতিটি আসনে প্রার্থী প্রস্তুত করছে, যেন যে কোনো সময় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলেও তারা প্রস্তুত থাকে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে নতুন সমীকরণও গড়ে উঠছে। কেউ কেউ মনে করছেন, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বিএনপির সঙ্গে নরম সমন্বয়ের পথে এগোচ্ছেন। এনসিপি-ও হয়তো বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে পারে! জামায়াত হয়তো একাই নির্বাচনে নামবে, আর আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য জোট নাঙ্গল প্রতীকে ভোটযুদ্ধে নামবে বলেই অনেকে বিশ্বাস করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি পথ খোলা। এক: নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এবং আওয়ামী লীগ–জাতীয় পার্টি জোট বিজয়ী হলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হবে, সংস্কারের কিছু ধারা টিকে থাকবে। দুই: নির্বাচন স্থগিত হতে পারে, সরকারের মেয়াদ বাড়বে, উপদেষ্টা পরিবর্তন হবে, কিন্তু আস্থা সংকট আরও গভীর হবে। তিন: একটি নিয়ন্ত্রিত অন্তর্বর্তী মডেল গঠিত হতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা প্রভাব বজায় থাকবে, তবে বাহ্যিকভাবে বেসামরিক কাঠামোই থাকবে।

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক রূপান্তর কালের মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকার থেকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফেরার এই যাত্রা সহজ নয়। নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক শক্তি হয়তো সামনে এসে এক নতুন ধারার সূচনা করতে পারে, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে প্রাধান্য পাবে দায়বদ্ধতা ও সুশাসনের আদর্শ। তবে প্রশ্ন একটাই, এই রূপান্তর কি শান্তিপূর্ণ ভাবে ঘটবে, না আমরা আবারও ফিরে যাব সেই পুরনো অস্থিরতার বৃত্তে?

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক
গবেষক ও চিন্তক।

ট্যাগ :
আপলোডকারীর তথ্য

Mohammad Noman

মোহাম্মেদ নোমান কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার একজন তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিটিএন কক্সবাজার এর মাধ্যমে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করে পরিচিতি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি অনলাইন এর টেকনাফ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকতার মাধ্যমে সীমান্তাঞ্চল টেকনাফের জনজীবন, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবিক বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। সততা, দায়িত্ববোধ ও মাঠভিত্তিক অনুসন্ধানী কাজের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতায় একটি সম্ভাবনাময় নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে চলেছেন।

গর্জনিয়ায় মোটরসাইকেল চালক সমিতির ইফতার মাহফিল

মন্তব্য কলাম

কি হতে পারে: নির্বাচন, না নতুন অন্তর্বর্তী সরকার?

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে আঙুলের উপরের ভাগে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি কি ভেস্তে যাবে জেদের রাজনীতিতে? প্রশ্নটা আজ প্রতিটি সচেতন নাগরিকের মনে।

পাঁচ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পথচলায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকার ঘূর্ণিঝড়ের ন্যায় দ্রুত সংস্কার আনবে, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং আস্থার সংকট দূর করবে। কিন্তু সময় যত যাচ্ছে, সরকারের ভেতরে বিভাজন, অনিশ্চয়তা ও পারস্পরিক সন্দেহ ততই প্রকট হয়ে উঠছে।

উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ববোধের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, বক্তব্যে একরূপতা হারাচ্ছে, এমনকি কিছু মুখ এখন নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দলীয়ধর্মী মন্তব্য, পরিবেশ উপদেষ্টার অস্পষ্ট অবস্থান, কিংবা প্রধান উপদেষ্টার দফতরে যোগাযোগের ঘাটতি, সবকিছু মিলিয়ে সরকারের ভেতরে এক ধরনের দিক হীনতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এনসিপি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে। ছাত্র সংগঠনের দুর্বলতা, মাঠ পর্যায়ের ভঙ্গুর কাঠামো এবং নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা মানুষের হতাশা আরও গভীর করছে। জুলাই সনদ, যা একসময় সংস্কারের প্রতীক হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল, এখন সাধারণ মানুষের কাছে অর্থহীন এক শব্দে পরিণত হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে হিসাব-নিকাশের নতুন খেলা। বিএনপি মনে করছে, আগামীকাল যদি নির্বাচন হয়, তারা ক্ষমতায় ফিরবে; তাই তারা দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে। জামায়াত এখনো মাঠে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, তারা সময় টানতে চাইছে। জাতীয় পার্টি অপেক্ষা করছে তফসিল ঘোষণার। তাদের আশা, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট গড়ে আবারও ক্ষমতার অংশীদার হবে। আর আওয়ামী লীগ কৌশলগত ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের কোনো ইঙ্গিত নেই। দলটি প্রতিটি আসনে প্রার্থী প্রস্তুত করছে, যেন যে কোনো সময় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলেও তারা প্রস্তুত থাকে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে নতুন সমীকরণও গড়ে উঠছে। কেউ কেউ মনে করছেন, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বিএনপির সঙ্গে নরম সমন্বয়ের পথে এগোচ্ছেন। এনসিপি-ও হয়তো বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে পারে! জামায়াত হয়তো একাই নির্বাচনে নামবে, আর আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য জোট নাঙ্গল প্রতীকে ভোটযুদ্ধে নামবে বলেই অনেকে বিশ্বাস করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি পথ খোলা। এক: নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এবং আওয়ামী লীগ–জাতীয় পার্টি জোট বিজয়ী হলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হবে, সংস্কারের কিছু ধারা টিকে থাকবে। দুই: নির্বাচন স্থগিত হতে পারে, সরকারের মেয়াদ বাড়বে, উপদেষ্টা পরিবর্তন হবে, কিন্তু আস্থা সংকট আরও গভীর হবে। তিন: একটি নিয়ন্ত্রিত অন্তর্বর্তী মডেল গঠিত হতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা প্রভাব বজায় থাকবে, তবে বাহ্যিকভাবে বেসামরিক কাঠামোই থাকবে।

বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক রূপান্তর কালের মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকার থেকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফেরার এই যাত্রা সহজ নয়। নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক শক্তি হয়তো সামনে এসে এক নতুন ধারার সূচনা করতে পারে, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে প্রাধান্য পাবে দায়বদ্ধতা ও সুশাসনের আদর্শ। তবে প্রশ্ন একটাই, এই রূপান্তর কি শান্তিপূর্ণ ভাবে ঘটবে, না আমরা আবারও ফিরে যাব সেই পুরনো অস্থিরতার বৃত্তে?

লেখক-শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক
গবেষক ও চিন্তক।