ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মামলা প্রত্যাহারের হুমকির পর বাদী সাংবাদিককে অপহরণের চেষ্টা: ইয়াবা গডফাদার ভুট্টো গং এর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের মহেশখালীতে ৬তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা, যুবককে উদ্ধার করে হেফাজতে নিল পুলিশ সৌদিতে বিদেশি নাগরিকদের জমির মালিক হওয়ার সুযোগ তারুণ্য ধরে রাখতে চান? খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৮টি ‘সুপারফুড’ মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনায় যা বললেন রোনালদো কক্সবাজারসহ দেশের ১৬ অঞ্চলে ঝড়- বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী দেশজুড়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন ২৮ জুন উনচল্লিশেও টগবগে তারুণ্য: শুভ জন্মদিন, মেসি পেকুয়ায় ভুয়া ডিজিএফআই পরিচয় দেয়া এক নারী আটক নারী ও কিশোরীদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল নিরাপত্তা পরিবেশ গঠনের অঙ্গীকার: টেকনাফে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত মহেশখালীর ধলঘাটার ফাটাঘোনা ও মিলঘোনা উন্মুক্ত নিলামের দাবি, সংঘর্ষের আশঙ্কায় জমির মালিকরা বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক আরিফ উদ্দিন সাময়িকভাবে বরখাস্ত : কক্সবাজারেও তার বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগ হরমুজ প্রণালি থেকে যেভাবে বের হয়ে এলো বাংলার জয়যাত্রা কক্সবাজারে ৩ দিনের সফরে আসছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঈদগাঁওতে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় মাত্র ৮০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মো. হামিদ (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লরাবাগ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা ও বোনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত হামিদ ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে কাজ করতেন। অভিযুক্ত মো. শামীম (১৮) একই এলাকার মোহাম্মদ সিদ্দিকের ছেলে। তিনি পেশায় টমটমচালক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামিদ ও শামীম প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কিছুদিন আগে শামীম তার একটি মোবাইল ফোন হামিদের কাছে মেরামত করান। মেরামত বাবদ প্রায় ৮০০ টাকা পাওনা থাকলেও শামীম তা পরিশোধ না করে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে শামীমের বাড়ির পাশে দেখা হলে হামিদ পাওনা টাকা চাইলে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শামীমের মা ফাতেমা বেগম ও বোন রুমেনা আক্তার ঘটনাস্থলে এসে হামিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. আলমের ভাষ্য, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শামীম আচমকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে হামিদের পেটের পাশে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি বলেছেন, “একটি মোবাইল মেরামতের পাওনা টাকা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এলাকায় আগে ঘটেনি। এতে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।”

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে শামীমকে আটক করে। একই সঙ্গে তার মা ও বোনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তাদের ঈদগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রধান অভিযুক্ত শামীমকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার মা ও বোনকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।”

তিনি বলেছেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মামলা প্রত্যাহারের হুমকির পর বাদী সাংবাদিককে অপহরণের চেষ্টা: ইয়াবা গডফাদার ভুট্টো গং এর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের

ঈদগাঁওতে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বন্ধুর

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় মাত্র ৮০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মো. হামিদ (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লরাবাগ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা ও বোনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত হামিদ ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে কাজ করতেন। অভিযুক্ত মো. শামীম (১৮) একই এলাকার মোহাম্মদ সিদ্দিকের ছেলে। তিনি পেশায় টমটমচালক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামিদ ও শামীম প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কিছুদিন আগে শামীম তার একটি মোবাইল ফোন হামিদের কাছে মেরামত করান। মেরামত বাবদ প্রায় ৮০০ টাকা পাওনা থাকলেও শামীম তা পরিশোধ না করে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে শামীমের বাড়ির পাশে দেখা হলে হামিদ পাওনা টাকা চাইলে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শামীমের মা ফাতেমা বেগম ও বোন রুমেনা আক্তার ঘটনাস্থলে এসে হামিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. আলমের ভাষ্য, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শামীম আচমকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে হামিদের পেটের পাশে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি বলেছেন, “একটি মোবাইল মেরামতের পাওনা টাকা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এলাকায় আগে ঘটেনি। এতে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।”

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে শামীমকে আটক করে। একই সঙ্গে তার মা ও বোনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তাদের ঈদগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রধান অভিযুক্ত শামীমকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার মা ও বোনকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।”

তিনি বলেছেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।