ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার ওভারটেকের সময় ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো সিএনজি, প্রাণ গেল দুই যাত্রীর পেকুয়ায় গরুর কা/টা মাথার সূত্র ধরেই মিলল চোরের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ শাহপরীর দ্বীপে সাড়ে চার কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল সেন্টমার্টিনে খতনার পর অসুস্থ হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দিলো সরকারি মেডিকেল টিম আবেগঘন স্ট্যাটাস :সহধর্মিণীর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন এমপি কাজল কক্সবাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারে বিলাস ভ্রমণে গিয়ে ধরা ‘কেডিসি বস্তি’র ৫ বাসিন্দা আজ পৃথিবীর মন খারাপ: ‘বিদায়’ বললেন, ফুটবলের কবি হামের টিকার আওতায় ২ কোটি শিশু, এক মাসে দেওয়া হবে আরও ৩৫ লাখ প্রবাসীদের পরিবার নিয়ে সৌদি থাকার সুযোগ সাগরে লঘুচাপ, টানা বৃষ্টির আভাস দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে : রিজভী

ঈদগাঁওতে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় মাত্র ৮০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মো. হামিদ (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লরাবাগ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা ও বোনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত হামিদ ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে কাজ করতেন। অভিযুক্ত মো. শামীম (১৮) একই এলাকার মোহাম্মদ সিদ্দিকের ছেলে। তিনি পেশায় টমটমচালক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামিদ ও শামীম প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কিছুদিন আগে শামীম তার একটি মোবাইল ফোন হামিদের কাছে মেরামত করান। মেরামত বাবদ প্রায় ৮০০ টাকা পাওনা থাকলেও শামীম তা পরিশোধ না করে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে শামীমের বাড়ির পাশে দেখা হলে হামিদ পাওনা টাকা চাইলে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শামীমের মা ফাতেমা বেগম ও বোন রুমেনা আক্তার ঘটনাস্থলে এসে হামিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. আলমের ভাষ্য, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শামীম আচমকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে হামিদের পেটের পাশে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি বলেছেন, “একটি মোবাইল মেরামতের পাওনা টাকা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এলাকায় আগে ঘটেনি। এতে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।”

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে শামীমকে আটক করে। একই সঙ্গে তার মা ও বোনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তাদের ঈদগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রধান অভিযুক্ত শামীমকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার মা ও বোনকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।”

তিনি বলেছেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :

মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত

ঈদগাঁওতে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বন্ধুর

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় মাত্র ৮০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মো. হামিদ (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লরাবাগ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা ও বোনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত হামিদ ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে কাজ করতেন। অভিযুক্ত মো. শামীম (১৮) একই এলাকার মোহাম্মদ সিদ্দিকের ছেলে। তিনি পেশায় টমটমচালক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামিদ ও শামীম প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কিছুদিন আগে শামীম তার একটি মোবাইল ফোন হামিদের কাছে মেরামত করান। মেরামত বাবদ প্রায় ৮০০ টাকা পাওনা থাকলেও শামীম তা পরিশোধ না করে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে শামীমের বাড়ির পাশে দেখা হলে হামিদ পাওনা টাকা চাইলে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শামীমের মা ফাতেমা বেগম ও বোন রুমেনা আক্তার ঘটনাস্থলে এসে হামিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. আলমের ভাষ্য, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শামীম আচমকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে হামিদের পেটের পাশে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি বলেছেন, “একটি মোবাইল মেরামতের পাওনা টাকা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এলাকায় আগে ঘটেনি। এতে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।”

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে শামীমকে আটক করে। একই সঙ্গে তার মা ও বোনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তাদের ঈদগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রধান অভিযুক্ত শামীমকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার মা ও বোনকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।”

তিনি বলেছেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।