ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
“আজতেকা থেকে কক্সবাজার: ফুটবলের উদ্বোধনী বাঁশি যেন সমুদ্রের ঢেউয়েও” ৫ মাস পর মুক্তি! ৪টি ট্রলারসহ ৯১ বাংলাদেশি কুতুবদিয়ার জেলেকে ফেরত দিলো ভারত নাফ নদীতে আরাকান আর্মির গুলি, সাঁতরে বাংলাদেশে এলেন আহত রোহিঙ্গা যুবক মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে গাজী সালাহউদ্দিন মানিককে চায় তৃণমূল শিল্পী ইফতিকে নিয়ে মানহানিকর ভূয়া সংবাদ : কমবার নিন্দা ও আইনের আওতায় আনার দাবী টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৫০ ভুক্তভোগী উদ্ধার, আটক ৯ পাচারকারী ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই সচেতন হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে ভোর রাতে সাংবাদিকের বাড়িতে ডাকাতি, বৃদ্ধ দম্পতিকে জিম্মি করে টাকা-স্বর্ণালংকার লুট রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা কারাগার তৈরীর প্রস্তাব। কক্সবাজারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি নাইক্ষ্যংছড়িতে বৃদ্ধার বোরকার ভিতরে মিলল ২০ হাজার ইয়াবা ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮ দলের স্কোয়াড দেখে নিন এক নজরে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে ৬৫ ভাগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মুক্ত রাখা হয়েছে : তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজার উপকূলে এগোচ্ছে মৌসুমীবায়ু, দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির আভাস ফুটবল রোমাঞ্চে ভরা রাত- মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও পর্তুগাল
সম্পাদকীয়

আমরা কাকে ভোট দেব; তা নয়, আমরা কী জন্য ভোট দেব?

নির্বাচন এলেই চারপাশে একটাই আলোচনা; কে জিতবে, কে হারবে, কোন দল এগিয়ে। কিন্তু একটু থেমে যদি নিজেকে জিজ্ঞেস করি; আমরা আসলে কী জন্য ভোট দিই? এই প্রশ্নটা কক্সবাজারের মতো জেলায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কক্সবাজারের মানুষ একরকম নয়। কেউ উপকূলে মাছ ধরে, কেউ পাহাড়ে বসবাস করে, কেউ লবণ চাষ করে, কেউ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত, কেউ শহরে দোকান চালায়, কেউ আবার সীমান্ত ঘেঁষা অনিশ্চয়তার ভেতর দিন কাটায়। তাই এখানকার মানুষের কাছে ভোট মানে শুধু দল বা প্রতীক নয়; ভোট মানে জীবন নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত।

তরুণদের কথাই ধরা যাক। তারা অতীতের রাজনৈতিক গল্প খুব একটা টানে না। কে কী আন্দোলন করেছে, কে কবে ক্ষমতায় ছিল, এসব তাদের কাছে বড় বিষয় নয়। তারা জানতে চায়, ভোট দিলে চাকরি হবে কি না, কাজ শেখার সুযোগ মিলবে কি না, ভবিষ্যৎটা একটু নিরাপদ হবে কি না। সহজ কথা, তারা স্লোগান নয়, ফল দেখতে চায়।

নারীরাও একই প্রশ্ন করেন, যদিও অনেক সময় তা খুব নীরবে। নিরাপত্তা থাকবে তো? হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা মিলবে তো? সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারব তো? উপকূলীয় এলাকায় ঝড়; জলোচ্ছ্বাসের ভয় তো আছেই। এসব বাস্তব প্রশ্নের উত্তর না পেলে বড় বড় রাজনৈতিক কথা তাদের মন ছুঁতে পারে না।

আরেকটা বড় প্রশ্ন হলো; ভোট দেওয়া যাবে তো ঠিকভাবে? ভোটকেন্দ্রে গেলে নিরাপদ লাগবে তো? ভোটটা ঠিকমতো গণনা হবে তো? মানুষ শুধু কাকে ভোট দেবে, তা নিয়ে ভাবে না; মানুষ ভাবে, ভোট দেওয়ার মানে আছে তো?

অনেকেই বলেন, ভোট দিয়ে কী হবে; কিছুই তো বদলায় না। এই হতাশা নতুন নয়। কিন্তু এখানেই আসলে সবচেয়ে বড় সুযোগ। যদি মানুষ প্রশ্ন তোলে, দাবি তোলে; ভোটটা কেন দিচ্ছি, কী চাই; তাহলেই রাজনীতির ভাষা বদলাতে বাধ্য হবে।

তাই ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে প্রশ্নটা হওয়া উচিত, কে জিতবে, তা নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই ভোট কি আমাদের কাজ, শিক্ষা, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার পথে নিয়ে যাবে?

ভোট শুধু একটি দিন নয়, এটি আমাদের প্রত্যাশার প্রকাশ। আমরা কাকে ভোট দেব, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আমরা কী জন্য ভোট দেব। এই প্রশ্নটাই যদি সামনে আসে, তাহলেই নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

“আজতেকা থেকে কক্সবাজার: ফুটবলের উদ্বোধনী বাঁশি যেন সমুদ্রের ঢেউয়েও”

সম্পাদকীয়

আমরা কাকে ভোট দেব; তা নয়, আমরা কী জন্য ভোট দেব?

আপডেট সময় : ০৭:০৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন এলেই চারপাশে একটাই আলোচনা; কে জিতবে, কে হারবে, কোন দল এগিয়ে। কিন্তু একটু থেমে যদি নিজেকে জিজ্ঞেস করি; আমরা আসলে কী জন্য ভোট দিই? এই প্রশ্নটা কক্সবাজারের মতো জেলায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কক্সবাজারের মানুষ একরকম নয়। কেউ উপকূলে মাছ ধরে, কেউ পাহাড়ে বসবাস করে, কেউ লবণ চাষ করে, কেউ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত, কেউ শহরে দোকান চালায়, কেউ আবার সীমান্ত ঘেঁষা অনিশ্চয়তার ভেতর দিন কাটায়। তাই এখানকার মানুষের কাছে ভোট মানে শুধু দল বা প্রতীক নয়; ভোট মানে জীবন নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত।

তরুণদের কথাই ধরা যাক। তারা অতীতের রাজনৈতিক গল্প খুব একটা টানে না। কে কী আন্দোলন করেছে, কে কবে ক্ষমতায় ছিল, এসব তাদের কাছে বড় বিষয় নয়। তারা জানতে চায়, ভোট দিলে চাকরি হবে কি না, কাজ শেখার সুযোগ মিলবে কি না, ভবিষ্যৎটা একটু নিরাপদ হবে কি না। সহজ কথা, তারা স্লোগান নয়, ফল দেখতে চায়।

নারীরাও একই প্রশ্ন করেন, যদিও অনেক সময় তা খুব নীরবে। নিরাপত্তা থাকবে তো? হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা মিলবে তো? সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারব তো? উপকূলীয় এলাকায় ঝড়; জলোচ্ছ্বাসের ভয় তো আছেই। এসব বাস্তব প্রশ্নের উত্তর না পেলে বড় বড় রাজনৈতিক কথা তাদের মন ছুঁতে পারে না।

আরেকটা বড় প্রশ্ন হলো; ভোট দেওয়া যাবে তো ঠিকভাবে? ভোটকেন্দ্রে গেলে নিরাপদ লাগবে তো? ভোটটা ঠিকমতো গণনা হবে তো? মানুষ শুধু কাকে ভোট দেবে, তা নিয়ে ভাবে না; মানুষ ভাবে, ভোট দেওয়ার মানে আছে তো?

অনেকেই বলেন, ভোট দিয়ে কী হবে; কিছুই তো বদলায় না। এই হতাশা নতুন নয়। কিন্তু এখানেই আসলে সবচেয়ে বড় সুযোগ। যদি মানুষ প্রশ্ন তোলে, দাবি তোলে; ভোটটা কেন দিচ্ছি, কী চাই; তাহলেই রাজনীতির ভাষা বদলাতে বাধ্য হবে।

তাই ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে প্রশ্নটা হওয়া উচিত, কে জিতবে, তা নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই ভোট কি আমাদের কাজ, শিক্ষা, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার পথে নিয়ে যাবে?

ভোট শুধু একটি দিন নয়, এটি আমাদের প্রত্যাশার প্রকাশ। আমরা কাকে ভোট দেব, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আমরা কী জন্য ভোট দেব। এই প্রশ্নটাই যদি সামনে আসে, তাহলেই নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হবে।