ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঘুমধুম সীমান্তে স্থল মাইন বিস্ফোরণে আহত শফি আলম মারা গেছেন ভেনামি চিংড়ি দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে-মৎস্য প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টেকনাফে মাদক মামলার পলাতক আসামি এবার হলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গর্জনিয়ার উত্তর বড়বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন শহীদুল্লাহ বাপ্পী শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগে ব্রাজিল, মরক্কো, কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়ার জমজমাট কোয়ালিফিকেশন সমীকরণ নাইক্ষ্যংছড়িতে উদ্ধার মানব কঙ্কালের পরিচয় শনাক্তে নমুনা প্রেরণ ঢাকায় উখিয়ার পল্লীসঞ্চয় ব্যাংকের সেই মনির এবার জড়ালেন ১ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা মামলায় সাংবাদিককে ফাঁসাতে গিয়ে অবশেষে অস্ত্র মামলায় কারাগারে অজুফা বেগম নাইক্ষ্যংছড়িতে ফের মাইন বিস্ফোরণে আহত ১ চলে গেলেন ভাষাবিদ অধ্যাপক শাহজাহান মনির পেকুয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত, আহত ৩৮ পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার সহায়তার চেক বিতরণ মামলা প্রত্যাহারের হুমকির পর বাদী সাংবাদিককে অপহরণের চেষ্টা: ইয়াবা গডফাদার ভুট্টো গং এর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের মহেশখালীতে ৬তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা, যুবককে উদ্ধার করে হেফাজতে নিল পুলিশ সৌদিতে বিদেশি নাগরিকদের জমির মালিক হওয়ার সুযোগ
সম্পাদকীয়

আমরা কাকে ভোট দেব; তা নয়, আমরা কী জন্য ভোট দেব?

নির্বাচন এলেই চারপাশে একটাই আলোচনা; কে জিতবে, কে হারবে, কোন দল এগিয়ে। কিন্তু একটু থেমে যদি নিজেকে জিজ্ঞেস করি; আমরা আসলে কী জন্য ভোট দিই? এই প্রশ্নটা কক্সবাজারের মতো জেলায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কক্সবাজারের মানুষ একরকম নয়। কেউ উপকূলে মাছ ধরে, কেউ পাহাড়ে বসবাস করে, কেউ লবণ চাষ করে, কেউ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত, কেউ শহরে দোকান চালায়, কেউ আবার সীমান্ত ঘেঁষা অনিশ্চয়তার ভেতর দিন কাটায়। তাই এখানকার মানুষের কাছে ভোট মানে শুধু দল বা প্রতীক নয়; ভোট মানে জীবন নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত।

তরুণদের কথাই ধরা যাক। তারা অতীতের রাজনৈতিক গল্প খুব একটা টানে না। কে কী আন্দোলন করেছে, কে কবে ক্ষমতায় ছিল, এসব তাদের কাছে বড় বিষয় নয়। তারা জানতে চায়, ভোট দিলে চাকরি হবে কি না, কাজ শেখার সুযোগ মিলবে কি না, ভবিষ্যৎটা একটু নিরাপদ হবে কি না। সহজ কথা, তারা স্লোগান নয়, ফল দেখতে চায়।

নারীরাও একই প্রশ্ন করেন, যদিও অনেক সময় তা খুব নীরবে। নিরাপত্তা থাকবে তো? হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা মিলবে তো? সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারব তো? উপকূলীয় এলাকায় ঝড়; জলোচ্ছ্বাসের ভয় তো আছেই। এসব বাস্তব প্রশ্নের উত্তর না পেলে বড় বড় রাজনৈতিক কথা তাদের মন ছুঁতে পারে না।

আরেকটা বড় প্রশ্ন হলো; ভোট দেওয়া যাবে তো ঠিকভাবে? ভোটকেন্দ্রে গেলে নিরাপদ লাগবে তো? ভোটটা ঠিকমতো গণনা হবে তো? মানুষ শুধু কাকে ভোট দেবে, তা নিয়ে ভাবে না; মানুষ ভাবে, ভোট দেওয়ার মানে আছে তো?

অনেকেই বলেন, ভোট দিয়ে কী হবে; কিছুই তো বদলায় না। এই হতাশা নতুন নয়। কিন্তু এখানেই আসলে সবচেয়ে বড় সুযোগ। যদি মানুষ প্রশ্ন তোলে, দাবি তোলে; ভোটটা কেন দিচ্ছি, কী চাই; তাহলেই রাজনীতির ভাষা বদলাতে বাধ্য হবে।

তাই ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে প্রশ্নটা হওয়া উচিত, কে জিতবে, তা নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই ভোট কি আমাদের কাজ, শিক্ষা, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার পথে নিয়ে যাবে?

ভোট শুধু একটি দিন নয়, এটি আমাদের প্রত্যাশার প্রকাশ। আমরা কাকে ভোট দেব, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আমরা কী জন্য ভোট দেব। এই প্রশ্নটাই যদি সামনে আসে, তাহলেই নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুমধুম সীমান্তে স্থল মাইন বিস্ফোরণে আহত শফি আলম মারা গেছেন

সম্পাদকীয়

আমরা কাকে ভোট দেব; তা নয়, আমরা কী জন্য ভোট দেব?

আপডেট সময় : ০৭:০৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন এলেই চারপাশে একটাই আলোচনা; কে জিতবে, কে হারবে, কোন দল এগিয়ে। কিন্তু একটু থেমে যদি নিজেকে জিজ্ঞেস করি; আমরা আসলে কী জন্য ভোট দিই? এই প্রশ্নটা কক্সবাজারের মতো জেলায় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কক্সবাজারের মানুষ একরকম নয়। কেউ উপকূলে মাছ ধরে, কেউ পাহাড়ে বসবাস করে, কেউ লবণ চাষ করে, কেউ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত, কেউ শহরে দোকান চালায়, কেউ আবার সীমান্ত ঘেঁষা অনিশ্চয়তার ভেতর দিন কাটায়। তাই এখানকার মানুষের কাছে ভোট মানে শুধু দল বা প্রতীক নয়; ভোট মানে জীবন নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত।

তরুণদের কথাই ধরা যাক। তারা অতীতের রাজনৈতিক গল্প খুব একটা টানে না। কে কী আন্দোলন করেছে, কে কবে ক্ষমতায় ছিল, এসব তাদের কাছে বড় বিষয় নয়। তারা জানতে চায়, ভোট দিলে চাকরি হবে কি না, কাজ শেখার সুযোগ মিলবে কি না, ভবিষ্যৎটা একটু নিরাপদ হবে কি না। সহজ কথা, তারা স্লোগান নয়, ফল দেখতে চায়।

নারীরাও একই প্রশ্ন করেন, যদিও অনেক সময় তা খুব নীরবে। নিরাপত্তা থাকবে তো? হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা মিলবে তো? সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারব তো? উপকূলীয় এলাকায় ঝড়; জলোচ্ছ্বাসের ভয় তো আছেই। এসব বাস্তব প্রশ্নের উত্তর না পেলে বড় বড় রাজনৈতিক কথা তাদের মন ছুঁতে পারে না।

আরেকটা বড় প্রশ্ন হলো; ভোট দেওয়া যাবে তো ঠিকভাবে? ভোটকেন্দ্রে গেলে নিরাপদ লাগবে তো? ভোটটা ঠিকমতো গণনা হবে তো? মানুষ শুধু কাকে ভোট দেবে, তা নিয়ে ভাবে না; মানুষ ভাবে, ভোট দেওয়ার মানে আছে তো?

অনেকেই বলেন, ভোট দিয়ে কী হবে; কিছুই তো বদলায় না। এই হতাশা নতুন নয়। কিন্তু এখানেই আসলে সবচেয়ে বড় সুযোগ। যদি মানুষ প্রশ্ন তোলে, দাবি তোলে; ভোটটা কেন দিচ্ছি, কী চাই; তাহলেই রাজনীতির ভাষা বদলাতে বাধ্য হবে।

তাই ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে প্রশ্নটা হওয়া উচিত, কে জিতবে, তা নয়। প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই ভোট কি আমাদের কাজ, শিক্ষা, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার পথে নিয়ে যাবে?

ভোট শুধু একটি দিন নয়, এটি আমাদের প্রত্যাশার প্রকাশ। আমরা কাকে ভোট দেব, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আমরা কী জন্য ভোট দেব। এই প্রশ্নটাই যদি সামনে আসে, তাহলেই নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হবে।