ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দাম বাড়ছেই, হরমুজ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আসবে বড় বিপদ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য হরমুজ প্রণালি আর ‘আগের অবস্থায়’ ফিরবে না: ইরান সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প এবার পুরো ইরান উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প চৌফলদন্ডীতে ৬০ বছরের বৃদ্ধা গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইস্টার সানডে উদযাপিত: সম্প্রীতি ও আলোর বার্তা রোহিঙ্গা নারীকে নৃশংসভাবে পঙ্গু করার চাঞ্চল্যকর মামলার ৩ আসামি র‍্যাবের জালে মাটিতে পুঁতে আলোচিত ছৈয়দ হ/ত্যা, পালংখালীতে প্রকাশ্যে ঘুরছে আসামিরা খোরশেদ মরে গিয়ে বেঁচে গেছে, আমাকে বানিয়ে গেছে জিন্দা লাশ-তারিন ৬৬/৩ পানি ব্যবস্হাপনা এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ২ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ দুর্গম এলাকায় টিকা ঘাটতি, বাড়ছে ঝুঁকি শহরে নকল বিদেশি মদ তৈরির কারখানার সন্ধান, গ্রেপ্তার ১

‘আগামী বছরেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যাবে কি না বলা যাচ্ছে না’

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইনে আরাকান আর্মি যে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এর ফলে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে আগামী বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে পারব কি না— এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব বলেন, বার্মিজ জান্তাকে খুশি করতে গিয়ে তথাকথিত ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’র চাটুকার ও কূটনীতিকরা একটি নতুন শব্দ FDMN (Forcibly Displaced Myanmar National) এর উদ্ভাবন ঘটান। এই শব্দটি শুধু একটি কৌশল নয়, এটি বার্মিজ গণহত্যার বর্ণনাকে বৈধতা দেয়ার এক ভয়ংকর প্রচেষ্টা। এতে বোঝানো হয় যে রোহিঙ্গা বলে কেউ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রোহিঙ্গারা কোনো ‘FDMN’ নয়, তারা শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস, শিল্প ও সংস্কৃতির ধারক একটি জাতি। ‘FDMN’ শব্দটি ব্যবহার করে তাদের প্রকৃত পরিচয়, সম্মান ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চীনের কুনমিং শহরে এবং ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে আলোচনা করে, তখন তারা দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়নের শিকার জনগোষ্ঠীকে তাদের প্রকৃত পরিচয়ে পরিচিত করে ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে। জান্তার কর্মকর্তারাও শেষমেশ এই পরিচয় স্বীকার করতে বাধ্য হন। আমাদের সঙ্গে বৈঠকে তারাও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করতে শুরু করেন।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে প্রেস সচিব আরও বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে আগামী বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে পারব কি না। বিশেষ করে রাখাইনে আরাকান আর্মির দখল প্রক্রিয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে গত কয়েকদিনে যেটা দেখেছি, তা আমাদের নেতৃত্ব এবং শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকদের এক সাহসী ও দৃঢ় অবস্থান। মিয়ানমার জান্তা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। এখন দরকার টানা কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখা, যাতে তারা রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তার সঙ্গে ফিরিয়ে নেয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

দাম বাড়ছেই, হরমুজ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আসবে বড় বিপদ

‘আগামী বছরেও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যাবে কি না বলা যাচ্ছে না’

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইনে আরাকান আর্মি যে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এর ফলে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে আগামী বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে পারব কি না— এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব বলেন, বার্মিজ জান্তাকে খুশি করতে গিয়ে তথাকথিত ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’র চাটুকার ও কূটনীতিকরা একটি নতুন শব্দ FDMN (Forcibly Displaced Myanmar National) এর উদ্ভাবন ঘটান। এই শব্দটি শুধু একটি কৌশল নয়, এটি বার্মিজ গণহত্যার বর্ণনাকে বৈধতা দেয়ার এক ভয়ংকর প্রচেষ্টা। এতে বোঝানো হয় যে রোহিঙ্গা বলে কেউ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রোহিঙ্গারা কোনো ‘FDMN’ নয়, তারা শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস, শিল্প ও সংস্কৃতির ধারক একটি জাতি। ‘FDMN’ শব্দটি ব্যবহার করে তাদের প্রকৃত পরিচয়, সম্মান ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চীনের কুনমিং শহরে এবং ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে আলোচনা করে, তখন তারা দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়নের শিকার জনগোষ্ঠীকে তাদের প্রকৃত পরিচয়ে পরিচিত করে ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে। জান্তার কর্মকর্তারাও শেষমেশ এই পরিচয় স্বীকার করতে বাধ্য হন। আমাদের সঙ্গে বৈঠকে তারাও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করতে শুরু করেন।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে প্রেস সচিব আরও বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে আগামী বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে পারব কি না। বিশেষ করে রাখাইনে আরাকান আর্মির দখল প্রক্রিয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে গত কয়েকদিনে যেটা দেখেছি, তা আমাদের নেতৃত্ব এবং শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকদের এক সাহসী ও দৃঢ় অবস্থান। মিয়ানমার জান্তা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। এখন দরকার টানা কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখা, যাতে তারা রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তার সঙ্গে ফিরিয়ে নেয়।