ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে হুইল চেয়ার,ট্রলি সরবরাহ এবং দালালের দৌরাত্ম বন্ধের নির্দেশ রমজান মাসের অমূল্য রত্ন রোজাদারের দোয়া মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা অন্য কেউ রাখতে পারবে? ওপেন হার্ট সার্জারি শেষে ঘরে ফিরলেন অভিনেতা ‘আমাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল’ হামিমকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ: জিনিয়া শারমিন রিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ রামুতে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, দাম্পত্যকলহ নাকি পরকীয়া?  নিজেরসহ পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ ‘সুপ্রভাত কক্সবাজার’-এর ইফতার ও শুভেচ্ছা আড্ডা অনুষ্ঠিত পোকখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আলোচনায় ফরিদুল আলম ফরিদ উখিয়ায় অস্ত্রসহ ৫ রোহিঙ্গা ডাকাত আটক ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কলাতলী গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন খেজুর কেন ইফতারে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

দুই প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিলেন সেচ্ছাসেবকদল নেতা

পেকুয়া উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহর অর্থায়নে দুই বাক প্রতিবন্ধীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার বিকাল তিন টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা বরের বাড়িতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের বর বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ জাহেদ উল্লাহ(৩৬) এবং কনে সোমাইয়া জন্নাত(২১)। বর ওই এলাকার মো.ছৈয়দ উল্লাহর ছেলে এবং কনে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমি উদ্দিন পাড়া এলাকার সিরাজুল করিমের মেয়ে।

জানা গেছে, গ্রাম-বাংলার অন্য দশ জনের বিয়ের মতো তারা দুই জনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। দুপুর দেড়টার দিকে বরযাত্রীদের সঙ্গে মাথায় টুপি পড়ে নোহা গাড়ীর সামনে সিটে বসে কনের বাড়িতে যান বর। পরে কনের বাড়ি লোকজনে বরযাত্রীদের বরণ করেন। সেখানে কনে পক্ষের লোকজন তাদের আতিথেয়তা ও আপ্যায়ন শেষ করেন। সব শেষ করে বর যাত্রীরা কনে সুমাইয়াকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরে বরের বাড়িতে ১ লক্ষ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বরের পিতা ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, আমরা উভয় পরিবার আহসান উল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কারণ তার উদ্যোগে আমি ছেলের বিয়ে সম্পন্ন করতে পেরেছি। তাদের সংসার যেন সুখের হয় তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ বলেন, কনে এবং বর দুইজনই পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা তবে ইউনিয়ন ভিন্ন। তারা দুইজনেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং তাদের পরিবার নিতান্ত অসহায়। সে দৃষ্টিকোন থেকে নিজে উদ্যোগ নিয়েছি এবং তাদের বিয়ে সম্পন্ন করতে সবকিছু মিলিয়ে ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরও বলেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের একটি ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি এবং দ্রুত সময়ে তা করে দেব।

উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, প্রতিবন্ধীদের সমাজের বোঝা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আসলে তারা বোঝা নয়। তাদেরকে ঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তারাও আমাদের সম্পদ। দুই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিয়ে সেচ্চাসেবক দলের আহ্বায়ক ও আমার সহযোদ্ধা আহসান উল্লাহ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। তার এমন কাজে সমাজের বিত্তবানদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুই প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিলেন সেচ্ছাসেবকদল নেতা

আপডেট সময় : ১২:১৮:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

পেকুয়া উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহর অর্থায়নে দুই বাক প্রতিবন্ধীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার বিকাল তিন টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা বরের বাড়িতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের বর বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ জাহেদ উল্লাহ(৩৬) এবং কনে সোমাইয়া জন্নাত(২১)। বর ওই এলাকার মো.ছৈয়দ উল্লাহর ছেলে এবং কনে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমি উদ্দিন পাড়া এলাকার সিরাজুল করিমের মেয়ে।

জানা গেছে, গ্রাম-বাংলার অন্য দশ জনের বিয়ের মতো তারা দুই জনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। দুপুর দেড়টার দিকে বরযাত্রীদের সঙ্গে মাথায় টুপি পড়ে নোহা গাড়ীর সামনে সিটে বসে কনের বাড়িতে যান বর। পরে কনের বাড়ি লোকজনে বরযাত্রীদের বরণ করেন। সেখানে কনে পক্ষের লোকজন তাদের আতিথেয়তা ও আপ্যায়ন শেষ করেন। সব শেষ করে বর যাত্রীরা কনে সুমাইয়াকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরে বরের বাড়িতে ১ লক্ষ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বরের পিতা ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, আমরা উভয় পরিবার আহসান উল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কারণ তার উদ্যোগে আমি ছেলের বিয়ে সম্পন্ন করতে পেরেছি। তাদের সংসার যেন সুখের হয় তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ বলেন, কনে এবং বর দুইজনই পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা তবে ইউনিয়ন ভিন্ন। তারা দুইজনেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং তাদের পরিবার নিতান্ত অসহায়। সে দৃষ্টিকোন থেকে নিজে উদ্যোগ নিয়েছি এবং তাদের বিয়ে সম্পন্ন করতে সবকিছু মিলিয়ে ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরও বলেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের একটি ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি এবং দ্রুত সময়ে তা করে দেব।

উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, প্রতিবন্ধীদের সমাজের বোঝা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আসলে তারা বোঝা নয়। তাদেরকে ঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তারাও আমাদের সম্পদ। দুই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিয়ে সেচ্চাসেবক দলের আহ্বায়ক ও আমার সহযোদ্ধা আহসান উল্লাহ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। তার এমন কাজে সমাজের বিত্তবানদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।