ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চকরিয়ায় ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে আটবছরের শিশু মেয়েকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত পলাতক টেকনাফে গণপিটুনিতে ‘বাইন্না ডাকাত’ নিহত কচ্ছপিয়ার বড় জাংছড়ি খালে মাছ শিকারের উৎসবে  কক্সবাজারে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে বুদ্ধ পূর্ণিমা কক্সবাজারের লবণ চাষী, জেলে ও পর্যটন শ্রমিকদের জন্য আশার আলো, নাকি অনিশ্চয়তার প্রতিধ্বনি? রামুতে ২০ হাজার ইয়াবাসহ এপিবিএনের কনস্টেবল আটক কক্সবাজারে জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের উদ্যোগে মে দিবস পালিত ‘আঁকো তোমার শহর’—শিল্পচর্চায় নতুন ভাবনা অমরণি ফুলের কুতুবদিয়ায় অটো রিক্সার গ্যারেজে আগুন: পুড়ে গেছে ২২ টি টমটম অপহরণ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতার পুত্র তুহিন কারাগারে এআরএ-আরএসও সংঘর্ষ, সীমান্তে আতঙ্ক ট্রাকের ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু উখিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার “অধ্যক্ষ স.আ.ম. শামসুল হুদা চৌধুরী” যার আলোয় আলোকিত জনপদ নতুন কুড়িঁ স্পোর্টস উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা: জেলায় নিবন্ধন করেছে ৩ হাজার ৩৫২ জন

দুই প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিলেন সেচ্ছাসেবকদল নেতা

পেকুয়া উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহর অর্থায়নে দুই বাক প্রতিবন্ধীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার বিকাল তিন টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা বরের বাড়িতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের বর বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ জাহেদ উল্লাহ(৩৬) এবং কনে সোমাইয়া জন্নাত(২১)। বর ওই এলাকার মো.ছৈয়দ উল্লাহর ছেলে এবং কনে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমি উদ্দিন পাড়া এলাকার সিরাজুল করিমের মেয়ে।

জানা গেছে, গ্রাম-বাংলার অন্য দশ জনের বিয়ের মতো তারা দুই জনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। দুপুর দেড়টার দিকে বরযাত্রীদের সঙ্গে মাথায় টুপি পড়ে নোহা গাড়ীর সামনে সিটে বসে কনের বাড়িতে যান বর। পরে কনের বাড়ি লোকজনে বরযাত্রীদের বরণ করেন। সেখানে কনে পক্ষের লোকজন তাদের আতিথেয়তা ও আপ্যায়ন শেষ করেন। সব শেষ করে বর যাত্রীরা কনে সুমাইয়াকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরে বরের বাড়িতে ১ লক্ষ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বরের পিতা ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, আমরা উভয় পরিবার আহসান উল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কারণ তার উদ্যোগে আমি ছেলের বিয়ে সম্পন্ন করতে পেরেছি। তাদের সংসার যেন সুখের হয় তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ বলেন, কনে এবং বর দুইজনই পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা তবে ইউনিয়ন ভিন্ন। তারা দুইজনেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং তাদের পরিবার নিতান্ত অসহায়। সে দৃষ্টিকোন থেকে নিজে উদ্যোগ নিয়েছি এবং তাদের বিয়ে সম্পন্ন করতে সবকিছু মিলিয়ে ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরও বলেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের একটি ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি এবং দ্রুত সময়ে তা করে দেব।

উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, প্রতিবন্ধীদের সমাজের বোঝা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আসলে তারা বোঝা নয়। তাদেরকে ঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তারাও আমাদের সম্পদ। দুই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিয়ে সেচ্চাসেবক দলের আহ্বায়ক ও আমার সহযোদ্ধা আহসান উল্লাহ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। তার এমন কাজে সমাজের বিত্তবানদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।

ট্যাগ :

চকরিয়ায় ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে আটবছরের শিশু মেয়েকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত পলাতক

দুই প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিলেন সেচ্ছাসেবকদল নেতা

আপডেট সময় : ১২:১৮:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

পেকুয়া উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহর অর্থায়নে দুই বাক প্রতিবন্ধীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার বিকাল তিন টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা বরের বাড়িতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের বর বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ জাহেদ উল্লাহ(৩৬) এবং কনে সোমাইয়া জন্নাত(২১)। বর ওই এলাকার মো.ছৈয়দ উল্লাহর ছেলে এবং কনে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমি উদ্দিন পাড়া এলাকার সিরাজুল করিমের মেয়ে।

জানা গেছে, গ্রাম-বাংলার অন্য দশ জনের বিয়ের মতো তারা দুই জনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। দুপুর দেড়টার দিকে বরযাত্রীদের সঙ্গে মাথায় টুপি পড়ে নোহা গাড়ীর সামনে সিটে বসে কনের বাড়িতে যান বর। পরে কনের বাড়ি লোকজনে বরযাত্রীদের বরণ করেন। সেখানে কনে পক্ষের লোকজন তাদের আতিথেয়তা ও আপ্যায়ন শেষ করেন। সব শেষ করে বর যাত্রীরা কনে সুমাইয়াকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরে বরের বাড়িতে ১ লক্ষ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বরের পিতা ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, আমরা উভয় পরিবার আহসান উল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কারণ তার উদ্যোগে আমি ছেলের বিয়ে সম্পন্ন করতে পেরেছি। তাদের সংসার যেন সুখের হয় তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ বলেন, কনে এবং বর দুইজনই পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা তবে ইউনিয়ন ভিন্ন। তারা দুইজনেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং তাদের পরিবার নিতান্ত অসহায়। সে দৃষ্টিকোন থেকে নিজে উদ্যোগ নিয়েছি এবং তাদের বিয়ে সম্পন্ন করতে সবকিছু মিলিয়ে ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরও বলেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের একটি ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি এবং দ্রুত সময়ে তা করে দেব।

উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, প্রতিবন্ধীদের সমাজের বোঝা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আসলে তারা বোঝা নয়। তাদেরকে ঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তারাও আমাদের সম্পদ। দুই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিয়ে সেচ্চাসেবক দলের আহ্বায়ক ও আমার সহযোদ্ধা আহসান উল্লাহ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। তার এমন কাজে সমাজের বিত্তবানদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।