ঢাকা ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইডিইবির সদস্যপদ পেলেন কক্সবাজারের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় সেই রাজুর ৩ দিনের রিমান্ড এক দিনে দুই দফা ডাকাতি : ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ফের আতংক এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে কচ্ছপিয়ার সোহেল সিকদার প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা নিয়ে কক্সবাজারের পূজামণ্ডপে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু আইনের তোয়াক্কা না করে মেরিন ড্রাইভে ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্ট, ১০ প্রাণের বিনিময়েও জাগেনি প্রশাসন সৌদিতে নিহত প্রবাসীর পরিবার পেলো ক্ষতিপূরণ টেকনাফে একনলা বন্দুকসহ ‘ডাকাত’ করিম আটক পেকুয়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, পুরস্কৃত ৪০ শিক্ষার্থী চাকুরি পেছনে না ঘুরে নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে চাকুরি দাতা হোন- জেলা প্রশাসক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী আজ অবশেষে ইশরাকের ঘোষণা, পদত্যাগ করবেন দুপুরে জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইনের তোয়াক্কা না করে মেরিন ড্রাইভে ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্ট, ১০ প্রাণের বিনিময়েও জাগেনি প্রশাসন

অনুমতিহীন কাঠামোর আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১০টি তাজা প্রাণ, তবুও থমকে নেই কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ জুড়ে বেআইনি অবকাঠামো নির্মাণের মহোৎসব। চোখের সামনে তৈরি হওয়া অবৈধ ‘টুপটুপ রিসোর্ট’ ছাই হয়ে যাওয়ার পর মুখ খুলতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। বেরিয়ে আসছে দায় এড়ানোর নানা অজুহাত ও দায়িত্বহীনতার চিত্র।

​ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পর উদঘাটন হচ্ছে পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকার করুণ বাস্তবচিত্র। পরিবেশ প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) আইন অনুযায়ী জোয়ারের উচ্চসীমা থেকে ৫০০ মিটারের ভেতরে যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ জুড়ে সমুদ্রের একেবারে কাছাকাছি গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার ছোট-বড় অবৈধ স্থাপনা। সমুদ্র সংলগ্ন এ অঞ্চলে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা দেড় শতাধিক বাণিজ্যিক কাঠামোর কথা স্বীকার করেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

​উচ্ছেদ অভিযান এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রতিটি সংস্থা এখন নিজেদের দায় অন্যের ওপর চাপাতে ব্যস্ত। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়া কীভাবে এত বিশাল বিশাল রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ দাঁড়িয়ে যাচ্ছে—সে প্রশ্নে পরিবেশ অধিদপ্তর আঙুল তুলছে জনবল সংকটের দিকে। তাদের স্পষ্ট বার্তা, আইনিভাবে সাগরের এত কাছে কোনো স্থাপনার অস্তিত্ব থাকার সুযোগ নেই, অথচ অভিযান চালানোর লোকবল নেই তাদের। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় ট্র্যাজেডির পরও ফায়ার সার্ভিস তাদের কার্যক্রম কেবল ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ’ পাঠানোর মতো কাগজি আনুষ্ঠানিকতাতেই সীমাবদ্ধ রেখেছে।

​প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা ও তদারকিহীনতার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হচ্ছে বেড়াতে আসা পর্যটককে। সমুদ্র উপকূলের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের পাশাপাশি নিয়মিত ঘটছে বড় ধরণের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সরকারি দপ্তরগুলোর কাগজে-কলমে চিঠি চালাচালি আর দায় এড়ানোর ফাঁকে নতুন নতুন উঁচুতলা ভবন উঠে চলেছে মেরিন ড্রাইভের বুক চিরে—পরবর্তী কোনো বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষায়।

এখনই এ বিষয়ে যথাযথ ও কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবী সচেতন মহলের।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইডিইবির সদস্যপদ পেলেন কক্সবাজারের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান

আইনের তোয়াক্কা না করে মেরিন ড্রাইভে ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্ট, ১০ প্রাণের বিনিময়েও জাগেনি প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৮:০৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অনুমতিহীন কাঠামোর আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১০টি তাজা প্রাণ, তবুও থমকে নেই কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ জুড়ে বেআইনি অবকাঠামো নির্মাণের মহোৎসব। চোখের সামনে তৈরি হওয়া অবৈধ ‘টুপটুপ রিসোর্ট’ ছাই হয়ে যাওয়ার পর মুখ খুলতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। বেরিয়ে আসছে দায় এড়ানোর নানা অজুহাত ও দায়িত্বহীনতার চিত্র।

​ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের পর উদঘাটন হচ্ছে পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকার করুণ বাস্তবচিত্র। পরিবেশ প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) আইন অনুযায়ী জোয়ারের উচ্চসীমা থেকে ৫০০ মিটারের ভেতরে যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ জুড়ে সমুদ্রের একেবারে কাছাকাছি গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার ছোট-বড় অবৈধ স্থাপনা। সমুদ্র সংলগ্ন এ অঞ্চলে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা দেড় শতাধিক বাণিজ্যিক কাঠামোর কথা স্বীকার করেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

​উচ্ছেদ অভিযান এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রতিটি সংস্থা এখন নিজেদের দায় অন্যের ওপর চাপাতে ব্যস্ত। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়া কীভাবে এত বিশাল বিশাল রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ দাঁড়িয়ে যাচ্ছে—সে প্রশ্নে পরিবেশ অধিদপ্তর আঙুল তুলছে জনবল সংকটের দিকে। তাদের স্পষ্ট বার্তা, আইনিভাবে সাগরের এত কাছে কোনো স্থাপনার অস্তিত্ব থাকার সুযোগ নেই, অথচ অভিযান চালানোর লোকবল নেই তাদের। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় ট্র্যাজেডির পরও ফায়ার সার্ভিস তাদের কার্যক্রম কেবল ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ’ পাঠানোর মতো কাগজি আনুষ্ঠানিকতাতেই সীমাবদ্ধ রেখেছে।

​প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা ও তদারকিহীনতার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হচ্ছে বেড়াতে আসা পর্যটককে। সমুদ্র উপকূলের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের পাশাপাশি নিয়মিত ঘটছে বড় ধরণের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সরকারি দপ্তরগুলোর কাগজে-কলমে চিঠি চালাচালি আর দায় এড়ানোর ফাঁকে নতুন নতুন উঁচুতলা ভবন উঠে চলেছে মেরিন ড্রাইভের বুক চিরে—পরবর্তী কোনো বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষায়।

এখনই এ বিষয়ে যথাযথ ও কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবী সচেতন মহলের।