ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লিংকরোডে সড়ক দুর্ঘটনায় আলী আহমদ কোম্পানির মৃত্যু সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে কক্সবাজারে ভরতনাট্যম নৃত্যের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু অপহরণের নাটক সাজিয়ে ২২ দিন আত্মগোপন : আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার ঈদগাঁওয়ে অবৈধ বালুমহালে পৃথক অভিযান, তিনটি মেশিন জব্দ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা মিয়ানমারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্ত সমুদ্রভ্রমণ থেকে অ’গ্নি’দ’গ্ধ দুঃস্বপ্ন, ১১ দিন পর দাদার কবরের পাশে মুক্তা মহেশখালীতে অস্ত্রসহ মালেককে আটকের দাবি পুলিশের “আহমদ গিয়াস থেকে যাবে, তাঁর না থাকা জুড়ে” রামুতে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার দেশে ৪ কোটি ১৬ লাখ মানুষ সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে না সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, বাসে আগুন, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপি কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র-বিস্ফোরক মজুদের অভিযোগ, অভিযানের আবেদন কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ড : ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ বসতবাড়ি

যেভাবে রমজানের প্রস্তুতি নেবেন

  • টিটিএন ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:১২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 709

একজন মুমিনের জন্য পবিত্র রমজান মাসের প্রস্তুতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ সা. রমজানের আগের দুই মাসজুড়ে তথা রজব ও শাবানে বেশি বেশি নফল ইবাদত ও রোজা রাখার অভ্যাস করতেন।

রজবের শুরু থেকেই রাসুল সা. একে একে সব ব্যস্ততা কমিয়ে এনে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হতেন এবং প্রিয় মাস রমজানের জন্য প্রহর গুনতেন। হজরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

পশ্চিম আকাশে রজবের চাঁদ দেখা গেলেই প্রিয় নবী আবেগময় কণ্ঠে মহান রবের দরবারে দোয়া করতেন- ‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ অর্থ – ‘হে আল্লাহ আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসকে বরকতময় করে দিন। আর আমাদের হায়াত রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ (সুনানে নাসায়ি ও মুসনাদে আহমাদ)

এভাবেই রজবের দিন-রাত অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রতীক্ষা করতেন নবী কারিম সা: ও সাহাবায়ে কেরাম। হজরত আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত, হজরত রসুলুল্লাহ সা: শাবান মাসের (দিন-তারিখের হিসাবের) প্রতি অধিক লক্ষ রাখতেন, যা অন্য মাসের ক্ষেত্রে রাখতেন না। (সুনানে আবু দাউদ-২৩২৫)

তাই শাবান মাসে এলে আরো বেশি নফল ইবাদত ও রোজা পালন করতেন আমাদের প্রিয় নবী সা.।

যেসব কাজের মাধ্যমে আমরা নিজেদের পবিত্র রমজান মাসের জন্য প্রস্তুত করতে পারি, তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

রমজানের আগে নবীজি যে দোয়া বেশি বেশি পড়তেন

একনিষ্ঠভাবে তওবা করা

রমজান গুনাহ মাফের মাস। তাই এখন থেকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর পথে ফিরে না এলে রমজানে তওবা নসিব নাও হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আর হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো; যাতে সফলকাম হতে পারো। (সুরা নুর: ৩১)

দোয়া করা

আমরা আগেই বলেছি, মহানবী সা. রজব মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকেই রমজানের জন্য প্রস্তুত হতেন এবং মহান আল্লাহর কাছে রমজান পর্যন্ত বেঁচে থাকার আকুতি জানাতেন। বলতেন, ‘হে আল্লাহ আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দিন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখুন।’ (জামিউস সাগির)

রমজানের আগমনে খুশি হওয়া

রমজান মাস একজন মুসলিমের প্রতি আল্লাহ তাআলার বিশেষ নিয়ামত। আর আল্লাহ তাআলা বলেন, বলো, এটি আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়। কাজেই এতে তারা আনন্দিত হোক। এটি তারা যা সঞ্চয় করে রাখে, তা থেকে উত্তম। (সুরা ইউনুস: ৫৮)

কাজা রোজা আদায় করে নেয়া

আবু সালামা বলেন, আমি আয়েশা রা.-কে বলতে শুনেছি, ‘আমার ওপর গত রমজানের রোজা বাকি থাকলে শাবান মাসে ছাড়া আমি তা আদায় করতে পারতাম না।’ (বুখারি: ১৮৪৯)

নফল রোজা রাখা

আয়েশা রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সা.-কে রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসের গোটা অংশ রোজা পালন করতে দেখিনি এবং শাবান ছাড়া অন্য কোনো মাসে অধিক সিয়াম পালন করতে দেখিনি। (বুখারি: ১৮৬৮)

রোজার প্রয়োজনীয় মাসআলাগুলো নির্ভরযোগ্য আলেম বা গ্রহণযোগ্য বই-পুস্তক থেকে জেনে নেয়া। রমজানে নিজেদের ব্যস্ততা কমিয়ে আনার জন্য এখন থেকে পরিকল্পনা করা এবং একটি উল্লেখযোগ্য সময় ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানোর বন্দোবস্ত করা।

হতে পারে এ রমজানই আমার জীবনের শেষ রমজান। তাই এ রমজানকেই আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সত্যিকারের রোজাদার হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।

ট্যাগ :

লিংকরোডে সড়ক দুর্ঘটনায় আলী আহমদ কোম্পানির মৃত্যু

যেভাবে রমজানের প্রস্তুতি নেবেন

আপডেট সময় : ০৯:১২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

একজন মুমিনের জন্য পবিত্র রমজান মাসের প্রস্তুতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ সা. রমজানের আগের দুই মাসজুড়ে তথা রজব ও শাবানে বেশি বেশি নফল ইবাদত ও রোজা রাখার অভ্যাস করতেন।

রজবের শুরু থেকেই রাসুল সা. একে একে সব ব্যস্ততা কমিয়ে এনে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হতেন এবং প্রিয় মাস রমজানের জন্য প্রহর গুনতেন। হজরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

পশ্চিম আকাশে রজবের চাঁদ দেখা গেলেই প্রিয় নবী আবেগময় কণ্ঠে মহান রবের দরবারে দোয়া করতেন- ‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ অর্থ – ‘হে আল্লাহ আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসকে বরকতময় করে দিন। আর আমাদের হায়াত রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ (সুনানে নাসায়ি ও মুসনাদে আহমাদ)

এভাবেই রজবের দিন-রাত অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রতীক্ষা করতেন নবী কারিম সা: ও সাহাবায়ে কেরাম। হজরত আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত, হজরত রসুলুল্লাহ সা: শাবান মাসের (দিন-তারিখের হিসাবের) প্রতি অধিক লক্ষ রাখতেন, যা অন্য মাসের ক্ষেত্রে রাখতেন না। (সুনানে আবু দাউদ-২৩২৫)

তাই শাবান মাসে এলে আরো বেশি নফল ইবাদত ও রোজা পালন করতেন আমাদের প্রিয় নবী সা.।

যেসব কাজের মাধ্যমে আমরা নিজেদের পবিত্র রমজান মাসের জন্য প্রস্তুত করতে পারি, তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

রমজানের আগে নবীজি যে দোয়া বেশি বেশি পড়তেন

একনিষ্ঠভাবে তওবা করা

রমজান গুনাহ মাফের মাস। তাই এখন থেকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর পথে ফিরে না এলে রমজানে তওবা নসিব নাও হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আর হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো; যাতে সফলকাম হতে পারো। (সুরা নুর: ৩১)

দোয়া করা

আমরা আগেই বলেছি, মহানবী সা. রজব মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকেই রমজানের জন্য প্রস্তুত হতেন এবং মহান আল্লাহর কাছে রমজান পর্যন্ত বেঁচে থাকার আকুতি জানাতেন। বলতেন, ‘হে আল্লাহ আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দিন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখুন।’ (জামিউস সাগির)

রমজানের আগমনে খুশি হওয়া

রমজান মাস একজন মুসলিমের প্রতি আল্লাহ তাআলার বিশেষ নিয়ামত। আর আল্লাহ তাআলা বলেন, বলো, এটি আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়। কাজেই এতে তারা আনন্দিত হোক। এটি তারা যা সঞ্চয় করে রাখে, তা থেকে উত্তম। (সুরা ইউনুস: ৫৮)

কাজা রোজা আদায় করে নেয়া

আবু সালামা বলেন, আমি আয়েশা রা.-কে বলতে শুনেছি, ‘আমার ওপর গত রমজানের রোজা বাকি থাকলে শাবান মাসে ছাড়া আমি তা আদায় করতে পারতাম না।’ (বুখারি: ১৮৪৯)

নফল রোজা রাখা

আয়েশা রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সা.-কে রমজান ছাড়া অন্য কোনো মাসের গোটা অংশ রোজা পালন করতে দেখিনি এবং শাবান ছাড়া অন্য কোনো মাসে অধিক সিয়াম পালন করতে দেখিনি। (বুখারি: ১৮৬৮)

রোজার প্রয়োজনীয় মাসআলাগুলো নির্ভরযোগ্য আলেম বা গ্রহণযোগ্য বই-পুস্তক থেকে জেনে নেয়া। রমজানে নিজেদের ব্যস্ততা কমিয়ে আনার জন্য এখন থেকে পরিকল্পনা করা এবং একটি উল্লেখযোগ্য সময় ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানোর বন্দোবস্ত করা।

হতে পারে এ রমজানই আমার জীবনের শেষ রমজান। তাই এ রমজানকেই আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সত্যিকারের রোজাদার হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।