ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার, নগদ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বজ্রপাত, আহত ৫ নারী বাসযাত্রীর ব্যাগে মিললো ২.৭ কেজি গাঁজা জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামবাসীর কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. আবদুল হাই এর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ পাচারকারীর ফেলে যাওয়া বস্তায় এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের নগদ টাকা বিতরণ, তদন্তের মুখে এনজিও সওয়াব ভয়াল ২৯ এপ্রিল : এখনো অরক্ষিত বিস্তীর্ণ উপকূল পাঁচ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস একদিনে কক্সবাজারে ৮ প্রাণহানি সেন্টমার্টিনে “ভূতুড়ে জাল ও প্লাস্টিক” সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন, ১৫০ কেজি ভূতুড়ে জাল সংগ্রহ ৫ মাস ২১ দিন পর আবারও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে “বিপজ্জনক এলাকা” নির্দেশক লাল পতাকা কক্সবাজারে ২৪ ঘণ্টায় ৩১ মিমি বৃষ্টি, ৪ দিনের ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা স্টাফ কোয়ার্টারে রেস্টুরেন্টকর্মীর মরদেহ উদ্ধার ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, ৩ দালালসহ ৭২ জন আটক

পবিত্র শবে কদরের ফজিলত ও করণীয়

  • টিটিএন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • 209

২৬ রোজার দিন শেষে আগত রাতই পবিত্র শবেকদর। বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানি রহ. বলেন, সর্ব প্রথম মানুষ হজরত আদম আ.। সর্বশেষ্ঠ মানব হজরত মুহাম্মদ সা.। সপ্তাহের সেরা দিন জুমা। বছরের শ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদর। বছরের সেরা মাস রমজানুল মোবারক। (গুনিয়াতুত তালিবিন)

কোরআন শরিফে শবেকদর বিষয়ে আল্লাহ বলেন, শপথ কিতাবের আমি একে অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রজনীতে। নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করা হয়। (সুরা দোখান, ২-৪)

হাদিসেও এই বরকতময় ভাগ্য রজনীর বহু ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। আনাস বিন মালেক রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, তোমাদের রোজার মাস দেওয়া হয়েছে। এই মাসে এমন এক সৌভাগ্যের রজনী রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি এই রাতেরে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে, সে সব ধরনের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। (ইবনে মাজাহ ১৬৪৪)

শবেকদরের রাত নির্ধারণে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। এ ছাড়া সাহাবি উবাই ইবনে কাব ও হজরত মুয়াবিয়া রা.সহ আরও অন্যান্য সাহাবা ২৭ রোজার রজনীকে শবেকদর বলে মত দিয়েছেন।

শায়খুল হাদিস যাকারিয়া রহ. বলেন, এই রাতে পৃথিবীর সব বস্তু প্রভুর কুদরতি পায়ে সিজদাহ করে, বৃক্ষরাজি ও প্রাণিকুল আল্লাহর তাসবিহ পড়ে। ভাগ্য রজনীর আংশিক নয় পুরো বরকত যেন আল্লাহ আমাদের দান করেন।

শবেকদরে আমাদের করণীয় কী

ক. কদরের ফজিলত পাওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু নফল ইবাদত করা, নফল নামাজ আদায় করা। কোরআন তিলাওয়াত করা, তাসবিহ তাহলিল পাঠ করা ইত্যাদি।

খ. লাইলাতুল কদর হলো বছরের শ্রেষ্ঠ রাত। এ রাতের শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো ক্ষমা চাওয়ার দোয়া। এ রাতে মহানবী সা. ক্ষমা চাওয়ার দোয়া শিক্ষা দিলেন যে, তুমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও, ক্ষমা পাওয়ার জন্য দোয়া করো। হাদিস শরিফে আছে, হযরত আয়েশা রা. মহানবীকে সা.কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ইয়া রাসূল আল্লাহ! যদি আমি বুঝতে পারি শবেকদর কোনো রাত, তাহলে ওই রাতে আমি কী বলব? আল্লাহর কাছে কী চাইব? প্রিয় নবী সা. বললেন তুমি বলবে, হে আল্লাহ আপনি বড়ই ক্ষমাশীল। ক্ষমা করতে আপনি ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন। আরবি দোয়া হলোÑ আল্লাহুম্মা ইন্নাকা, আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া, ফাওফু আন্নি (ইবনে মাজাহ)।

গ. এ রাতের আরেকটি আমল ফুকাহায়ে কেরামগণ বলেছেন, এ রাতে ইবাদাতের পূর্বে যদি কেউ গোসল করে নিতে পারে তার সেটাই উত্তম। উক্ত আমলগুলো শুধু ২৭ রমজান নয় বরং রমজানের শেষ দশকের প্রত্যেক বিজোড় রাতে শবেকদর তালাশ করা যেতে পারে। এ জন্য মহানবী সা. রমজানের শেষ দশ দিনে ইতেকাফ করতেন। আল্লাহ তায়ালা রমজানের সকল কল্যাণ আমাদের দান করুন।

শিক্ষক : শেখ জনূরুদ্দীন রহ. দারুল কুরআন মাদ্রাসা, চৌধুরীপাড়া ঢাকা।

সুত্র: দৈনিক আমাদের সময়

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পবিত্র শবে কদরের ফজিলত ও করণীয়

আপডেট সময় : ১২:২৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

২৬ রোজার দিন শেষে আগত রাতই পবিত্র শবেকদর। বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানি রহ. বলেন, সর্ব প্রথম মানুষ হজরত আদম আ.। সর্বশেষ্ঠ মানব হজরত মুহাম্মদ সা.। সপ্তাহের সেরা দিন জুমা। বছরের শ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদর। বছরের সেরা মাস রমজানুল মোবারক। (গুনিয়াতুত তালিবিন)

কোরআন শরিফে শবেকদর বিষয়ে আল্লাহ বলেন, শপথ কিতাবের আমি একে অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রজনীতে। নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করা হয়। (সুরা দোখান, ২-৪)

হাদিসেও এই বরকতময় ভাগ্য রজনীর বহু ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। আনাস বিন মালেক রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, তোমাদের রোজার মাস দেওয়া হয়েছে। এই মাসে এমন এক সৌভাগ্যের রজনী রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি এই রাতেরে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে, সে সব ধরনের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। (ইবনে মাজাহ ১৬৪৪)

শবেকদরের রাত নির্ধারণে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। এ ছাড়া সাহাবি উবাই ইবনে কাব ও হজরত মুয়াবিয়া রা.সহ আরও অন্যান্য সাহাবা ২৭ রোজার রজনীকে শবেকদর বলে মত দিয়েছেন।

শায়খুল হাদিস যাকারিয়া রহ. বলেন, এই রাতে পৃথিবীর সব বস্তু প্রভুর কুদরতি পায়ে সিজদাহ করে, বৃক্ষরাজি ও প্রাণিকুল আল্লাহর তাসবিহ পড়ে। ভাগ্য রজনীর আংশিক নয় পুরো বরকত যেন আল্লাহ আমাদের দান করেন।

শবেকদরে আমাদের করণীয় কী

ক. কদরের ফজিলত পাওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু নফল ইবাদত করা, নফল নামাজ আদায় করা। কোরআন তিলাওয়াত করা, তাসবিহ তাহলিল পাঠ করা ইত্যাদি।

খ. লাইলাতুল কদর হলো বছরের শ্রেষ্ঠ রাত। এ রাতের শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো ক্ষমা চাওয়ার দোয়া। এ রাতে মহানবী সা. ক্ষমা চাওয়ার দোয়া শিক্ষা দিলেন যে, তুমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও, ক্ষমা পাওয়ার জন্য দোয়া করো। হাদিস শরিফে আছে, হযরত আয়েশা রা. মহানবীকে সা.কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ইয়া রাসূল আল্লাহ! যদি আমি বুঝতে পারি শবেকদর কোনো রাত, তাহলে ওই রাতে আমি কী বলব? আল্লাহর কাছে কী চাইব? প্রিয় নবী সা. বললেন তুমি বলবে, হে আল্লাহ আপনি বড়ই ক্ষমাশীল। ক্ষমা করতে আপনি ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন। আরবি দোয়া হলোÑ আল্লাহুম্মা ইন্নাকা, আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া, ফাওফু আন্নি (ইবনে মাজাহ)।

গ. এ রাতের আরেকটি আমল ফুকাহায়ে কেরামগণ বলেছেন, এ রাতে ইবাদাতের পূর্বে যদি কেউ গোসল করে নিতে পারে তার সেটাই উত্তম। উক্ত আমলগুলো শুধু ২৭ রমজান নয় বরং রমজানের শেষ দশকের প্রত্যেক বিজোড় রাতে শবেকদর তালাশ করা যেতে পারে। এ জন্য মহানবী সা. রমজানের শেষ দশ দিনে ইতেকাফ করতেন। আল্লাহ তায়ালা রমজানের সকল কল্যাণ আমাদের দান করুন।

শিক্ষক : শেখ জনূরুদ্দীন রহ. দারুল কুরআন মাদ্রাসা, চৌধুরীপাড়া ঢাকা।

সুত্র: দৈনিক আমাদের সময়