মাত্র চার মাস পাঁচ দিনের শিশু মারুফা জান্নাত মাহি। কিছুদিন আগেও মায়ের কোলে হাসি-খেলায় কাটছিল তার সময়। হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর পরিবারে নেমে আসে উৎকণ্ঠা। শিশুটিকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে কেমন আছে—এসব প্রশ্নে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল স্বজনদের।
অবশেষে প্রায় সেই অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। শিশু অপহরণ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চার মাস পাঁচ দিনের শিশু মাহিকে। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানার কমিশনার গলির কাঁচাবাজার এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মো. আলম ও নুরুল আলম (৩০) এবং সানজিনা আক্তার তিশা (২৫)।
পুলিশ ও মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় শিশু অপহরণের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র্যাব-৭-এর সিপিএসসির সহযোগিতায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর থানাধীন কমিশনার গলির কাঁচাবাজার এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আলম, নুরুল আলম ও সানজিনা আক্তার তিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু মাহিকে।
উদ্ধার হওয়া শিশুটির বাবার নাম মো. রশিদ উল্লাহ এবং মায়ের নাম ইয়াছমিন আক্তার। তাদের বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ১ নম্বর নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ছালামী পাড়ায়।
শিশুটিকে উদ্ধারের পর স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে পরিবারে তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে শিশুটি সুস্থ আছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, “চার মাসের একটি শিশুকে উদ্ধারের বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে পুলিশ শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে। র্যাব-৭-এর সহযোগিতায় যৌথ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ আছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
পুলিশের ভাষ্য, শিশু উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে শিশুটিকে অপহরণের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা করা হবে।
একটি ছোট্ট শিশুকে ঘিরে পরিবারের যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, মাহিকে উদ্ধারের মধ্য দিয়ে আপাতত তার অবসান হয়েছে। তবে শিশু অপহরণের মতো ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 




















