ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, ব্যর্থতায় কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারি পেকুয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ, থানায় জিডি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের কোটি টাকা লুট, ক্ষোভে উত্তাল উখিয়ার পালংখালী উচ্চতর প্রশিক্ষণে কক্সবাজারের জনপ্রিয় দন্ত চিকিৎসক ডা. মহিবুর রহমান তৌহিদের থাইল্যান্ড যাত্রা গ্যালারি মাতিয়ে মাঠে জয়ের গল্প লিখল টেকনাফ চকরিয়ায় অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার কক্সবাজারের রামুতে ২ কোটি টাকার ইয়াবাসহ আটক ১ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে রবিবার কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতনে আসছে তদন্ত টিম জেলা পরিষদে লামা উপজেলার প্রতিনিধি না থাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন চকরিয়ায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিক্ষক কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু আজ থেকে সারাদেশে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন শুরু ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি, ২৪ জনই সিলেটের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম     পেশকারপাড়ার ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি চাঁদ আটক

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের কোটি টাকা লুট, ক্ষোভে উত্তাল উখিয়ার পালংখালী

ব্যাংকে জমা রাখা কষ্টার্জিত টাকা ফেরতের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের গ্রাহকেরা।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উখিয়ার পালংখালী স্টেশনে কয়েকশ গ্রাহক ও তাঁদের স্বজন ‘আমাদের টাকা ফেরত চাই’, ‘প্রতারকের বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ করেন। পরে দুপুর ২টার দিকে মানববন্ধন শেষে তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নেন।

এতে পালংখালী স্টেশনের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। উখিয়া ও টেকনাফমুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

পালংখালী বাজারের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট ‘মেসার্স ফরহাদ টেলিকমে’ গ্রাহকদের জমা রাখা বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক গ্রাহক কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা জানান, জীবনের সঞ্চয় ব্যাংকে রেখে এখন প্রয়োজনের সময় সেই টাকা তুলতে পারছেন না। দ্রুত টাকা ফেরত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধনের একপর্যায়ে মাংস ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর দাবি, ওই এজেন্ট শাখায় তাঁর ৯ লাখ টাকা জমা রয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে টাকা জমা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের টাকা দেওয়া হয়নি। পরে ব্যাংকের হিসাব ও জমার রসিদ যাচাই করতে গিয়ে অনেক গ্রাহক দেখতে পান, তাঁদের জমা করা টাকার সঙ্গে হিসাবের অর্থের বড় ধরনের গরমিল রয়েছে।

গ্রাহক মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘বিশ্বাস করে ওই আউটলেটে ৬ লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। কিন্তু হিসাব যাচাই করে দেখি, আমার অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪৮০ টাকা। আমাদের কষ্টার্জিত টাকা দ্রুত ফেরত চাই।’

আবুল মঞ্জুর বলেন, ‘আমার হিসাবে ৪ লাখ টাকা জমা ছিল। এখন দেখানো হচ্ছে মাত্র ৪০০ টাকা। এটি আমাদের সঙ্গে চরম প্রতারণা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জমা করা সব টাকা ফেরত চাই।’

আব্দুল কাদেরের দাবি, তাঁর হিসাবে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জমা ছিল। বর্তমানে সেখানে মাত্র ১ হাজার টাকা দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। দ্রুত আমাদের টাকা ফেরত দিতে হবে।’

গ্রাহক নুরুল বশর বলেন, ‘আমি সাড়ে ৭ লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারি, হিসাবে রয়েছে মাত্র ৩ হাজার টাকা। আমাদের মতো আরও অনেকের টাকাও আটকে আছে। টাকা ফেরতের পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পালংখালী বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার ফয়সাল আরিফ বলেন, তাঁর হিসাবে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জমা ছিল। দীর্ঘদিন ব্যাংকে লেনদেন করার পর প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে তিনি হিসাবের সঙ্গে জমার অমিল দেখতে পান।

গ্রাহক আমিরুল ফয়েজ বলেন, দীর্ঘদিন ওই এজেন্ট শাখায় টাকা জমা করলেও প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে পারেননি। পরে হিসাব ও জমার রসিদ যাচাই করে তিনি টাকার গরমিল দেখতে পান।

রুনা আক্তার বলেন, ‘বিশ্বাস করে ব্যাংকের ওই এজেন্ট শাখায় টাকা জমা রেখেছিলাম। প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারি, হিসাবে জমা করা পুরো টাকা নেই। বারবার যোগাযোগ করেও সমাধান পাইনি।’

খতিজাতুল কোবরা জানান, তিনি ওই এজেন্ট শাখায় ১০ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। পরে জানতে পারেন, তাঁর মতো আরও অনেক গ্রাহকের টাকাও আটকে আছে।

রাশেদা বেগম বলেন, তাঁর প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যাংকে জমা ছিল। এখন সেই টাকা না থাকায় তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন।

জাফর আলম বলেন, ‘মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যাংকে জমিয়েছিলাম। এখন সেই টাকা না পেলে মেয়ের বিয়ে কীভাবে দেব, তা জানি না।’

গ্রাহকদের অভিযোগ, শুধু মামলায় উল্লেখ করা ২১ জনের ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা নয়, ওই এজেন্ট শাখায় আরও বহু গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা আটকে রয়েছে।

তাঁদের দাবি, হিসাবের বই, জমার রসিদ ও অন্যান্য নথিতে জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের জমা করা অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে অন্য হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে পালংখালী বাজারে ওই এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। স্থানীয় গ্রাহকেরা সরল বিশ্বাসে সেখানে হিসাব খুলে নিয়মিত টাকা জমা রাখতেন। সম্প্রতি প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে অর্থ না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে গ্রাহকেরা টাকা ফেরতের দাবিতে ওই আউটলেটে গেলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন (৬৮) ও ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলামকে হেফাজতে নেয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ সময় আরও কয়েকজন অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওই দিন রাতে পালংখালী বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার ফয়সাল আরিফ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন, ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলাম, ম্যানেজার হাবিব উল্লাহ ফরহাদ ও অংশীদারসহ মোট নয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২১ গ্রাহকের হিসাবে মোট ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা জমা ছিল। এসব টাকা আত্মসাৎ এবং হিসাবের নথি ও জমার রসিদে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সড়ক অবরোধ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘পালংখালী বাজার এলাকার আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখা থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে অবগত করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকেরা তাঁদের আমানত ফেরত পান।’

তবে ওই এজেন্ট শাখায় প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আত্মসাৎ বা আটকে রয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে মামলায় উল্লেখ করা ২১ গ্রাহকের ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকার বাইরে আরও কয়েক কোটি টাকা আটকে থাকার যে দাবি গ্রাহকেরা করছেন, সেটিও তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, ব্যর্থতায় কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারি

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের কোটি টাকা লুট, ক্ষোভে উত্তাল উখিয়ার পালংখালী

আপডেট সময় : ১১:১০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ব্যাংকে জমা রাখা কষ্টার্জিত টাকা ফেরতের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের গ্রাহকেরা।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উখিয়ার পালংখালী স্টেশনে কয়েকশ গ্রাহক ও তাঁদের স্বজন ‘আমাদের টাকা ফেরত চাই’, ‘প্রতারকের বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ করেন। পরে দুপুর ২টার দিকে মানববন্ধন শেষে তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নেন।

এতে পালংখালী স্টেশনের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। উখিয়া ও টেকনাফমুখী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

পালংখালী বাজারের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট ‘মেসার্স ফরহাদ টেলিকমে’ গ্রাহকদের জমা রাখা বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক গ্রাহক কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা জানান, জীবনের সঞ্চয় ব্যাংকে রেখে এখন প্রয়োজনের সময় সেই টাকা তুলতে পারছেন না। দ্রুত টাকা ফেরত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধনের একপর্যায়ে মাংস ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর দাবি, ওই এজেন্ট শাখায় তাঁর ৯ লাখ টাকা জমা রয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে টাকা জমা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের টাকা দেওয়া হয়নি। পরে ব্যাংকের হিসাব ও জমার রসিদ যাচাই করতে গিয়ে অনেক গ্রাহক দেখতে পান, তাঁদের জমা করা টাকার সঙ্গে হিসাবের অর্থের বড় ধরনের গরমিল রয়েছে।

গ্রাহক মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘বিশ্বাস করে ওই আউটলেটে ৬ লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। কিন্তু হিসাব যাচাই করে দেখি, আমার অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪৮০ টাকা। আমাদের কষ্টার্জিত টাকা দ্রুত ফেরত চাই।’

আবুল মঞ্জুর বলেন, ‘আমার হিসাবে ৪ লাখ টাকা জমা ছিল। এখন দেখানো হচ্ছে মাত্র ৪০০ টাকা। এটি আমাদের সঙ্গে চরম প্রতারণা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জমা করা সব টাকা ফেরত চাই।’

আব্দুল কাদেরের দাবি, তাঁর হিসাবে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জমা ছিল। বর্তমানে সেখানে মাত্র ১ হাজার টাকা দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। দ্রুত আমাদের টাকা ফেরত দিতে হবে।’

গ্রাহক নুরুল বশর বলেন, ‘আমি সাড়ে ৭ লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারি, হিসাবে রয়েছে মাত্র ৩ হাজার টাকা। আমাদের মতো আরও অনেকের টাকাও আটকে আছে। টাকা ফেরতের পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পালংখালী বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার ফয়সাল আরিফ বলেন, তাঁর হিসাবে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জমা ছিল। দীর্ঘদিন ব্যাংকে লেনদেন করার পর প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে তিনি হিসাবের সঙ্গে জমার অমিল দেখতে পান।

গ্রাহক আমিরুল ফয়েজ বলেন, দীর্ঘদিন ওই এজেন্ট শাখায় টাকা জমা করলেও প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে পারেননি। পরে হিসাব ও জমার রসিদ যাচাই করে তিনি টাকার গরমিল দেখতে পান।

রুনা আক্তার বলেন, ‘বিশ্বাস করে ব্যাংকের ওই এজেন্ট শাখায় টাকা জমা রেখেছিলাম। প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারি, হিসাবে জমা করা পুরো টাকা নেই। বারবার যোগাযোগ করেও সমাধান পাইনি।’

খতিজাতুল কোবরা জানান, তিনি ওই এজেন্ট শাখায় ১০ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। পরে জানতে পারেন, তাঁর মতো আরও অনেক গ্রাহকের টাকাও আটকে আছে।

রাশেদা বেগম বলেন, তাঁর প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যাংকে জমা ছিল। এখন সেই টাকা না থাকায় তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন।

জাফর আলম বলেন, ‘মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যাংকে জমিয়েছিলাম। এখন সেই টাকা না পেলে মেয়ের বিয়ে কীভাবে দেব, তা জানি না।’

গ্রাহকদের অভিযোগ, শুধু মামলায় উল্লেখ করা ২১ জনের ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা নয়, ওই এজেন্ট শাখায় আরও বহু গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা আটকে রয়েছে।

তাঁদের দাবি, হিসাবের বই, জমার রসিদ ও অন্যান্য নথিতে জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের জমা করা অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে অন্য হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে পালংখালী বাজারে ওই এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। স্থানীয় গ্রাহকেরা সরল বিশ্বাসে সেখানে হিসাব খুলে নিয়মিত টাকা জমা রাখতেন। সম্প্রতি প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে অর্থ না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে গ্রাহকেরা টাকা ফেরতের দাবিতে ওই আউটলেটে গেলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন (৬৮) ও ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলামকে হেফাজতে নেয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ সময় আরও কয়েকজন অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওই দিন রাতে পালংখালী বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার ফয়সাল আরিফ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন, ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলাম, ম্যানেজার হাবিব উল্লাহ ফরহাদ ও অংশীদারসহ মোট নয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২১ গ্রাহকের হিসাবে মোট ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা জমা ছিল। এসব টাকা আত্মসাৎ এবং হিসাবের নথি ও জমার রসিদে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সড়ক অবরোধ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘পালংখালী বাজার এলাকার আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখা থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে অবগত করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকেরা তাঁদের আমানত ফেরত পান।’

তবে ওই এজেন্ট শাখায় প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আত্মসাৎ বা আটকে রয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে মামলায় উল্লেখ করা ২১ গ্রাহকের ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকার বাইরে আরও কয়েক কোটি টাকা আটকে থাকার যে দাবি গ্রাহকেরা করছেন, সেটিও তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।