টানটান উত্তেজনা, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর গ্যালারিজুড়ে দর্শকদের উন্মাদনা – সব মিলিয়ে জমজমাট লড়াইয়ে পেকুয়া উপজেলা ফুটবল দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে টেকনাফ উপজেলা।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জেলা খেলোয়াড় সমিতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় টেকনাফ ও পেকুয়া উপজেলা দল। এই জয়ে টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্বের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল টেকনাফ।
খেলা শুরুর আগেই দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় স্টেডিয়ামের গ্যালারি। দুই দলের তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যে শুরু থেকেই মাঠে ছিল উত্তেজনা। বিশেষ করে ডিসি গোল্ডকাপের ফাইনালিস্ট টেকনাফের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ চালায় দুই দল। পাল্টাপাল্টি আক্রমণে কখনো টেকনাফ, আবার কখনো পেকুয়া গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত কেউই জালের দেখা পায়নি। গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দল। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করতে থাকে তারা। এরই মধ্যে ম্যাচের ৫৮ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে পেকুয়ার জালে বল জড়িয়ে দেন টেকনাফের রবিন। তার গোলে এগিয়ে যায় টেকনাফ।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে পেকুয়া। একের পর এক আক্রমণ করেও টেকনাফের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক জাহাঙ্গীর খানের দৃঢ়তায় সফল হতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে টেকনাফ।
টেকনাফের ইফতি, শেখ আহমদ, সাকিব ও গোলরক্ষক জাহাঙ্গীর খানের নৈপুণ্য মুগ্ধ করে গ্যালারির দর্শকদের।
খেলা শেষে টেকনাফ দলের জামাল উদ্দিন ও ছৈয়দ আলম বলেন, জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পেরে তারা আনন্দিত। ইনজুরির কারণে দলের অন্যতম তারকা কায়সার ও জামালের অনুপস্থিতি অনুভব করলেও শিরোপা জয়ের লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চান তারা।
অন্যদিকে পেকুয়া দলের টিম ম্যানেজার কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, হারলেও দলের পারফরম্যান্সে তারা সন্তুষ্ট। তরুণ খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলেছে বলেও জানান তিনি।
জেলা খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি এম. জাহেদ উল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন পর স্টেডিয়ামে আবারও দর্শকদের উন্মাদনা ফিরেছে। এমন আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে এবং জাতীয় পর্যায়ে কক্সবাজারের সুনাম বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে আয়োজক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার তুলে দেন টেকনাফ উপজেলা দলের গোলরক্ষক জাহাঙ্গীর খানের হাতে।
টুর্নামেন্টের তৃতীয় ম্যাচে আগামীকাল সোমবার রামু ও মহেশখালী উপজেলা খেলোয়াড় সমিতি মুখোমুখি হবে।
শাহেদ হোছাইন মুবিন : 























