ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্মকর্তাদের পুরনো সিন্ডিকেটে জিম্মি পেকুয়ায় সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ, ভোগান্তিতে চলাচল কুতুপালংয়ে ৬ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস: রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই”: সেন্টমার্টিনে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী সত্যিই কি মারা গেছেন লিওনেল মেসির বাবা? খুরুশকুলে মন্দিরের সেবায়েত নয়ন সাধু হত্যা মামলার আসামি আব্দুর রহিম গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ আলীকদমে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতকে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে মহেশখালী ঘাটে আগের নিয়মেই টোল আদায় হবে: এমপি আলমগীর ফরিদ প্রধানমন্ত্রীর মাতারবাড়ি সফর: বিদ্যুৎকেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২ জন উখিয়ায় শৌচাগার থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

কুতুপালংয়ে ৬ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ

উখিয়া উপজেলার কুতুপালং কবরস্থানের সামনের সড়কসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ১৬তম পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এসব বর্জ্য অপসারণ করেছে বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিম।

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা এ অভিযানে স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৬ টনের অধিক বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণ করা হয়। উদ্ধারকৃত বর্জ্যের মধ্যে ছিল পচনশীল ও অপচনশীল নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক, পলিথিন, কাপড়, গৃহস্থালি বর্জ্যসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হাজারো উপাদান। পরবর্তীতে এসব বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ ও নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৯নং ওয়ার্ড, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, বিডি ক্লিনের সদস্যরা লোক দেখানোর জন্য এখানে আসেননি। এই ময়লা-আবর্জনা আমরা নিজেরাই প্রতিদিন যত্রতত্র ফেলি বলেই পরিবেশের এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। যদি আমরা সবাই নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলি, তাহলে আমাদের পরিবেশ কখনোই এভাবে নোংরা হবে না। বিডি ক্লিন আজ পরিষ্কার করে যাবে, কিন্তু আগামীকাল যদি আমরা আবারও একইভাবে ময়লা ফেলি, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। তাই সচেতনতা আমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই গড়ে তুলতে হবে। নিজের গ্রাম, নিজের বাড়ি, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা আমাদের সবার দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে—এই দেশ, এই গ্রাম আমাদের সবার।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুতুপালং বাজার কমিটির সদস্য ইমরান আইকন। তিনি বলেন, “বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিম আজ এই স্থানটি পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছে। এখন এই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে এমন উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।” তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং কুতুপালং বাজার কমিটির পক্ষ থেকে বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এ সময় বিডি ক্লিন কক্সবাজার জেলা টিমের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ সৈয়দ করিম উপস্থিত থেকে পুরো পরিচ্ছন্নতা অভিযান পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বাজার কমিটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং এলাকার সচেতন নাগরিকেরা উপস্থিত থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের উৎসাহ প্রদান করেন।

বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিমের নেতৃবৃন্দ জানান, পরিচ্ছন্নতা কেবল একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি একটি চলমান সামাজিক আন্দোলন। পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং উখিয়ার জনসাধারণ একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু

কুতুপালংয়ে ৬ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ

আপডেট সময় : ০৯:২৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

উখিয়া উপজেলার কুতুপালং কবরস্থানের সামনের সড়কসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ১৬তম পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এসব বর্জ্য অপসারণ করেছে বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিম।

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা এ অভিযানে স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৬ টনের অধিক বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণ করা হয়। উদ্ধারকৃত বর্জ্যের মধ্যে ছিল পচনশীল ও অপচনশীল নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক, পলিথিন, কাপড়, গৃহস্থালি বর্জ্যসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হাজারো উপাদান। পরবর্তীতে এসব বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ ও নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৯নং ওয়ার্ড, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, বিডি ক্লিনের সদস্যরা লোক দেখানোর জন্য এখানে আসেননি। এই ময়লা-আবর্জনা আমরা নিজেরাই প্রতিদিন যত্রতত্র ফেলি বলেই পরিবেশের এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। যদি আমরা সবাই নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলি, তাহলে আমাদের পরিবেশ কখনোই এভাবে নোংরা হবে না। বিডি ক্লিন আজ পরিষ্কার করে যাবে, কিন্তু আগামীকাল যদি আমরা আবারও একইভাবে ময়লা ফেলি, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। তাই সচেতনতা আমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই গড়ে তুলতে হবে। নিজের গ্রাম, নিজের বাড়ি, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা আমাদের সবার দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে—এই দেশ, এই গ্রাম আমাদের সবার।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুতুপালং বাজার কমিটির সদস্য ইমরান আইকন। তিনি বলেন, “বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিম আজ এই স্থানটি পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছে। এখন এই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে এমন উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।” তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং কুতুপালং বাজার কমিটির পক্ষ থেকে বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এ সময় বিডি ক্লিন কক্সবাজার জেলা টিমের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ সৈয়দ করিম উপস্থিত থেকে পুরো পরিচ্ছন্নতা অভিযান পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বাজার কমিটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং এলাকার সচেতন নাগরিকেরা উপস্থিত থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের উৎসাহ প্রদান করেন।

বিডি ক্লিন উখিয়া উপজেলা টিমের নেতৃবৃন্দ জানান, পরিচ্ছন্নতা কেবল একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি একটি চলমান সামাজিক আন্দোলন। পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং উখিয়ার জনসাধারণ একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।