ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ গ্রেফতার ৪ সেন্টমার্টিনে রাতে থাকা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত লোহাগাড়ায় দুধ দিয়ে গোসল করে ফারুকের জামায়াত ছাড়ার ঘোষণা অনলাইন জুয়ায় বাধা, স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ : বিচ্ছেদ চাওয়ায় হুমকি পেকুয়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. কামাল হোসেন রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডালিমের মায়ের মৃত্যু : জানাজা বাদ এশা রামুতে স্কুলছাত্রী নিহতের ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়দের বিক্ষোভ ইনানীতে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের আগুন জ্বলতে পারে আরও ৭ দিন ‘ইনজেকশন নিয়ে খেলেছি’, বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে রোমেরো বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলের সাড়ে ৪ লাখ সিগারেট জব্দ অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে স্বপ্নের সমাপ্তি হতে পারে কয়েক সেকেন্ডে, আবার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে লেগে যেতে পারে বছরের পর বছর কক্সবাজারে পর্যটন শিল্প ধ্বংসের পায়তারা চলছে – এমপি কাজল : উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবি তাঁর ইনানীর আগুন নিয়ে বাপেক্স প্রতিনিধি দলের সতর্কবার্তা—জোর করে নেভালে ঘটতে পারে বড় বিপর্যয়

বন্যায় কক্সবাজার সহ চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে ৩৬ জনের প্রাণহানি

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য জেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গত পাঁচ দিনে শুধু বৃহত্তর চট্টগ্রামেই পাহাড়ধস, দেয়াল ধসে এবং পানিতে ডুবে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জনই রোহিঙ্গা। নিহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৫ জন, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ৫ জন, বান্দরবানে ৫ জন এবং রাঙামাটিতে ১ জন রয়েছেন। এছাড়া বোয়ালখালী ও সাতকানিয়ায় দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে সারা দেশে আরও দু-এক দিন ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

চট্টগ্রাম ও সাতকানিয়া: বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে কেবল সাতকানিয়া উপজেলারই ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, যেখানে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ জলমগ্ন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়াহ, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত। রেলপথে পানি ওঠায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল এবং সড়ক ডুবে যাওয়ায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

বান্দরবান (লামা): লামার আজিজনগরে বৃহস্পতিবার ভোরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই পরিবারের শিশুসহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে লামা পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার (চকরিয়া): চকরিয়ার বরইতলীতে পাহাড়ধসে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীসহ চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢলের পানিতে ডুবে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় প্রায় ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি।

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি: কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধিতে বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল ও সাজেকের সড়ক প্লাবিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে পানি ওঠায় আটকে পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর বিশেষ সহায়তায় ১৫০ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মাইনী নদীর পানি বাড়ায় দীঘিনালার বেশ কয়েকটি সড়ক তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

সিলেট ও অন্যান্য জেলা: ভারতের মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসে সিলেটের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০-৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

খুলনা: ভারি বর্ষণে খুলনা মহানগরীর নিরালা, টুটপাড়াসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবেলায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেছেন। জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে ৮ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ত্রাণ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার কাজের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোটের চাহিদা জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ গ্রেফতার ৪

বন্যায় কক্সবাজার সহ চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে ৩৬ জনের প্রাণহানি

আপডেট সময় : ১২:৫৪:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য জেলাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গত পাঁচ দিনে শুধু বৃহত্তর চট্টগ্রামেই পাহাড়ধস, দেয়াল ধসে এবং পানিতে ডুবে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জনই রোহিঙ্গা। নিহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৫ জন, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ৫ জন, বান্দরবানে ৫ জন এবং রাঙামাটিতে ১ জন রয়েছেন। এছাড়া বোয়ালখালী ও সাতকানিয়ায় দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপের প্রভাবে সারা দেশে আরও দু-এক দিন ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

চট্টগ্রাম ও সাতকানিয়া: বৃহত্তর চট্টগ্রামে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে কেবল সাতকানিয়া উপজেলারই ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, যেখানে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ জলমগ্ন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়াহ, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত। রেলপথে পানি ওঠায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল এবং সড়ক ডুবে যাওয়ায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

বান্দরবান (লামা): লামার আজিজনগরে বৃহস্পতিবার ভোরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই পরিবারের শিশুসহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে লামা পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার (চকরিয়া): চকরিয়ার বরইতলীতে পাহাড়ধসে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীসহ চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢলের পানিতে ডুবে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় প্রায় ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি।

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি: কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধিতে বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল ও সাজেকের সড়ক প্লাবিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে পানি ওঠায় আটকে পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর বিশেষ সহায়তায় ১৫০ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মাইনী নদীর পানি বাড়ায় দীঘিনালার বেশ কয়েকটি সড়ক তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

সিলেট ও অন্যান্য জেলা: ভারতের মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসে সিলেটের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০-৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

খুলনা: ভারি বর্ষণে খুলনা মহানগরীর নিরালা, টুটপাড়াসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবেলায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেছেন। জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে ৮ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ত্রাণ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার কাজের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোটের চাহিদা জানানো হয়েছে।