ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে বিদেশি নারী পর্যটককে ধ/র্ষ/ণ চেষ্টা : তিনজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড পেকুয়ায় পাহাড় ধসে এক শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ​কক্সবাজারের ২০ এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ কুতুবদিয়ায় লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সংযোগ সেতু ধসে পড়েছে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও ৩৬৭ কোটি টাকা পাচ্ছে ব্রাজিল ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাগরে নিম্নচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন দিবস আজ ভারীবর্ষণে পাহাড়ধস – একরাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহত ৮,শহরে ১ জনের মৃত্যু গেলো ২৪ ঘন্টায় ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি : বাড়ছে পাহাড় ধসের ঝুঁকি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড(পশ্চিম) শাখা যুবদলের সভাপতি মিজান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ‎ ওয়াটার সেইফটি এন্ড ড্রাউনিং প্রিভেনশন: জেসিআই কক্সবাজারের ‘বে গার্ডিয়ানস ইনিশিয়েটিভ’র উদ্বোধন অপহরণের এক সপ্তাহ পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণে ফিরলেন বাহারছড়ার পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিন

​কক্সবাজারের ২০ এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৫:০৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • 130

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারে টানা ও অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৭৭ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ি ঢাল ও পাদদেশে নতুন করে ভয়াবহ পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ অন্তত ২০টি পয়েন্ট এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

​এরই মধ্যে গতকাল রোববার দিবাগত রাত থেকে আজ সোমবার ভোরের মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পৃথক ৪টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন।

​সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, পাহাড়ধসের এই মারাত্মক ঝুঁকিতে এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন কক্সবাজারের ১ লাখেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের খাড়া পাহাড়ের ঢালে প্রায় ৮০ হাজার শরণার্থী অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছেন।

অন্যদিকে, কক্সবাজার পৌরসভা, সদর, রামু, চকরিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাসিন্দা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন, যাদের জীবন এই মুহূর্তে চরম হুমকির মুখে।

​আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী আরও দুই দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীর ৭, ১১ ও ১২ নম্বর ক্যাম্প, পালংখালীর ১৫ নম্বর ক্যাম্প এবং টেকনাফের উনচিপড়া ও লেদা ক্যাম্পের খাড়া পাহাড়ের পাদদেশে থাকা অস্থায়ী বসতিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যেখানে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বিপজ্জনকভাবে বসবাস করছেন।

​এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভা ও সদরের লাইট হাউস পাড়া, সার্কিট হাউস পাহাড়ের পাদদেশ, লিংকরোড, মুহুরীপাড়া, কলাতলী আদর্শ গ্রাম, বৈদ্যঘোনা এবং ঘোনাপাড়া এলাকা তীব্র ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।

​এর পাশাপাশি টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের কানজরপাড়া ও লম্বাবিল, হ্নীলা, টেকনাফ পৌরসভার পল্লান পাড়া, নাইট্যংপাড়া, বাহারছড়ার শাপলাপুর এলাকা এবং রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও চকরিয়ার ডুলাহাজারা বনাঞ্চল সংলগ্ন পাহাড়ি ঢালগুলোকেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

​কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাশেম বলেন, রাতে যখন বৃষ্টি বাড়ে, তখন আমাদের চোখের ঘুম হারাম হয়ে যায়, চোখের সামনে আলী আকবরের ঘরের ওপর পাহাড়ের অংশ ধসে পড়ল। আমরা দ্রুত গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও আকবর ভাইকে বাঁচানো যায়নি। আমরা গরিব মানুষ, যাব কোথায়? বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে পড়ে আছি।

​একইভাবে উখিয়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা এনায়েত উল্লাহ জানান, ক্যাম্পের ঘরগুলো তৈরি হয়েছে পাহাড় কেটে। ভারী বৃষ্টি হলে মাটি ধুয়ে নিচে পড়ে। গত রাতে চোখের পলকে দুই পরিবার শেষ হয়ে গেল। আমরা এখন সবাইকে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে বলছি, কিন্তু এত বিপুল মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার মতো নিরাপদ জায়গা ক্যাম্পে কম।

​উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পন্না আক্তার বলেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আমরা গতকাল থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে বা স্কুলগুলোতে চলে যাওয়ার জন্য নিয়মিত মাইকিং করছি। যারা স্বেচ্ছায় যাচ্ছেন না, তাদের সরিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ে টিম কাজ করছে।

​কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, শহরে পাহাড়ধসে একজনের মৃত্যুর পর আমরা পুরো ছাত্তার ঘোনা ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি বাড়াচ্ছি। বিপদ এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধার কাজের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে বিদেশি নারী পর্যটককে ধ/র্ষ/ণ চেষ্টা : তিনজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড

​কক্সবাজারের ২০ এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ

আপডেট সময় : ০৫:০৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারে টানা ও অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৭৭ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ি ঢাল ও পাদদেশে নতুন করে ভয়াবহ পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ অন্তত ২০টি পয়েন্ট এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

​এরই মধ্যে গতকাল রোববার দিবাগত রাত থেকে আজ সোমবার ভোরের মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পৃথক ৪টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন।

​সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, পাহাড়ধসের এই মারাত্মক ঝুঁকিতে এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন কক্সবাজারের ১ লাখেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের খাড়া পাহাড়ের ঢালে প্রায় ৮০ হাজার শরণার্থী অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছেন।

অন্যদিকে, কক্সবাজার পৌরসভা, সদর, রামু, চকরিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাসিন্দা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন, যাদের জীবন এই মুহূর্তে চরম হুমকির মুখে।

​আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী আরও দুই দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীর ৭, ১১ ও ১২ নম্বর ক্যাম্প, পালংখালীর ১৫ নম্বর ক্যাম্প এবং টেকনাফের উনচিপড়া ও লেদা ক্যাম্পের খাড়া পাহাড়ের পাদদেশে থাকা অস্থায়ী বসতিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যেখানে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বিপজ্জনকভাবে বসবাস করছেন।

​এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভা ও সদরের লাইট হাউস পাড়া, সার্কিট হাউস পাহাড়ের পাদদেশ, লিংকরোড, মুহুরীপাড়া, কলাতলী আদর্শ গ্রাম, বৈদ্যঘোনা এবং ঘোনাপাড়া এলাকা তীব্র ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।

​এর পাশাপাশি টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের কানজরপাড়া ও লম্বাবিল, হ্নীলা, টেকনাফ পৌরসভার পল্লান পাড়া, নাইট্যংপাড়া, বাহারছড়ার শাপলাপুর এলাকা এবং রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও চকরিয়ার ডুলাহাজারা বনাঞ্চল সংলগ্ন পাহাড়ি ঢালগুলোকেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

​কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাশেম বলেন, রাতে যখন বৃষ্টি বাড়ে, তখন আমাদের চোখের ঘুম হারাম হয়ে যায়, চোখের সামনে আলী আকবরের ঘরের ওপর পাহাড়ের অংশ ধসে পড়ল। আমরা দ্রুত গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও আকবর ভাইকে বাঁচানো যায়নি। আমরা গরিব মানুষ, যাব কোথায়? বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে পড়ে আছি।

​একইভাবে উখিয়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা এনায়েত উল্লাহ জানান, ক্যাম্পের ঘরগুলো তৈরি হয়েছে পাহাড় কেটে। ভারী বৃষ্টি হলে মাটি ধুয়ে নিচে পড়ে। গত রাতে চোখের পলকে দুই পরিবার শেষ হয়ে গেল। আমরা এখন সবাইকে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে বলছি, কিন্তু এত বিপুল মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার মতো নিরাপদ জায়গা ক্যাম্পে কম।

​উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পন্না আক্তার বলেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আমরা গতকাল থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে বা স্কুলগুলোতে চলে যাওয়ার জন্য নিয়মিত মাইকিং করছি। যারা স্বেচ্ছায় যাচ্ছেন না, তাদের সরিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ে টিম কাজ করছে।

​কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, শহরে পাহাড়ধসে একজনের মৃত্যুর পর আমরা পুরো ছাত্তার ঘোনা ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি বাড়াচ্ছি। বিপদ এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধার কাজের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।