কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আওতাধীন ৮টি সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিমুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ আনোয়ারের যৌথ সিদ্ধান্তে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার শহর ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন শহর ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রহিম উল্লাহ খান রানা। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা তাকে তৃণমূলের একটি অংশের কাছে শক্তিশালী দাবিদারে পরিণত করেছে।
রানা ছাত্ররাজনীতির সূচনা করেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের মাধ্যমে। পরে কক্সবাজারে এসে ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, কক্সবাজার সিটি কলেজ ছাত্রদলের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি, কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং শহর ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জেলা ছাত্রদলের ২০২১ সালে (দায়িত্ব প্রাপ্ত) দপ্তর সম্পাকের দায়িত্বও পালন করেছেন।
রহিম উল্লাহ খান রানা বলেন, “দুর্দিনে যারা খেয়ে-না-খেয়ে ছাত্রদল করেছে, তাদের নিয়েই শহর ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত ছাত্রদের সম্পৃক্ত করে জ্ঞানভিত্তিক ও আদর্শিক ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠাই হবে আমার লক্ষ্য। সুযোগ পেলে শহর ছাত্রদলকে জেলার সেরা সাংগঠনিক ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলামও। তিনি শহর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের পরপর দুই কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ত্যাগী ও আদর্শিক ছাত্রদের নিয়েই শহর ছাত্রদলকে সাজাতে চাই।”
একই পদে সম্ভাব্য প্রার্থী মোস্তফা কামাল রিফাত। তিনি শহর ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে কারাভোগও করেছেন। রিফাত বলেন, “নেতৃত্বের সুযোগ পেলে শহরের ১২টি ওয়ার্ডের ২৩টি ইউনিটকে সাংগঠনিকভাবে ঢেলে সাজিয়ে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মূল্যায়ন করবো।”
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদেও একাধিক তরুণ ছাত্রনেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মো. ইমরান বিন আলী সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী। তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, পশ্চিম শাখা ইউনিটের সভাপতি এবং সিটি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা, মামলা-হামলার শিকার এবং নিয়মিত ছাত্রদের নিয়েই শহর ছাত্রদলকে এগিয়ে নিতে চাই।”
একই পদে প্রার্থী হয়েছেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইরফাত সুলতান ইমন। তিনি ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া শহর ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইমন বলেন, “শিক্ষার্থীবান্ধব ও কর্মীবান্ধব ছাত্ররাজনীতির অঙ্গীকার করছি। শহর ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মীর সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই।”
আলোচনায় রয়েছেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ উদ্দিন ইমরানও। তিনি বর্তমানে ২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং সিটি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগেই যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করে এমন একটি শহর ছাত্রদল গঠন করতে চাই, যাদের দেখে মানুষ গর্ব করবে।”
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন শহর ছাত্রদল নেতা বিজয় দাশ, ১২ নং ওয়ার্ড দক্ষিন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাইহান উদ্দিন ও ২ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি তাহসিন রেজা।
অন্যদিকে শহর ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটির সদস্য সচিব ইনজামামুল হক-এর নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে। তিনি এর আগে জেলা ছাত্রদলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জেলা ছাত্রদলের সম্পাদক পদেও আলোচনায় ছিলেন। তবে এবার শহর ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি এবং এ বিষয়ে মন্তব্যও করেননি।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটিতে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, পরীক্ষিত, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। তাদের বিশ্বাস, যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে কক্সবাজার শহর ছাত্রদল আবারও জেলার অন্যতম শক্তিশালী ও গতিশীল সাংগঠনিক ইউনিট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক 



















