ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ৩ দিনের সফরে আসছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ​টেকনাফে দুদকের দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা সম্পন্ন, চ্যাম্পিয়ন বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল গর্জনিয়ার পোয়াংগেরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি : সভাপতি জিল্লু চৌধুরী ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে মারা গেলেন রিকশাচালক মোহাম্মদ রফিক ২৮ জুন জেলায় ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৫ জন শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল নাইক্ষ্যংছড়ির গহিন জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কক্সবাজারে বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের প্রতিরোধ মিছিল এসএসসির ফল প্রকাশ ২০ জুলাই: শিক্ষামন্ত্রী টেকনাফে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, আহত ৪ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেবে আদালত: তথ্য উপদেষ্টা অস্ট্রিয়াকে হারানোর পর বড় দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা রাজপথে রাজনৈতিক দল, সতর্কবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মারাকানা’র বেদনা থেকে ডালাসের মহাকাব্য: পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ফ্যানবেজ আর্জেন্টিনা পেকুয়ায় চলছে বন উজাড় করে গাছ পাচারের মহোৎসব অবশেষে এলেন মা, গ্যালারিতে বসে দেখলেন ছেলে ভোজিনহার ম্যাচ

ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে মারা গেলেন রিকশাচালক মোহাম্মদ রফিক

বিশ্ব বাবা দিবসে পাঁচ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়েছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের পশ্চিম কুলিয়াপাড়ার বাসিন্দা ও পেশায় রিকশাচালক মোহাম্মদ রফিক। সেই আকুতির মাত্র কয়েকদিন পরই নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ।

দীর্ঘ আট মাস ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন রফিক। দারিদ্র্য, চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ এবং শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বেঁচে থাকার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয়েছে তাকে। সোমবার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর মেয়ে পায়েল আক্তার জানান, দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভোগার পর সোমবার তাদের বাবা মারা গেছেন। চিকিৎসার জন্য পরিবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি বাবার রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

মৃত্যুকালে রফিক স্ত্রী, পাঁচ সন্তান, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তার পরিবার।

বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল রফিকের বেঁচে থাকার আকুতি। তখন তিনি বলেছিলেন, নিজের জন্য নয়, পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আরও কিছুদিন বাঁচতে চান। অসুস্থ শরীর নিয়েও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছিলেন তিনি।

রফিকের জীবনসংগ্রামের গল্প প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই তার চিকিৎসার জন্য সহায়তার আহ্বান জানান এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু সময়ের নির্মম বাস্তবতায় থেমে গেল তার জীবনযুদ্ধ।

স্থানীয়রা জানান, রফিক ছিলেন একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। রিকশা চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছিল। এখন তার মৃত্যুতে স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রফিকের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা তার পরিবারের জন্য সরকারি-বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একজন অসহায় বাবার মৃত্যু হলেও তার রেখে যাওয়া সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সমাজ ও রাষ্ট্রের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে ৩ দিনের সফরে আসছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে মারা গেলেন রিকশাচালক মোহাম্মদ রফিক

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বিশ্ব বাবা দিবসে পাঁচ সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়েছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের পশ্চিম কুলিয়াপাড়ার বাসিন্দা ও পেশায় রিকশাচালক মোহাম্মদ রফিক। সেই আকুতির মাত্র কয়েকদিন পরই নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ।

দীর্ঘ আট মাস ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন রফিক। দারিদ্র্য, চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ এবং শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বেঁচে থাকার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয়েছে তাকে। সোমবার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর মেয়ে পায়েল আক্তার জানান, দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভোগার পর সোমবার তাদের বাবা মারা গেছেন। চিকিৎসার জন্য পরিবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি বাবার রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

মৃত্যুকালে রফিক স্ত্রী, পাঁচ সন্তান, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তার পরিবার।

বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল রফিকের বেঁচে থাকার আকুতি। তখন তিনি বলেছিলেন, নিজের জন্য নয়, পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আরও কিছুদিন বাঁচতে চান। অসুস্থ শরীর নিয়েও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছিলেন তিনি।

রফিকের জীবনসংগ্রামের গল্প প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই তার চিকিৎসার জন্য সহায়তার আহ্বান জানান এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু সময়ের নির্মম বাস্তবতায় থেমে গেল তার জীবনযুদ্ধ।

স্থানীয়রা জানান, রফিক ছিলেন একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। রিকশা চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছিল। এখন তার মৃত্যুতে স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রফিকের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা তার পরিবারের জন্য সরকারি-বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একজন অসহায় বাবার মৃত্যু হলেও তার রেখে যাওয়া সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সমাজ ও রাষ্ট্রের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।