ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
“জনগণ কে সাথে নিয়ে দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে” কক্সবাজারে এইচআইভি আক্রান্তদের ৯৩ শতাংশই রোহিঙ্গা, বাড়ছে উদ্বেগ “মিয়ানমারে সেফজোন করা হলে আমরা ফিরে যাবো”: রোহিঙ্গা নেতা জুবায়ের কক্সবাজার কলেজের শিক্ষার্থীদের সমুদ্র বিষয়ক জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচী ও শিক্ষামূলক সফর রশিতে ঝুলছিলো গৃহবধুর মরদেহ, পরিবারের দাবী পরিকল্পিত হত্যা ​‘ঘরে বসে খেলা বিশ্বের প্রথম ফুটবলার নেইমার’, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননা ও মন্দির ভাঙার হুমকির প্রতিবাদে কক্সবাজারে মানববন্ধন ধানের শীষের পক্ষে ভোট করায় রেমিটেন্স যোদ্ধাকে সাজানো হয়েছে মাদক ছিনতাইকারী – প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যায় কবির আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবস আজ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জমির হোসেন গ্রেফতার স্বামীকে ছাড়াতে পুলিশের ওপর হামলা, স্ত্রী গ্রেপ্তার ‘তরুণ বন্ধুদের দ্বারা গঠিত এনসিপির কিছু সাংগঠনিক কার্যক্রম মদের বারে হচ্ছে’ শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরতে পারেন নেইমার, ব্রাজিলের ‘নাম্বার টেন’ সংকটে নতুন আশা উখিয়ায় আড়াই বছরের শিশু ‘নো সাইফা’ নিখোঁজ, সন্ধানে পরিবারের আর্তনাদ

“মিয়ানমারে সেফজোন করা হলে আমরা ফিরে যাবো”: রোহিঙ্গা নেতা জুবায়ের

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আবারও নিজ দেশে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত লাখো রোহিঙ্গার মধ্যে হতাশা, অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. জুবায়ের বলেন, “আমরা বাংলাদেশের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমরা আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরতে চাই। কিন্তু সেখানে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি।”

তিনি বলেন, বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ নেই। “রাখাইনে এখনও ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে। আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন পক্ষের সংঘাতে সাধারণ রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,” দাবি করেন তিনি।

জুবায়েরের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে (রেসপন্সিবিলিটি টু প্রোটেক) নিরাপদ অঞ্চল বা ‘সেফজোন’ প্রতিষ্ঠা করা গেলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবসম্মতভাবে শুরু করা সম্ভব। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত না করে কোনো প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না।”

এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে জনসংখ্যার চাপ ক্রমাগত বাড়ছে এবং তাদের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীগুলোর একটির বসবাস। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার মুখে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী বছরগুলোতেও নতুন করে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৩ সাল থেকে গত আড়াই বছরে আরও ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান একটাই, আর তা হলো আন্তর্জাতিক গ্যারান্টির মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত না হলেও প্রীতি ফুটবলম্যাচের আযোজন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

“জনগণ কে সাথে নিয়ে দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে”

“মিয়ানমারে সেফজোন করা হলে আমরা ফিরে যাবো”: রোহিঙ্গা নেতা জুবায়ের

আপডেট সময় : ০৭:৩০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আবারও নিজ দেশে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত লাখো রোহিঙ্গার মধ্যে হতাশা, অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. জুবায়ের বলেন, “আমরা বাংলাদেশের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমরা আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরতে চাই। কিন্তু সেখানে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি।”

তিনি বলেন, বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ নেই। “রাখাইনে এখনও ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে। আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন পক্ষের সংঘাতে সাধারণ রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,” দাবি করেন তিনি।

জুবায়েরের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে (রেসপন্সিবিলিটি টু প্রোটেক) নিরাপদ অঞ্চল বা ‘সেফজোন’ প্রতিষ্ঠা করা গেলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবসম্মতভাবে শুরু করা সম্ভব। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত না করে কোনো প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না।”

এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে জনসংখ্যার চাপ ক্রমাগত বাড়ছে এবং তাদের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীগুলোর একটির বসবাস। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার মুখে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী বছরগুলোতেও নতুন করে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৩ সাল থেকে গত আড়াই বছরে আরও ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান একটাই, আর তা হলো আন্তর্জাতিক গ্যারান্টির মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত না হলেও প্রীতি ফুটবলম্যাচের আযোজন রয়েছে বলে জানা গেছে।