ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ২ পার্বত্য মন্ত্রী সা চিং প্রু জেরীর সাথে রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত লোহাগাড়ার চরম্বায় বেশি দামে সার বিক্রি, ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা কক্সবাজার পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি’র আত্মপ্রকাশ, সোমবার মানববন্ধন অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টাইগারদের সমীহ জাগানিয়া অর্জন.. জামিনে মুক্তি পেলেন টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ টোল ইজারার কাগজে টেম্পারিংয়ের অভিযোগ, অতিরিক্ত টোল আদায়ে বিপাকে তিন ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা সমিতিপাড়ার সুকান্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি আরাফাত গ্রেফতার কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ : যাত্রী আহত বালিয়াড়ীতে সড়ক নির্মান বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাপার স্মারকলিপি চকরিয়ায় মিষ্টিতে “তেলাপোকা”, নানা অসংগতি : ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা অক্টোবরের মধ্যে চালু হবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: বিমানমন্ত্রী মিয়ানমারে বৌদ্ধ বিহারে বিমান হামলায় নিহত ১৪ রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, পেশাগত যোগ্যতা হবে পদোন্নতির মানদণ্ড: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

“মিয়ানমারে সেফজোন করা হলে আমরা ফিরে যাবো”: রোহিঙ্গা নেতা জুবায়ের

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আবারও নিজ দেশে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত লাখো রোহিঙ্গার মধ্যে হতাশা, অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. জুবায়ের বলেন, “আমরা বাংলাদেশের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমরা আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরতে চাই। কিন্তু সেখানে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি।”

তিনি বলেন, বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ নেই। “রাখাইনে এখনও ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে। আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন পক্ষের সংঘাতে সাধারণ রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,” দাবি করেন তিনি।

জুবায়েরের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে (রেসপন্সিবিলিটি টু প্রোটেক) নিরাপদ অঞ্চল বা ‘সেফজোন’ প্রতিষ্ঠা করা গেলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবসম্মতভাবে শুরু করা সম্ভব। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত না করে কোনো প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না।”

এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে জনসংখ্যার চাপ ক্রমাগত বাড়ছে এবং তাদের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীগুলোর একটির বসবাস। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার মুখে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী বছরগুলোতেও নতুন করে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৩ সাল থেকে গত আড়াই বছরে আরও ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান একটাই, আর তা হলো আন্তর্জাতিক গ্যারান্টির মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত না হলেও প্রীতি ফুটবলম্যাচের আযোজন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ২

“মিয়ানমারে সেফজোন করা হলে আমরা ফিরে যাবো”: রোহিঙ্গা নেতা জুবায়ের

আপডেট সময় : ০৭:৩০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আবারও নিজ দেশে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত লাখো রোহিঙ্গার মধ্যে হতাশা, অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. জুবায়ের বলেন, “আমরা বাংলাদেশের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমরা আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরতে চাই। কিন্তু সেখানে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি।”

তিনি বলেন, বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ নেই। “রাখাইনে এখনও ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে। আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন পক্ষের সংঘাতে সাধারণ রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,” দাবি করেন তিনি।

জুবায়েরের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে (রেসপন্সিবিলিটি টু প্রোটেক) নিরাপদ অঞ্চল বা ‘সেফজোন’ প্রতিষ্ঠা করা গেলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবসম্মতভাবে শুরু করা সম্ভব। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত না করে কোনো প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না।”

এদিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরগুলোতে প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে জনসংখ্যার চাপ ক্রমাগত বাড়ছে এবং তাদের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীগুলোর একটির বসবাস। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার মুখে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী বছরগুলোতেও নতুন করে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৩ সাল থেকে গত আড়াই বছরে আরও ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। তবে সংকটের স্থায়ী সমাধান একটাই, আর তা হলো আন্তর্জাতিক গ্যারান্টির মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত না হলেও প্রীতি ফুটবলম্যাচের আযোজন রয়েছে বলে জানা গেছে।