চোট কাটিয়ে ব্রাজিল দলে ফেরার অপেক্ষায় নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁকে পাওয়া যেতে পারে—এমন খবরের পর সেলেসাও সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল এখন এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে, যখন দলের আক্রমণভাগে গতি থাকলেও মাঝমাঠে সৃজনশীলতার অভাব স্পষ্ট। হাইতির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয় ফলাফলের দিক থেকে স্বস্তি দিলেও মাঠের খেলায় ব্রাজিলের ছন্দ, সংযোগ ও ক্রিয়েটিভিটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। বিশেষ করে বড় ম্যাচের আগে একজন প্রকৃত ‘নাম্বার টেন’-এর প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
এই জায়গাতেই নেইমারের সম্ভাব্য ফেরা ব্রাজিলের জন্য বড় খবর। দীর্ঘদিন চোট, ফিটনেস ও ছন্দহীনতার কারণে আলোচনার বাইরে থাকলেও নেইমারের পাসিং রেঞ্জ, বল ধরে খেলা, ফাইনাল থার্ডে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং বিগ মোমেন্টে ম্যাচ বদলে দেওয়ার অভিজ্ঞতা এখনো ব্রাজিলের জন্য মূল্যবান হতে পারে।
রাফিনিয়াকে অনেক সময় ব্রাজিলের আক্রমণ ও মাঝমাঠের মাঝামাঝি জায়গায় ব্যবহার করা যায়। বার্সেলোনায়ও তিনি এমন ভূমিকায় কার্যকর হয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক চোটের কারণে তাঁকে নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচেও রাফিনিয়ার চোট ব্রাজিল শিবিরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে লুকাস পাকেতা ব্রাজিলের ডিফল্ট অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ছোট ম্যাচে ভালো করলেও বড় দলের বিপক্ষে চাপের মুহূর্তে নিজের প্রভাব ধরে রাখতে তিনি সবসময় সফল হননি। তাই স্কটল্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নেইমারের ফেরা ব্রাজিলের আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তবে নেইমারকে ঘিরে সংশয়ও কম নয়। তাঁর বর্তমান ফিটনেস, প্রেসিং করার সক্ষমতা, ড্রিবলিংয়ে বল হারানোর ঝুঁকি—এসব নিয়ে সমর্থকদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ আছে। এই জায়গায় কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলই হতে পারে মূল চাবিকাঠি। প্রয়োজনে নেইমারকে স্বাধীনতা দিয়ে তাঁর পেছনে দুইজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রাখা হতে পারে, যাতে তাঁর সৃজনশীলতা কাজে লাগানো যায় এবং একই সঙ্গে দলের ভারসাম্যও নষ্ট না হয়।
ব্রাজিলের ইতিহাসে ‘নাম্বার টেন’ শুধু একটি পজিশন নয়, এটি সৌন্দর্য, কল্পনা ও ম্যাচ বদলে দেওয়ার প্রতীক। সেই জায়গায় নেইমার এখনো ব্রাজিলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও স্বাভাবিক পছন্দ। তিনি হয়তো আগের মতো তরুণ, দ্রুতগামী বা শতভাগ ফিট নন; কিন্তু বড় মঞ্চে তাঁর অভিজ্ঞতা, ফ্লেয়ার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ব্রাজিলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধু গ্রুপ পর্বের আরেকটি লড়াই নয়; এটি হতে পারে নেইমারের বিশ্বকাপে নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ। আর ব্রাজিলের জন্য—সৃজনশীলতার সংকটে বহুদিন পর সত্যিকারের ‘নাম্বার টেন’ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা।
সায়ন্তন ভট্টাচার্য : 
























